বগুড়ায় শেরপুরে হত‍্যার ৪ বছর পরে প্রধান আসামী গ্রেফতার করলো সিআইডি

স্টাফরিপোর্টার:
বগুড়া শেরপুর গত ২০১৬ জানুয়ারীর ২২ তারিখ শুক্রবার সন্ধ্যায় বগুড়ার শেরপুর থানা এলাকার গাড়ীদহ ইউনিয়নের দামুয়া গ্রামের একটি শিম ক্ষেতে স্বাস্থ্য পরিদর্শক সাইদুল ইসলাম (৩৫) কে জবাই করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরদিন শনিবার বেলা ১১টায় ওই শিম ক্ষেত থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। তৎসময়ে শেরপুর থানা সুত্রে জানাযায় নিহতের মুখ মাফলার দিয়ে বাঁধা এবং গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিলো। নিহত সাইদুল শেরপুর শহরের উলিপুর পাড়ার মো: আনোয়ার হোসেনের পুএ। একসময়ের ছাত্রলীগ কর্মী সাইদুল সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলার স্বাস্থ্য সহকারী পদে কর্মরত ছিল। তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় নিহতের পিতা জানান ঘটনার দিন সাইদুল খালাশাশুরীর বাড়ী যাবার কথা বলে বেরিয়ে আর ঘরে ফেরেনি।

পরদিন নিহতের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাত আশামী করে শেরপুর থানায় একটি হত‍্যা মামলা দায়ের করেন।শেরপুর থানা পুলিশ তদন্ত পূর্বক ০২ জন আসামীকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্ররণ করে। পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পায় ওই আশামীরা। অধিকতর তদন্তের সার্থে মামলার তদন্তভার ডিবি বগুড়াতে স্থানান্তর হয়। পূর্নতদন্তের জন‍্য পিবিআই কে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। পিবিআই মেহেদী হাসান ওরফে পলাশকে পলাতক দেখিয়ে তিন জনেকে আশামী করে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করে। বাদীপক্ষ ওই অভিযোগপত্রের বিপরীতে নারাজী’র আবেদন করলে কোর্ট বাদীর আবেদন আমলে নিয়ে সিআইডি বগুড়া কে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেয়।

০৪ বছর আত্মগোপনে থানা পলাতক আশামী গ্রেফতার প্রসঙ্গে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পরিদর্শক মোঃসাইদুল আলম বলেন, এ‍্যাডভোকেট হাসান বারি’র পুএ মেহেদী হাসান@পলাশ (২৬) কে গত বৃহস্পতিবার এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে বগুড়ার শেরপুর থানা এলাকার উলিপুরস্থ তার বাবার ভাড়া বাসার শয়নকক্ষের বক্স-খাটের ড্রয়ার থেকে পলাতক পলাশ কে গ্রেফতার করেতে সক্ষম হয় সিআইডি বগুড়া।

শনিবার গ্রেপ্তারকৃত মূল আশামী ও হত‍্যার পরিকল্পনাকারী মেহেদী হাসান@পলাশ বগুড়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শেরপুর আমলী আদালতের বিচারক বেগম মোছাঃ আসমা মাহমুদ এর আদালতে ১৬৪ ধারায় সাইদুলকে জবাই করে হত্যার দ্বায় স্বিকার করে নেয়।

মূল আশামী ও হত‍্যার পরিকল্পাকারী মেহেদী হাসান @পলাশের স্বিকারোক্তি সুত্রে যানা গেছে মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ‍্যে মেলামেশা শুরু হয়। মৃতু সাইদুল কে জুনিয়র পলাশ তুইতুকারি সন্মোধন করলে সাইদুল ক্ষিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে উভয়ের মধৌ হাতাহির ঘটনা ঘটে। এরপর পলাশ গং প্রতিশোধ নিতে ক্ষিপ্ত হয়ে হত‍্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী হাতাহাতির ঘটনা মিমাংসার প্রস্তাব দিয়ে সাইদুল কে মাদকের আসরে (শিম ক্ষেতে) নিয়ে গিয়ে এই হত‍্যাকান্ডটি সংগঠিত হয়।

ময়না তদন্তে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শ্বাসনালী বিছিন্ন করে মৃত্যু ঘটে মর্মে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

দ্রুত সময়ের মধ‍‍্যে হত‍্যার মূল আসামী ও পরিকল্পনাকারী মেহেদী হানান ওরফে@পলাশ সহ হত‍্যা কান্ডে সরাসরি অংশ নেয়া তিন জন চিহ্নিত আশামীর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে প্রতিবেদন দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন এই হত‍্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পরিদর্শক মোঃ সাইদুল আলম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *