৯৯৯-এ ফোন;অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী উদ্ধার

দ্বীন মোহাম্মাদ সাব্বির, স্টাফ রিপোর্টার:

সিরাজগঞ্জে ৯৯৯ নম্বরে কল দিয়ে উদ্ধার হলো যমুনার দুর্গম চরে আটকে পড়া অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী। বঙ্গবন্ধু সেতু ও যমুনা নদীতে ঈদ আনন্দ ভ্রমণ করতে এসে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার ধুলিয়াবাড়ি চরে আটকে পরে এসব শিক্ষার্থী। সোমবার (০৩ আগস্ট) গভীর রাতে ধুলিয়াবাড়ী চর থেকে তাদের উদ্ধার করে মঙ্গলবার(০৪ আগস্ট)  দুপুরে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষার্থীদের বাড়ী পৌঁছে দেয় এনায়েতপুর থানা পুলিশ।

পুলিশ ও আটকে পড়া শিক্ষার্থীরা জানায়, সোমবার সকালে টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার কামুটিয়া গ্রামের প্রায় ৫০ জন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী শ্যালো ইঞ্জিন চালিত নৌকায় করে বঙ্গবন্ধু সেতু ও যমুনা নদীতে আনন্দ ভ্রমণে যায়। দিনভর নৌ ভ্রমণ ও বঙ্গবন্ধু সেতু দর্শন করার পর সেখানে বনভোজন করে তারা। সন্ধ্যার দিকে বাড়ি ফেরার পথে যমুনা নদীর মাঝে আকস্মিকভাবে নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। অনেক চেষ্টা করেও মেশিন চালু না হওয়ায় রাতের ধুলিয়াবাড়ি চর এলাকায় আটকে পড়ে শিক্ষার্থীরা।

পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দিলে এনায়েতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোল্লা মাসুদ পারভেজের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম রাত ১২টার দিকে চরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে।

ভ্রমণকারীদের সমন্বয়ক মানিকগঞ্জের দৌলতপুর মতিলাল ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী রুবেল রানা বলেন, আটকে পড়াদের সবাই বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী। ঈদের ছুটিসহ করোনায় ঘরবন্দি থেকে একটু বিনোদনের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে শ্যালো নৌকা নিয়ে যমুনায় নৌকা ভ্রমণ ও সেতু দেখতে যাই। তবে বাড়ি ফেরার পথে নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় সারাদিনের আনন্দ রাতে বিরাট আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যমুনা চর ফাঁকা হওয়ায় আমাদের অনেকেই ভয়ে কান্না করছিল। তবে কেউ কোনো ক্ষতি কিংবা হয়রানির শিকার হইনি।

এনায়েতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোল্লা মাসুদ পারভেজ জানান, আটকে পড়া শিক্ষার্থীরা জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দেওয়ার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাদের উদ্ধার করা হয়। এসময় ৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে অধিকাংশ ক্ষুধার্ত ছিল। তবে কারও কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। সকালে নিরাপদে সবাইকে বাড়ি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *