মাইক্রোবাসে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট স্টীকার ব্যবহার করে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, গ্রেফতার-৮

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ঃ মাইক্রোবাসে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট স্টীকার ব্যবহার করে ঠাকুরগাঁওয়ের ভূট্টা ব্যবসায়ী জুয়েল রানা(২৮)কে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার ৮ ঘন্টা পর বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম থানা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। সে সময় আন্তঃজেলা অপহরণকারী চক্রের ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৬ জুলাই) বিকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামাল হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবু তাহের মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) মো: মোসফেকুর রহমান, সদর থানার ওসি তানভিরুল ইসলাম, ওসি তদন্ত গোলাম মর্তুজা, প্রেস ক্লাবের সভাপতি মনসুর আলী প্রমুখ।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ থানার বীল পাকেরদহ গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আশারফুল ইসলাম আরিফ (২৭) ও নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মোঃ আব্দুল মান্নানের ছেলে আলা উদ্দীন (৩৫), কুড়িগ্রাম জেলার কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ^রী উপজেলার নেওয়াশি গ্রামের মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে হুমায়ুন কবির (৪৫), বি-বাড়িয়া জেলার নবীনগড়র থানার বিদ্যকোর্ট গ্রামের মৃত সিদ্দুকুর রহমানের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩২) ও আখাউড়া থানার মনিঅন্ধ গ্রামের নুরুল আমিনের ছেলে আল আমিন (৩৫), বগুড়া জেলার শীবগঞ্জ উপজেলার পিরব সরকারপাড়া গ্রামের মৃত জামাত উল্লা মন্ডলের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৪৫), নোয়াখালী জেলার সেনবাগ থানার চাতার গ্রামের মো: আব্দুল লতিফের ছেলে সোহাগ (৩২) এবং মাইক্রোবাস চালক রাজশাহী জেলার সালাউদ্দীন (৩৯)।


অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সংবাদ সম্মেলনে জানান গত ৩ জুলাই সন্ধা ৬টার দিকে ব্যবসায়ী জুয়েল রানা ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দেবীপুর ইউনিয়নের ১১ মাইল এলাকার জাফর আলী ফিলিং স্টেশন থেকে মোটরসাইকেলে পেট্রোল নিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন। এ সময় পাম্পের সামনে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় মহাসড়কে ওই ব্যবসায়ীর পথরোধ করে জোরপূর্বক একটি মাক্রোবাসে উঠিয়ে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিল। সে সময় অপহরণকারীরা ব্যবসায়ীর মুঠোফোন দিয়ে তার পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে অপহৃত জুয়েল রানার মা আনজুয়ারা বেগম রাতেই বাদী হয়ে সদর থানায় অজ্ঞাত আসামী উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন।
তিনি আরো জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক গোলাম মর্তুজা তাৎক্ষনিক ভাবে মামলার তদন্ত শুরু করেন। পরে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ভিকটিমের মোবাইল নম্বরের লোকেশন চিহ্নিত করে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানা পুলিশের সহযোগিতায় ৪ জুলাই ভোর ৫টার দিকে ঢাকা মেট্রো-চ-১৯-৩৪৫০ মাইক্রোবাসটিকে আটক করে ওই ব্যবসায়ীকে হাত-পাঁ বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং সে সময় আন্তঃজেলা অপহরণকারী দলের ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন অপহরণকারী চক্রটি এ সময় মাক্রোবাসটিতে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট, আদালত-৪, বিআরটিএ স্টীকার ব্যবহার করেছিল। এছাড়াও অপহরণকারী চক্রের সদস্যদেরকে গ্রেফতার করার সময় মাইক্রোবাস থেকে ৯২ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার সাথে কেউ জড়িত কি না এবং এর পেছনে অন্য কোন কারণ আছে কি না বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *