মহাদেবপুরে সাধারণ মানুষের কাছে ভালোবাসার এক নাম ইউএনও মিজানুর

মোঃ এমদাদুল হক দুলু,মহাদেবপুর(নওগাঁ) প্রতিনিধি :
সাফল্য হল সফলতার সাথে নিজের ঠিক করা লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা’-(আর্ল নাইটেঙ্গেল)। হ্যাঁ লক্ষ ঠিক রেখেই তিনি এগিয়েছেন আর তাই অর্জনের ঝুঁড়ি আজ বেশ ভারী। তৃণমূল মানুষের মানোন্নয়ন, সামাজিক শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতির মাধ্যমে ত্বরান্বিত উন্নয়ন সূচকের যে মানদন্ড রয়েছে জনবান্ধব প্রশাসক হিসেবে তার সব খেতাবই তিনি অর্জন করেছেন যোগদানের মাত্র এক বছরেই। বলছিলাম নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান মিলনের কথা। উপজেলা প্রশাসক হিসেবে ২০১৯ সালের ৯ জুলাই মহাদেবপুরে যোগদান করেন তিনি। মাত্র এক বছরেই তার ব্যাতিক্রমী নানা কার্যক্রমের ফলে সব শ্রেনী পেশার মানুরে কাছে আলাদা একটি জায়গা করে নেন। ইউএনও মিজানুরের জনবান্ধব কাজ এখন উপজেলার মানুষের মুখে মুখে।
সরকারের কল্যাণমুখী প্রকল্পের সুফল উপকারভোগী তৃণমূল মানুষের দরজায় পৌঁছে দিতে ক্লান্তিহীন ছুটে চলা ইউএনও মিজানুর রহমান এর নামটি এখন সাধারন মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয়। মহা দুর্যোগ করোনায় জনকল্যাণ কর নানা উদ্যোগ বাস্তবায়নে সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে কাজ করছেন ইউএনও। তার এ অগ্রযাত্রাকে সহযোগিতা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। ফলে যে কোন উদ্যোগ সহজেই বাস্থবায়ন হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যোগদানের পরই ইউএনও মিজানুরের দক্ষতার প্রকাশ ঘটে। তিনি উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা সম্ভাবনা খুঁজে বের করে মহাদেবপুরের নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে বিশেষ একটি প্লানের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন শুরু করেন। যে কাজগুলোর জন্য মিজানুর সাধুবাদ পাচ্ছেন তার মধ্যে অন্যতম হল, উপজেলাকে গৃহহীণ মুক্ত ঘোষণা করা। ১০৪৯ জন গৃহহীণকে আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় গৃহব্যবস্থা নিশ্চিত করা। এছাড়া তিনি যোগদানের পর স্থানীয় শিল্পীদের মানোন্নয়ন ও মেধা বিকাশের লক্ষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে শিল্পকলা একাডেমীর কার্যক্রম চালু করেন এবং প্রশিক্ষক নিযোগ দেন। নিয়মিত উপজেলার বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন করে স্কুল পর্যায়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা চালু করেন। জেলার সব চেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হয় মহাদেবপুর। ধান চালের সুষম বাজার নিশ্চিতের দাবি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অনেক দিনের। এ খাতের সব চেয়ে বড় সফলতা তুলে এনেছেন ইউএনও মিজানুর। মহাদেবপুর এর চাল বিশ্ববাজারে রপ্তানির জন্য অনলাইন প্লাটফর্ম এর মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, করোনা কালে ইউএনও মিজানুর রহমানের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ জেলায় বেশ সাড়া ফেলে। তিনিই প্রথম চালু করেন ’মানবতার ঘর’। যেখানে স্থানীয় বিত্তবানদের সহযোগিতা নিয়ে চাল, ডাল, আলু সংগ্রহ করে ঘরে রেখে সামাজিক দূরত্ব মেনে নি¤œ আয়ের মানুষ তা নিয়ে যায়। তার এ মডেল উপজেলা ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বাস্তবায়ন হওয়ার ফলে ব্যাপক প্রশংসা পান মিজানুর। এ ছাড়াও করোনা আক্রান্তদের প্রতি মানবিকতার নজির তৈরি করেন তিনি। আক্রান্তদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ খবর নেওয়াসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেয়ায় মানবিক এক প্রশাসকের সুনামে তিনি উচ্চসিত হচ্ছেন।

মহাদেবপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ধলু বলেন, ‘ইউএনও মিজানুর স্যার যোগ দানের পর থেকেই তিনি তাঁর মেধা ও যোগ্যতার পরিচয় তুলে ধরছেন। একদিকে যেমন তিনি কঠোর পরিশ্রমী অন্যদিকে সততার অনন্য নজির। এ কারনে উপজেলা প্রশাসন বিগত দিনের চেয়ে অনেক বেশি জনবান্ধব।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত প্রায় দের যুগের সমস্যা ছিল সড়কের উপর ধানের হাট। সম্প্রতি এ হাটটি সরিয়ে অন্যত্র জায়গায় বসান ইউএনও মিজানুর রহমান। ক্রেতা বিক্রেতার চরম ভোগান্তির অবসানে মহাদেবপুরের মানুষ এখন বেশ খুশি। গ্রাম পর্যায়ে প্রশাসনের সু-শাসন নিশ্চিত, বাল্য বিবাহ রোধ, পরিবেশ সুরক্ষাসহ নানা ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য গত এক বছরেই তুলে ধরেছেন মিজানুর রহমান।’
জাহাঙ্গীরপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের সহকারি অধ্যাপক হাফিজুল হক বকুল বলেন, ‘শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপজেলার বিদ্যালয় ও কলেজগুলো নিয়মিত তদারকি করেন। তাঁর (ইউএনও) নেতৃত্বে এখন প্রতিটি বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে শিক্ষার্থীদের বিতর্ক দল জেলা সদরসহ বাইরের বিভিন্ন জেলায় অংশ নিয়ে মেধার কৃতিত্ব তুলে ধরছেন।’

মহাদেবপুর চাউল কল মালিক সমিতির সভাপতি ও খাজুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ দিন থেকেই দাবি করছি মহাদেবপুরে অত্যান্ত ভাল মানের চাল উৎপাদন হচ্ছে; সে চাল বিদেশে রপ্তানীর ক্ষেত্র চাই। বর্তমান ইউএনও যথেষ্ট আন্তরিকতার সাথে কাজ করায় আমরা এখন চাল রপ্তানীর সুযোগ পেয়েছি।’ অপর বিশিষ্ট চাল ব্যবসায়ী ওসমান আলী বলেন, ‘ইউএনওর দূরদর্শী কাজের জন্য মহাদেবপুরের ধান-চাল ব্যবসায়ীরা ওনার কাছে কৃতজ্ঞ।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান মিলন বলেন, ‘সততা ও নিষ্ঠার সাথে মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করছি। সরকারের দিক নির্দেশনা আর মাননীয় জেলা প্রশাসকের পরামর্শ নিয়ে যে কোন বিষয়ে প্রদক্ষেপ গ্রহন করি।’ গত এক বছরের মুল্যায়ন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সকলের সার্বিক সহযোগিতা ছিল; যা আগামীতেও এর ধারাবাহিকতা রেখে মহাদেবপুরবাসীর কল্যাণে এগিয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *