স্কুলতো নয় যেন ভূতের বাড়ী !

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের উত্তর শাসলা পিয়ালা গ্রামে গিয়ে দেখা যায় খেতের মাঝখানে একটি টিনের ঘর। চার দিক যেন ঘাস আর ঝাড় জঙ্গলে ভরা। ছাত্র-ছাত্রীর নেই কোন বালাই। দেখে মনে হয় স্কুলতো নয়, যেন ভূতের বাড়ী। আর এই স্কুলটি জাতীয়করণের নাম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি ও এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে উত্তর শাসলা পিয়ালা বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ওই গ্রামের শহিদুল ইসলাম স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন আমরা ৪ জন শিক্ষক স্কুলটি জাতীয়করনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছি। এর মধ্যে হঠাৎ করে একজন লোক তার নাম রাজু আহম্মেদ পেশায় আইনজীবী। মুক্তিযোদ্ধার ছেলে পরিচয় দিয়ে বলেন স্কুলটি আমার হাতে ছেড়ে দিলে এক সপ্তাহের মধ্যে জাতীয়করণ করে দিবেন বলে জানান। এর সুযোগ নিয়ে প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন কৌশলে প্রধান শিক্ষককে বাদ দিয়ে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এরপর থেকে ওই আইনজীবীকে আর দেখতে পাওয়া যায় না এলাকায় এবং এখনও স্কুলটি জাতীয়করণ হয়নি বলে জানান তিনি।

অপরদিকে ২০০২ সালে নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষক আঞ্জুয়ারা বেগম সুখের আশায় স্কুলের বেতন-ভাতা পাবেন বলে এক বিঘা জমি বিক্রী করে সভাপতিকে ৫ লাখ দেন, একই কথা বলেন আরেক শিক্ষক লিলি আক্তার। তিনি আরো বলেন আমরা দীর্ঘ দিন ধরে টাকা-পয়সা দিয়ে বিনা বেতনে শ্রম দিয়ে আসছি। কিন্তু হঠাৎ করে আমাদের না বলে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নেব। সভাপতির বিরুদ্ধে লিখিত ভাবে অভিযোগ জানাবো।

স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্বাস আলী জানান স্কুলের যারা শিক্ষক ছিল তারা নিয়মিত স্কুলে আসতো না। ২০১৭ সালে রাজু আহম্মেদ নামে এক লোক এসে জিজ্ঞাসা করে এখানে একটি স্কুল ছিল। স্কুলটি কি হলো ? উত্তরে সভাপতি বলেন বিচ্ছিন্ন ভাবে পড়ে আছে। এরপর রাজু আহম্মেদ বলেন আমাকে একটু সুযোগ দিলে স্কুলটি করে দিতে পারবো। শর্ত হিসেবে তার স্ত্রীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। এই কথা বলে রাজু আহম্মেদ নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ দেয় এবং সভাপতিকে স্বাক্ষর দিতে বলেন। রাজুর কথা মতো সভাপতি স্বাক্ষর দেন।

এ প্রসঙ্গে আইনজীবী রাজু আহম্মেদের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিককে দেখে নিবেন বলে হুমকি দেন।

সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাজ্জাদ হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন ওই স্কুলের মা সমাবেশে আমাকে দাওয়াত দিয়েছিল। আমি সেখানে গিয়েছিলাম। শিক্ষক নিয়োগের নামে আর্থিক অনিয়ম হয়েছে এ বিষয়টি জানা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *