ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষার্থীরা দিন মজুরের কাজ করছে!

এমদাদুল ইসলাম ভূট্টো, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
করোনা ভাইরাসের প্রাদূর্ভাবে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। দফায় দফায় সে ছুটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ আগস্ট পর্যন্ত। কিন্তু এরপর স্কুল খুলবে কি না সেই নিশ্চয়তাও নেই। তবে বন্ধের এই সময় শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সংসদ টিভির মাধ্যমে অনলাইনে ক্লাস পরিচালনা করছে সরকার। একই সাথে বিভিন্ন স্কুল-কলেজও আলাদা আলাদা ভাবে অনলাইনে ক্লাস চালু করেছে।

তবে এ সবের কোনও কিছুই প্রভাব ফেলছে না ঠাকুরগাঁওয়ের ৫টি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে। বরং অবসর এই সময়টাতে স্কুলের শিক্ষার্থীরা টাকা রোজগারের জন্য মাঠে নেমেছে। আম-লিচু বাগানে শ্রমিকের কাজ করছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। তবে এ কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়া বেশির ভাগই স্কুল শিক্ষার্থী। পীরগঞ্জ উপজেলা কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র মুন্নার সঙ্গে কথা হলে সে জানায়, স্কুল বন্ধে বোরিং লাগছে, তাই বাগানে কাজ করছি। প্রতিদিন কাজ করে ২ থেকে ৩শ টাকা পাই। আর এই টাকা বাবা-মাকে দেই। একই স্কুলের ছাত্র শাহিনুর রহমান বলে তাদের মত অনেকে বাগানে কাজ করছে। একই ক্লাসের ছাত্র শরিফ বলে দীর্ঘ দিন স্কুল বন্ধ থাকলে লেখাপড়ার প্রতি তাদের মনযোগ হারিয়ে যাবে। নূরুল হুদা নামে এক অভিভাবক বলেন সবার পক্ষে আই ফোন কিনে অনলাইনে ছেলে-মেয়েদের পড়ানো সম্ভব নয়। এ পদ্ধতির ফলে শির্ক্ষাথীরা বৈষম্য ছাড়াও মনস্তাতিক চাপের শিকার হবে।

সদর উপজেলার বগুলাডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি অনুকুল না হওয়া পর্যন্ত আমাদেরকে ধৈর্য্য ধরে শিশু প্রতি আরও যতœশীল হতে হবে। এ সঙ্গে অভিভাবকদের শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার প্রতি মনযোগ বাড়িয়ে তুলতে হবে ।

শিক্ষাবিদ আব্দুস সামাদ বলেন বেশীর ভাগ পরিবারে, কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোথাও মনিটরিং নেই। অথচ শিক্ষার্থীদের বাইরে এরা শিশু; সংবিধান কিংবা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শিশু শ্রম নিষিদ্ধ। সেই কাজটি জেলার প্রায় ৩ শতাধিক শিশু শিক্ষার্থী শ্রমিকের কাজে নেমেছে ।

সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার রুনা লায়লা বলেন ১জন শিক্ষককে অন্তত ৫ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠদানে যুক্ত হতে নিদের্শ দেয়া হয়েছে। সেটি মনিটরিং করা হচ্ছে ।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোশাররফ হোসেন বলেন জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সংসদ টিভি ছাড়াও কিশোর বাতায়ন নামে একটি ওয়েব সাইট চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *