করোনা পরিস্থিতিতে ঠাকুরগাঁওয়ে টোলের নামে চলছে পরবিহনে চাঁদাবাজি

এমদাদুল ইসলাম ভূট্টো,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি :
করোনা পরিস্থিতিতে ঠাকুরগাঁওয়ে টোলের নামে চলছে চাঁদাবাজি। একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় সংঘবদ্ধ চক্রটি প্রকাশ্যে টোল আদায়ের নামে অটো চার্জার, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে অবৈধভাবে চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চাঁদাবাজি বন্ধে পরিবহন শ্রমিকরা স্থানিয় প্রশাসনকে দফায় দফায় অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাচ্ছে না ভূক্তভোগীরা।
প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত সদর উপজেলার ১০টি পয়েন্টে লাঠি হাতে ট্রাক ও অটোবাইক আটকিয়ে জবরদস্তি টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজি করছে বলে জানায় শ্রমিকরা । শুধু জেলা পৌর শহরেই নয়, জেলার পাঁচ উপজেলার সকল সড়কেই এখন বিভিন্ন সংগঠনের নামে প্রকাশ্যে চলছে এই চাঁদাবাজি। আর এই চাঁদাবাজির সাথে জড়িত ক্ষমতাসীন দলের স্থানিয় অনেক নেতাই। অপরদিকে সদর উপজেলার পৌর শহরে ক্ষমতাসীন দলের একটি সংঘবদ্ধ চক্র সমাজ কল্যাণসহ বিভিন্ন তহবিলের নামে চালকদের কাছ থেকে বিভিন্ন স্থানে জোড়করে চাঁদা আদায় ও হয়রানি করে আসছে।

শ্রমিকদের অভিযোগ, একজন শ্রমিক সারা দিন গাড়ি চালিয়ে যা উপার্জন করেন তা থেকে বিভিন্ন স্থানে চাঁদা আর মালিকের পাওনা পরিশোধ করে আর তেমন কিছু টিকে না। এহেন অবস্থায় সংসার চালানো খুবই কষ্ট হয়ে গেছে তাদের। চাঁদা দিতে না চাইলে তাদের উপর চালানো হয় শারিরিক ও মানসিক নির্যাতন।
শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের প্রধান উপদেষ্টা মাহবুব আলম রুবেল বলেন প্রতিদিন গড়ে অটো চার্জার প্রতি রশিদ ১০টাকা হারে ৫হাজার চালকের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা উঠানো হয়। যা মাসে ১৫ লক্ষ টাকা আর বছরে দাড়ায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে প্রতিটি ট্রাক ও ট্যাংলরির কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে ৫০ টাকা হারে। শ্রমিকদের হারভাঙ্গা পরিশ্রম ও কষ্টের টাকা ভোগ করছে ক্ষমতাসীন দলের একটি চক্র।

ভুক্তভোগী শ্রমিক বেলাল হোসেন বলেন, করোনার জন্য প্রায় দুইমাস তারা রাস্তায় গাড়ি চালাতে পারে নাই। লকডাউন শিথিল হলে রাস্তায় অটো চালাচ্ছেন। কিন্তু তাতেও চাঁদাবাজদের হাত থেকে রেহাই নেই তাদের। প্রতিদিন মালিকের জমা খরচ ও নিজের সংসারের খরচ উঠানোই যেখানে অনেক কষ্টের বিষয়, সেখানে সড়কে বিভিন্ন পয়েন্টে লাঠি হাতে জোড় করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন সব দেখেও নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।
শ্রমিক আনোয়ার হোসেন বলেন শ্রমিকরা এখন চাঁদাবাজদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। রাস্তায় গাড়ি নামালেই দিতে হচ্ছে চাঁদা। যেখানে সরকার বিভিন্ন মিডিয়ায় বলে আসছেন করোনা পরিস্থিতির জন্য সড়ক ও মহাসড়কে কোন চাঁদা উঠানো যাবে না, মিকদের হয়রানি করা যাবে না। সেখানে প্রকাশ্যে  লোকেরা চাঁদাবাজি করছে।

শ্রমিক শাহজাহান বলেন করোনা পরিস্থিতিতে দুই মাস পরিবার নিয়ে খাদ্যাকষ্টে কেটেছি। তখন চাঁদাবাজরা কোন শ্রমিকের পাশে দাড়ায়নি। শ্রমিকরা খেয়ে আছে না মরে গেছে তার খবরও কেউ নেয়নি। বছরের পর বছর বিভিন্ন তহবিলের নামে যে চাঁদা উঠানো হয় তা যায় কোথায়, কারা শ্রমিকদের কষ্টের টাকা ভোগ করছে ? একই কথা জানান, ভুক্তভোগী শতাধিক শ্রমিক।
জেলা অটো চালক সমিতির সাধারন সম্পাদক এসএম লাবু জানান, সড়কে লাঠি হাতে জোড় করে চাঁদা উঠানো এবং চাঁদা না পেলে শ্রমিকদের নির্যাতন করা এটা দেশের অন্য কোথাও আছে বলে জানা নেই। চাঁদা বন্ধের দাবীতে সকল শ্রমিকরা অনেকদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে, কিন্তু প্রশাসন এবিষয়ে তেমন কোন ভূমিকা পালন করছে না। সম্প্রতি চাঁদা বন্ধে মানবন্ধন, বিক্ষোভ ও পৌর মেয়রের পুত্তলিকা দাহসহ জেলা প্রশাসককে স্বারকলিপি প্রদান করা হয়। কিন্তু এতে কোন কাজ হয় না। দরিদ্র অসহায় শ্রমিকদের বাঁচাতে দ্রুত চাঁদাবাজি বন্ধ করা না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলবেন বলে জানান।
ট্রাক ও অটো টোল আদায়কারি মোহাম্মদ বিপ্লবের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, আমি শুধুমাত্র টোল আদায়কারি হিসেবে কাজ করি।
ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র মির্জা ফয়সাল আমিন জানান, সরকারের নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডারের মাধ্যমে পৌরটোল আদায় করা হয়। তবে অন্য নামে পৌর এলাকায় কেউ টোল আদায় বা চাঁদাবাজির কথা তিনি শুনেছেন। অন্য সংগঠনের নামে পৌর এলাকায় কেউ টোল আদায় করে থাকলে আইনশৃঙ্খলা সংস্থার সহায়তায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ কামাল হেসেন জানান, করোনা পরিস্থিতিতে সড়ক ও মহাসড়কে সরকার সকল প্রকার চাঁদা আদায় বন্ধ ও অবৈধ ঘোষনা করছেন। এরপরও যদি সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কেউ প্রভাব খাটিয়ে বা দলীয় পরিচয়ে চাঁদা উত্তলোন করে। তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন অমান্যকারি কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *