ঠাকুরগাঁওয়ে স্বাস্থ্য বিভাগে প্রতারনা, নেই কার্যকর উদ্যোগ

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ে চিকিৎসার নামে প্রতারনা করেও পাড় পেয়ে যাচ্ছে কতিপয় নামধারী ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারের মালিক। সম্প্র্রতি জনসেবা ক্লিনিকের মালিক কৃষ্ণ চন্দ্র রায় চিকিৎসার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেও নেই কোন স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগ।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায় জনসেবা ক্লিনিক এবং ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রতারনার অভিযোগ এনে ব্রেকিংনিউজয়ে সংবাদ প্রকাশের পর জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মাহফুজার রহমান সরকার ওই ক্লিনিক পরিদর্শনে গিয়ে এর সত্যতা পান বলে জানান। পরে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনিয় কাগজপত্র দাখিলের নির্দেশ দেন। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সময় চেয়ে আবেদন করেন। কিন্তু পরবর্তীতে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য বিভাগের এই কর্মকর্তার লিখিত পত্রের জবাব এবং প্রয়োজনিয় কাগজপত্র দাখিল না করেই প্রতারনা অব্যাহত রেখেছে।
ঠাকুরগাঁও জেলা শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের কিসামত তেওয়ারীগাঁও মুন্সিপাড়া নামক এলাকায় পাকা সড়কের পাশে গ্রাম এলাকায় গড়ে উঠেছে “জনসেবা ক্লিনিক ও ডায়াগনিস্টক সেন্টার”। কথিত এই ক্লিনিকের নেই সরকারি অনুমোদন বা লাইসেন্স, নিজস্ব ভবন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, সার্বক্ষনিক চিকিৎসক, নার্সসহ প্রয়োজনিয় সরঞ্জাম। তারপরেও স্বাস্থ্য বিভাগকে বদ্ধাআঙ্গুলি দেখিয়ে গ্রামের সহজ সরল মানুষকে ঠকিয়ে চিকিৎসার নামে প্রতারনা করছে।
প্রতারনার শিকার রোগীর স্বজন মনোরঞ্জন রায় বলেন স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমোদন ছাড়াই এই সকল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার কিভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বিষয়টি আমার বোধগম্য নয়। একটি সূত্র বলছে সরকার দলীয় এক প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় এই সকল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানায়।
গড়েয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বেলাল হোসেন বলেন জনসেবা ক্লিনিকের মালিক একের পর এক ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগের কোন ভ্রæক্ষেপই নেই। গড়েয়া চোংগাখাতা গ্রামের সাজেদুর রহমান বলেন এই ক্লিনিকের মালিক একজন অসৎ প্রকৃতির মানুষ। তার নামে একাধিক নারী কেলেঙ্ককারির অভিযোগ আছে। কিছুদিন আগে গড়েয়া বাড়ইপড়া (বিলপাড়া) এলাকার এক নারীর স্মামী রঞ্জিত কুমার তার বিরুদ্ধে অপকর্মের অভিযোগ তুলেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে স্থানীয় ভাবে মিমাংসা হয়।
ইউপি সদস্য মলিন চন্দ্র বলেন ক্লিনিক মালিক কৃষ্ণ চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির বিষয়টি জানি এবং বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বসাও হয়েছিল। কিসামত তেওয়ারীগাঁও গ্রামের এমদাদুল হক বলেন এতো কিছুর পরও ওই ক্লিনিকের মালিক গড়েয়া মাদ্রাসা মোড়ে আরেকটি শাখা খুলে কিভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে।
জনসেবা ক্লিনিক এবং ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারের মালিক কৃষ্ণ চন্দ্র রায়কে স্বাস্থ্য বিভাগের চিঠি বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন আমাকে চিঠি দিয়েছিল, আমি তার উত্তরও দিয়েছি। নারী কেলেঙ্ককারির বিষয়টি সঠিক নয় বলে জানান।
ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা. মাহফুজার রহমান সরকারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন মিটিংয়ে আছি, বিষয়টি প্রক্রিয়াধিন আছে। কিন্তু পরবর্তীতে একাধিকাবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *