বগুড়ার শেরপুরে প্রশাসনকে উপেক্ষা করে করতোয়া নদীতে সুতি জাল দিয়ে মৎস্য নিধনের মহোৎসব

জিয়াউদ্দিন লিটন, স্টাফ রিপোর্টার:বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় করতোয়া নদীতে অবৈধভাবে ঘেরাজাল ব্যবহার করে অবাধে চলছে মাছ ধরার মহোৎসব। অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ীরা নদীতে অবাধে অবৈধ ঘেরাজাল ও সুতিজাল দিয়ে মাছ ধরায় দেশীয় মাছের সংকট দেখা দেয়ার আশংকা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে যেয়ে দেখা যায় শেরপুরের করতোয়া নদীরমাঝনদীতে ঘেরাজাল দিয়ে অবাধে চলছে সকল ধরনের মাছ নিধন। আজ করোতোয়া নদী সংলগ্ন মির্জাপুর, ভাটারা, কুনিঘাট, কাশিয়াবালা, খানপুর, বিনোদপুর ও কয়ারখালি এলাকায়গিয়ে মাছ নিধনের উদ্দেশ্যে ঘেরা জালের বেড়াদেয়ার বাস্তব চিত্র দেখা যায়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের নজরদারী দরকার বলে মনে করেন এলাকার সাধারণ মানুষ।

জানা যায়, উপজেলার মির্জাপুর থেকে শুরু করে শুঘাট ইউনিয়ন এলাকা পর্যন্ত করতোয়া নদীতে সুতিজাল এবং বেরাজাল ব্যবহার করে মাছ ধরার মহোৎসবে মেতেছে কতিপয় অসাধু মাছ ব্যবসায়ীরা।

এলাকাবাসী জানায়, এই সুতি জালে ছোট ছোট ক্ষুদ্রাকৃতির মাছও ধরা পড়ে। যার কারণে পোনামাছ গুলো বড় হওয়ার আগেই জালে ধরা পরছে। বাঙ্গালী ও করতোয়া নদীর ওই এলাকার সারাদিন জাল পাতা থাকে। ভোররাতে জাল থেকে মাছ তুলে বাজারে বিক্রি করা হয়। এইভাবে বাঙালী নদীর বিনোদপুর ও ঝাঁজরে এবং করতোয়া নদীর খাগা এলাকায়ও সুতিজাল দিয়ে অবাধে মাছ ধরা হচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ীরা বীরদর্পে তাদের কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সচেতনমহল প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে শেরপুর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা সরকার জানান, অবৈধ জালের বিরুদ্ধে ইতোপুর্বে দুইটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এসময় জব্দকৃত অবৈধ জাল ১৫শ টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

এ প্রসঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব জামশেদ আলাম রানা জানান, এটি অবশ্যই দেশীয় মাছের জন্য হুমকি এবং অবৈধ। পূর্বেও আমারা ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেছিলাম কিন্তু কোনভাবেই স্থানীয়রা আইনের তোয়াক্কা করছে না। খুব দ্রুত আমরা পদক্ষেপ নেব।

শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সেখ জানান, অবৈধ জাল দিয়ে মাছ ধরা হলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *