সারিয়াকান্দির মতিনুর ৩৮তম বিসিএস’এ শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত

এম.তাজুল ইসলাম, সারিয়াকান্দি, বগুড়াঃ
বগুড়া সারিয়াকান্দির মোঃ মতিনুর রহমান ওরফে মতিন সদ্য প্রকাশিত ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছেন।

৩০ জুন বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) ৩৮ তম বিসিএস পরীক্ষার চুড়ান্ত ফলাফলে তাঁর সুপারিশপ্রাপ্তের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাঁর এমন সাফল্যের খবর জানার পর পরিবার-সমাজ, বন্ধু-বান্ধবসহ গ্রামবাসী সকলের মাঝে খুশির আমেজ বিরাজ করছে!

মতিনুর উপজেলার ১২নং ভেলবাড়ী ইউনিয়নের জোড়গাছা নতুন পাড়া গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান।
বাবা মোঃ আব্দুল হালিম ফকির পেশায় একজন কৃষক। মা মোছাঃ মিনু বেগম একজন গৃহিনী। বাবা-মায়ের ছয় সন্তানের মধ্যে মতিনুর কনিষ্ঠ। তাঁর এক বড় ভাই ও চার বোন রয়েছে।

তাঁর শিক্ষা জীবন শুরু হয় জোড়গাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। ২০০৪ সালে প্রাথমিক শিক্ষা জীবনের ইতি টানেন তিঁনি।

মাধ্যমিক শিক্ষা জীবন শুরু হয় নিজ গ্রামের জোড়গাছা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় নামক এক প্রতিষ্ঠানে। ২০০৮ সালে অষ্টম শ্রেণি থেকে বিশেষ মূল্যায়ণ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করেন। এরপর থেকে তাকে আর পিছনের দিকে তাকাতে হয়নি। ভাই-বোন ও বাবা-মা’র অনুপ্রেরণা তাঁকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে উৎসাহীত করেছে। ছাত্র হিসাবে মতিন খুব মেধাবী ও ভদ্র ছিল।

একজন ভাল ছাত্র হিসাবে তাঁর যতটুকু গুণাগুণ থাকার দরকার ছিল তাঁর ভিতর তা পরিলক্ষিত। বন্ধু-বান্ধব, শিক্ষকদের সাথে সদা হাস্যজ্জলভাবে কথাবার্তা বলা ছিল তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

২০১০ সালে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেন। লাভ করেন ডাচ্ বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের শিক্ষা বৃত্তি।

২০১২ সালে বগুড়া সরকারি শাহ সুলতান কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সেখানেও জিপিএ-৫ এর পাশাপাশি লাভ করেন ইমদাদ সিতারা খাঁন শিক্ষা বৃত্তি।

২০১২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে ৪৮৯তম স্থান নিয়ে ইলেকট্রিকাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক বিভাগে ভর্তির সুযোগ লাভ করেন। সেখানে সফলতার সাথে ভর্তি নিশ্চিতের পর যেনো শুরু হয় এক নতুন জীবন! করতে হয়েছে অনেক সংকল্প, পারি দিতে হয়ে অনেক উৎরাই। অনার্স পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেন এবং মাষ্টার্সে বিভাগের মধ্যে ফাস্ট ক্লাস সেকেন্ড হন।

বর্তমানে তিনি ঢাকা সাভারে পরমাণু শক্তি কমিশন শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসাবে কর্মরত আছেন।

তাঁর সাফল্যের গল্পের বিষয়ে জানতে চাইলে তিঁনি ” দৈনিক দৃষ্টি প্রতিদিন” কে জানান, জীবনে কোনো কিছু অর্জনে পরিবার-সমাজ আমাদের প্রতিবন্ধকতা নয়, বরং নিজের মনোবলের প্রতিবন্ধকতায় হলো সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা। কাজেই আমরা যদি মন থেকে প্রতিবন্ধতা নামক রোগটিকে গোলা টিপে হত্যা করতে পারি, তাহলে ইনশাআল্লাহ্ সকলেই সকলের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পৌঁছাতে পারব। জাতিকে নতুন কিছু উপহার দিতে পারব। আমি আমার সাফল্যে বাবা-মা কে উৎসর্গ করছি। ভাই-বোনদের অনুপ্ররেণা আর ভালোবাসা আমাকে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *