২৫বছর পর লাভের মুখ দেখতে যাচ্ছে শেরপুর দুগ্ধ ও গবাদি পশু উন্নয়ন খামার

শেরপুর(বগুড়া)প্রতিনিধি:বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় মহিপুরে প্রতিষ্ঠিত শেরপুর দুগ্ধ ও গবাদি পশু উন্নয়ন খামারটি ১৯৯৫ সালে ৬৮ জনের জনবল ও ২৩৩টি পশু নিয়ে যাত্রা শুরু করে। অফিসবোর্ডে লেখা তথ্যানুযায়ী বর্তমানে এই খামারে কর্মকর্তা, কর্মচারী ও হাজিরা শ্রমিকের সংখ্যা ৪৫ জন যেখানে প্রয়োজন নিয়মিত শ্রমিকসহ মোট ৮৯ জন। আর মোট গবাদিপশুর সংখ্যা রয়েছে ২০১টি।
সম্যস্যা মোকাবেলা করতেই বগুড়ার শেরপুর উপজেলার দুগ্ধ ও গবাদিপশু উন্নয়ন খামার দীর্ঘ ২৫ বছরেও তেমনভাবে লাভের মুখ দেখেনি। লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন করতে পারেনি প্রয়োজনীয় জনবল এবং সরকারি সহযোগীতার অভাবে। ফলে দেশীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার ক্ষমতা রাখলেও এখানকার সকল বিনিয়োগ থেকে আশানুরুপ ফল পাওয়া যায়নি। সরকারের সিদ্ধান্তহীনতায় খামারটির এই দুরবস্থা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্র জানিয়েছে।বর্তমান সরকারের প্রাণীস¤পদ মন্ত্রণালয় তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ায় এখন কিছুটা গতি ফিরে আসছে। ইতঃপূর্বে দৈনিক ২৫০ লিটার করে দুধ পাওয়া যেত , বর্তমানে ৫৬টি গাভী দৈনিক গড়ে ৩০০ লিটার দুধ দেয়, যার সরকার নির্ধারিত মূল্য প্রতি লিটার ৫০টাকা। বর্তমানে এই খামার থেকে ভেড়ার জাত উন্নয়নের জন্যে ভ‚র্তকি মূল্যে ভেড়ার পাঁঠা ৮০০ টাকা এবং ভেড়ি ১২০০ টাকায় শর্তসাপেক্ষে খামারীদের সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রায় আট প্রজাতির বিভিন্ন রকমের ঘাস চাষ এবং বিনা মুল্যে সেই জাত প্রান্তিক চাষীদের সরবরাহ করা হয়ে থাকে। সংশ্লিষ্ট সুত্র থেকে জানা যায়, দেশে প্রায় ১কোটি ১৫ লক্ষ এর মত প্রজননক্ষম গাভী আছে যার প্রায় ৫০ শতাংশ এখনো কৃত্তিম প্রজননের বাহিরে। প্রাকৃতিকভাবে প্রজননের জন্য একটি বাছুরের জন্য একটি ষাঁড় একবার ব্যবহার করা হয় কিন্তু উন্নত জাতের একটি ষাঁড় থেকে একবারে ১৬০০ ডোজ সীমেন সংগ্রহ করা যায় যাদিয়ে প্রায় ৮০০ বাছুর জন্ম দেয়া সম্ভব।
তিনি বলেন, ৫০% থেকে ৭৫% পর্যন্ত বিদেশী ব্লাডের ষাঁড় বাংলাদেশের আবহাওয়া উপোযোগী। এই উদ্যেশ্যে তিনি কেন্দ্রীয় গো প্রজনন খামার ল্যাব থেকে ২৫০ মাত্রার পৌলিক মানের সীমেন সংগ্রহ করেছেন যা দিয়ে ভালো মানের ষাঁড় তৈরীর প্রচেষ্টা চলছে এবং ন্যাশনাল এ আই কাফ প্রোডাকশনে বড় ভ‚মিকা রাখছে। শেরপুর দুগ্ধ ও গবাদিপশু উন্নয়ন খামারের দ্বায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে খামারটি ঘিরে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে বলেন, নর্থবেঙ্গল গ্রে এবং পাবনা মিল্কিং ক্যাটল এর মধ্যে ক্রসব্রিডিং করে অভিজাত ষাঁড়ের সংরক্ষনে অবদান রাখা। ঘাসের উৎপাদন ১০০০ মেট্রিক টনে উন্নীত করা, দুধের উৎপাদন দৈনিক ৩৫০ লিটারে উন্নীত করা এবং দেশীয় প্রচলিত জাতের ঘাসের জীন ব্যাংক তৈরী করা।

গবাদিপশুর চাহিদা পূরণের জন্য কি ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন? এ প্রশ্নের জবাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, সরকারি আর্থিক সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় জনবল পেলে অবশ্যই উন্নত জাতের অভ্যন্তরীণ গবাদিপশুর চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। স্থানীয়ভাবে দুধের চাহিদা এবং দইয়ের বাজারে দুধের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *