আধুনিক সভ্যতার যুগেও ভাগ্য বদলায়নি কাঠের‌ পিঁড়ির সেলুন কারিগরদের

মাহবুবুর রহমান রানা,সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

আধুনিক সভ্যতার বিবর্তনের ফলে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই এসেছে পরিবর্তন। লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। গড়ে ওঠেছে বিভিন্ন ধরনের অত্যাধুনিক সেলুন। এসব সেলুনে চলছে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। এই আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এর মাঝেও মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় এখনও টিকে আছে বাংলার সেই চিরচেনা পিঁড়িতে বসা সেলুন। তবে পুঁজি কম থাকায় ভাগ্য বদলায় না ওই সেলুনের কারিগরদের।

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় ৯টি ইউনিয়ন বাজারসহ প্রায় ৪০টি হাট-বাজার রয়েছে। এসব হাট-বাজারের খোলা জায়গায়, রাস্তার কিনারে, ফুটপাতে ও গাছের নিচে বসে বংশ পরম্পরায় পিঁড়িতে বসা সেলুনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন তারা ।

বিভিন্ন গ্রাম থেকে দরিদ্র লোকেরা চুল কাটতে এসব সেলুনে আসেন। এসব সেলুনে চুল কাটতে ২০ টাকা ও শেভ করতে ১০ টাকা লাগে। সারাদিন কাজ শেষে একজন নাপিত আয় করেন দুই থেকে আড়াই শত টাকা। এই টাকাই চলে তাদের জীবন। এই টাকাই চলে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়াসহ যাবতীয় খরচ। বছর শেষে আয় বলতে কিছুই থাকে না তাদের। ফলে একটি আধুনিক সেলুন তৈরি করতে পারছেন না তারা।

উপজেলার সদর বাজারে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার পাশে পরান শীল, নিমাই শীলও গোপি শীল কাজ করছেন।কাঠের তৈরি একটি পিঁড়ির ওপর ছোট গামছায় চুল কাটার ও শেভ করার সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি রাখা আছে।

তাদের কাছে চুল কাটতে আশা একজন কৃষক ব্যক্তি বলেন ভালো সেলুনে চুল কাটাতে লাগে ৫০ টাকা। এই সেলুনে লাগে ২০টাকা। তাই এখানে আসি।
নিমাই শীল বলেন, আমি পিঁড়িতে বসিয়ে প্রায় ৫০ বছর ধরে এ কাজ করছি। প্রথম জীবনে চুল কাটছি এক টাকা ও দাড়ি কাটছি পঞ্চাশ পয়সা দিয়ে। সে সময় নাপিতদের যা আয় হতো তা দিয়েই সংসার ভালোভাবে চলত। কিন্তু বর্তমানে ২০ টাকায় চুল ও ১০ টাকায় দাড়ি কেটেও সারাদিনে যে টাকা পাই, তা দিয়ে সংসার চালাতে কষ্ট হয়।

সাটুরিয়া উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের গোপি শীল বলেন, আমি ৪৫ বছর ধরে এ কাজ করছি। বর্তমানে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সব কিছুর পরিবর্তন হয়ে গেছে। চুল ও দাড়ি কাটার সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির পরিবর্তন হয়েছে। আধুনিক সেলুনগুলোতে এখন আর শান দেয়া ক্ষুর নেই। এর বদলে এসেছে ব্লেড। এসেছে শেভিং ক্রিম, ফোম, উন্নতমানের লোশন। যখন আমরা এ কাজ শুরু করেছিলাম তখন এসব ছিল কল্পনার বাইরে। প্রতিদিন যা উপার্জন করি তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চলে যায়। আধুনিক সেলুন দেওয়ার মতো এতো টাকা হাতে নেই ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *