সুন্দরবনে দস্যুতায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেফতার-৪

এস,এম,হাবিবুল হাসান : সুন্দরবনে দস্যুতায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে মামুনুর রহমান ওরফে খোকা বাবু,আলাউদ্দীন গাজী,তৈয়েবুর রহমান কামরান ও সাইদুর রহমান সাইদ নামে চারজনকে গ্রেফতার করেছে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন্স ড্রিলসেডে সুন্দরবনে দস্যুতা, অপহরণ, মুক্তিপণ ও চাঁদা আদায় এবং অর্থনৈতিক অপরাধ সংক্রান্ত এক প্রেস কনফারেন্সে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান এই তথ্য জানান।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, সাতক্ষীরা শহরের মুনজিতপুর এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে মামুনুর রহমান ওরফে খোকা বাবু, দেবহাটা উপজেলার খেজুরবাড়িয়া গ্রামের মহিউদ্দীন গাজীর ছেলে আলাউদ্দীন গাজী, সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর এলাকার আব্দুল হাকিম গাজীর ছেলে তৈয়েবুর রহমান কামরান ও একই এলাকার মৃত শওকত আলীর ছেলে রহমান এন্টার প্রাইজের মালিক সাইদুর রহমান সাইদ।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের কালিন্দী নদীতে মাছ ধরার সময় গত ২০ জুন শ্যামনগর উপজেলার টেংরাখালী গ্রামের এশার আলী গাজী ও পার্শ্বেখালী গ্রামের আজিবর রহমানসহ ৮-৯ জন জেলেকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে কতিপয় জলদস্যু। এরপর তাদেরকে সীমান্তবর্তী দেশ ভারতে নিয়ে যায় তারা।

অপহরণকারী জলদস্যুরা পরে বিকাশ একাউন্টের মাধ্যমে তাদের দাবিকৃত মুক্তিপণ নিয়ে উক্ত জেলেদের ছেড়ে দেয়। পুলিশের কাছে এ সংক্রান্ত অভিযোগ আসার পর সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মীর্জা সালাহ উদ্দীনের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক টিম জলদস্যুদের গ্রেফতারে অভিযানে নামে। এ সময় জলদস্যুতায় সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে উক্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ঘটনায় পলাতক রয়েছে বাংলাদেশি নাগরিক প্রদীপ, পাটকেলঘাটা থানার কুমিরা এলাকার মিঠুন দাস এবং ভারতের বসিরহাট ত্রিমোহিনী এলাকার আক্তার আলম গাজী, পান্না, বাপ্পী ও ঘোজাডাঙ্গা এলাকার হাসান এন্টার প্রাইজের মালিক নুনু।

পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেফতারকৃতরা জলদস্যুদের সাথে সংঘবদ্ধ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন থেকে জেলেদের অপহরণ করে আটকে রেখে জোরপূর্বক মুক্তিপণ আদায় এবং মারপিটসহ নানাভাবে নির্যাতন চালায়। অবৈধভাবে অর্জিত তাদের এই অর্থ ভারতে পাচারেরও অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত চারজনসহ উল্লিখিত ১০ জনের নামে জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই ফরিদ হোসেন বাদী হয়ে শ্যামনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-১৮।

প্রেস কনফারেন্সে আরও জানানো হয়, গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে সাইদুর রহমান সাইদ, অপহৃত এশার আলী ও এ মামলার স্বাক্ষী সৈয়দ হারিজ হোসেন তুহিন ইতোমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেছেন।

দ্রুততম সময়ের মধ্যে অন্যান্য আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *