মেডিকেল এসিষ্ট্যান্ট নাজমুলের বিরুদ্ধে নারীদের ধর্ষণচেষ্টা ও শ্লীলতাহানীর অভিযাগ

স্টাফ রিপোর্টার:

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার খুকনী ইউনিয়নের খোকশাবাড়ী মন্ডলপাড়ার জনতা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার-২ এর মেডিকেল এসিষ্ট্যান্ট লম্পট নাজমুলের একের পর এক ধর্ষন চেষ্টাসহ নারীদের শ্লীলতাহানীর গুরুতর অভিযাগ উঠেছে। একের পর এক ঘটে যাওয়া এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনায় এলাকায় নিন্দার ঝড় বইছে। সর্বশেষ ওই ক্লিনিকের যুবতী এক আয়াকে জোরপূর্বক ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষোভে ফুঁসচ উঠেছে। এ ঘটনাও ধামাচাপা দিতে একটি প্রভাবশালী মহল উঠেপড়ে লেগেছে  বলে জানা গেছে।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জনতা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার-২ এ গত ২০১৮ তাড়াশ উপজেলার মথুরাপুর গ্রামর নুরুল ইসলামের ছেলে নাজমুল ইসলামকে মেডিকেল এ্যাসিষ্টন্ট পদে দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর থেকেই নাজমুল নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে রোগীদের সাথে চিকিৎসা সেবা প্রদানের নামে প্রতারণা চালিয়ে আসছে ও বিভিন্ন সময় নারীদের নানাভাবে যৌন হয়রানী করে আসছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, আড়াই বছর আগে জনতা ক্লিনিকে কর্মরত ব্রাহ্মগ্রামের এক আয়াকে মেডিকেল এসিষ্ট্যান্ট নাজমুল ধর্ষনের চেষ্টা করে। ভুক্তভাগী আয়া এ ঘটনা পরিবারের সদস্যদর জানালে সালিসী বৈঠকে হাত-পা ধরে সেবারের মতো পার পান লম্পট নাজমুল।একই ভাবে বছর খানেক আগে খোকশাবাড়ি গ্রামের জনৈক প্রবাসীর স্ত্রী চিকিৎসাসেবা নিতে আসলে তার শ্লীলতাহানীর চেষ্টা চালায় লম্পট নাজমুল।বিষয়টি ভুক্তভাগীর অভিভাবকরা জানার পর বিচার চাইলে গ্রাম্য সালিশে মোটা অর্থের বিনিময়ে আবারও ধামাচাপা পড়ে যায় নাজমুলের এ কুকর্ম।

সর্বশেষ গত ১৮ আগষ্ট রাতে জনতা ক্লিনিক-২ এর এক আয়াকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে নাজমুল। নির্যাতনের শিকার ওই আয়া এর বিচার চাইলে গত বৃহস্পতিবার (২০ আগষ্ট)  দুপুরে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে মোটা টাকার বিনিময়ে এবারও ন্যাক্কারজনক ওই ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে অনৈতিকভাবে সমঝোতার মাধ্যমে রক্ষা পায় নাজমুল।

এ বিষয়ে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ডাঃ সাখাওয়াত হাসান বলেন, ‘ভুক্তভোগী আয়া আমার কাছ অভিযোগ করে বলেন প্রায়শই নাজমুল তাকে কু-প্রস্তাব দেয়। এতে সাড়া না দেয়ায় নাজমুল তাকে ধর্ষনের চেষ্টা করে। নাজমুলের নানা কু-কর্মে বরাবরই অজ্ঞাত খুঁটির জোরে ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে । তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।’

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ওই ক্লিনিকের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক শামীম আহমেদ বলেন, ‘মেডিকেল এসিষ্ট্যান্ট নাজমুল কর্তৃক হাসপাতালে কর্মরত ও চিকিৎসাসেবা নিতে আসা নারীদের ধর্ষণ চেষ্টা ও শ্লীলতহানীর অসংখ্য ঘটনায় হাসপাতালর সুনাম নষ্ট হচ্ছে।

এ বিষয়ে এনায়েতপুর থানার ওসি মোল্লা মাসুদ পারভেজ জানান, ‘অভিযোগ পেলে মেডিকেল এসিষ্ট্যান্ট নাজমুলের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে মুঠোফানে এসব বিষয়ে সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডাঃ জাহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *