ঠাকুরগাঁওয়ে দুর্যোগ সহনীয় ঘর নিমার্নে দুর্নীতির অভিযোগ !

এমদাদুল ইসলাম ভূট্টো,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান টিআর-কাবিখা কর্মসূচীর আওতায় ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় দূর্যোগসহনীয় ঘর নির্মান কাজে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির বিরুদ্ধে।
দূর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ নির্দেশিকা অনুযায়ী উপজেলা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। সে অধিকর্তা হিসেবে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার পছন্দের লোক দিয়ে ঘর গুলো নির্মান করছেন যেনতেন ভাবে। কাজের মান নিয়ে উপকারভোগীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে দূর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মান প্রকল্পের আওতায় এ উপজেলায় ৮টি ইউনিয়নে ৩৬টি দূর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মান করা হয়েছে। প্রতিটি বাসগৃহ নির্মান কাজের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৬০ টাকা । ষ্টিমেট অনুযায়ী মাটির নীচ হতে ৩ ইঞ্চি সলিং, ৩ ইঞ্চি সিষ্টেম কনক্রিট, ১৫ ইঞ্চি-৬ইঞ্চি উচ্চতা গাথনি দিয়ে ভিটি করা, ১৪টি ব্রিফ পিলার, ঘরের চালে মানসম্মত কাঠ ব্যবহার করা, উন্নতমানের ঢেউ টিন ০.৪৬মি:লি:, ১নং ইট ও উন্নতমানের বালি, ভালো ব্রান্ডের সিমেন্ট, দরজা, জানালা ও বারান্দায় উন্নতমানের নির্মান সামগ্রী ব্যবহার করা হবে। কিন্তু সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। নির্দেশিকা অনুযায়ী ঘর নির্মানে করা হচ্ছে না । এতে নি¤œমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। পরিমাপ অনুযায়ী ঘর নির্মাণ করা হয়নি।
পাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তরপাড়িয়া লোহাগাড়া গ্রামের ভূক্তভোগী আলেয়া বেগম বলেন আমার স্বামীর নামে উপজেলা থেকে দূর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ পেয়েছি। ষ্টিমেট অনুযায়ী মাটির নীচ থেকে ৩ ইঞ্চি সলিং, ৩ ইঞ্চি সিষ্টেম কনক্রিট, ১৫ ইঞ্চি-৬ইঞ্চি উচ্চতা গাথনি দিয়ে ভিটি করার কথা কিন্তু মাটি না খুড়ে আলগা করে ১০ ইঞ্চি গাঁথুনি দিয়ে সলিং ছাড়াই ভিটি করা হয়েছে, ঘরের চালে নি¤œ মানের কাঠ ব্যবহার, নি¤œ মানের সিমেন্ট ও বালি ব্যবহার করা হয়ছে। গৃহ নির্মান কাজে নি¤œ মানের উপকরণ ব্যবহার করায় বছর যেতে না যেতেই পিলার, দেয়াল ভেঙ্গে পড়ছে। একটু ঝড় হলেই ভেঙ্গে পড়বে, নিজের টাকা খরচ করে আবার কাজ করতে হয়েছে। এই ঘরে থাকাটাই ঝুঁকিপূর্ন। প্রতিবেশী খসিরুল ইসলাম জানান প্রায় ৩ লাখ টাকার ঘর তৈরিতে ১লাখ পকেটস্থ করেছে সংশ্লিষ্টরা । কাজের মান সর্ম্পকে জানতে চাইলে ঠিকারদার বলেন টিএনও সাহেবের ঘর, টিএনও সাহেব বুঝবেন। যে ভাবে করতে বলেছে আমরা সেই ভাবে করছি।

রায়মহল গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী সাইফুলের মা বলেন সরকার ঘর নির্মান করে দিয়েছে কিন্তু কাজের মান ভালো হয়নি। আবার ঘর নির্মানের জন্য ইট, বালি ও অন্যান্য উপকরণ আনা নেয়ার খরচ ও মিস্ত্রিদের থাকা খাওয়ার খরচ আমাদের গরু বিক্রি করে বহন করতে হয়েছে। ফাঁসিদহ গ্রামের জসিনা বেগম বলেন বছর যেতে না যেতেই ঘরের দেয়ালে ফাঁটল ধরেছে। যখন তখন ভেঙ্গে পড়তে পারে।
আমজানখোর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আকালু চেয়ারম্যান বলেন আমার ইউনিয়নে ঘর নির্মান হয়েছে। এর কত টাকা বাজেট কি ভাবে করা হবে, এ ব্যাপারে আমি কিছু জানিনা । ইউএনও সাহেব স্বাক্ষর চেয়েছে, দিয়েছি।
গৃহনির্মান কাজে নিয়োজিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি চাঁন প্রসাদ বলেন আমি গৃহ নির্মানের কাজ করেছি। জেনে শুনে বলবেন। না জেনে বলবেন না।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. খায়রুল আলম সুমন বলেন এ বিষয়ে স্পেসিফিক ভাবে কেউ বলেনি। ঢালাও ভাবে তো বলা ঠিক না। আপনি কোত্ থেকে জানলেন বুঝতে পারলাম না। এটার তো সুযোগ নেই। কোন বাজে জিনিস আপনি এক্সসেফ করবেন না। তাদের নিদের্শনা দেয়া ছিল যদি নি¤œমানের হয় তাহলে গ্রহণ করবেন না। ওই ভাবেই তাদের সাথে চুক্তি হয়। তিনি আরো বলেন স্পেসিফিক ভাবে লোকজনকে বলেন কোনটা সমস্যা। সে গুলো ঠিক করে দিবে। আমি তো এ রকম দেখি নাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *