দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধিতে রিপোর্ট প্রদানের বিলম্বতাও কম দায়ি নয়!

এম. তাজুল ইসলাম:
সারাবিশ্বের মানুষ এখন বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯ মোকাবেলার মাধ্যমে এক বিশেষক্লান্তিময় সময় পার করছেন। মানবজাতির উপর থেকে এর প্রভাব চিরবিদায় দিতে উন্নত রাষ্ট্রগুলোর চিকিৎসকরা বিভিন্ন উপায় খুঁজছেন। বাংলাদেশেও থেমে নেই এর চুলছেঁড়া পরিশ্রম। তারপরেও থেমে নেই এ ভাইরাসের মরণ থাবা! এ থাবায় সারাবিশ্বের ন্যায় প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথেসাথে লাশের সারিতে যুক্ত হচ্ছে আরও নতুন নতুন নাম। যা জাতীয় অর্থনৈতীতে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। আর এখনই এ সমস্যার উত্তরণ না করা গেলে আমাদের বাঙ্গালী জাতি হিসাবে চরমমূল্য দিতে হবে।

২৯ জুন দুপুর ১টায় উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে এ ভাইরাসে সারাবিশ্বে আক্রান্ত হয়েছে ১কোটি ১লক্ষ ৪৫হাজার ৯’শ ৪৭জন, সুস্থ হয়েছেন ৫১লক্ষ ৪০ হাজার ৯’শ ৮৭জন, আর মৃত্যু বরণ করেছে ৫লক্ষ ১হাজার ৮৯৮জন।

আর বাংলাদেশ গত তিন মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১লক্ষ ৩৭ হাজার ৭৮৭ জন, সুস্থ হয়েছে ৫৫ হাজার ৭’শ ২৭জন এবং মৃত্যু বরণ করেছেন ১ হাজার ৭’শ ৩৮ জন।

অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশে এ আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির অনেকগুলো কারণ পরিলক্ষিত। এগুলোর মধ্যে সাস্থ্যবিধি সম্পর্কে আমাদের উদাসীনতা, কর্মতৎপরতার অভাব, পোশাক শিল্প কারখানাসহ সকল কর্মস্থানে নিরাপত্তারসহিত কর্মপরিবেশ সৃষ্টির উদাসীনতা, লকডাউন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্যর্থতা, হাসপাতালগুলোতে অপর্যাপ্ত পিসিআর ল্যাব স্থাপন ও নমুনা সংগ্রহের বুথের অভাবসহ আরও অন্যতম কারণ হচ্ছে সংগৃহীত নমুনার ফলাফল বা রিপোর্ট দেরিতে প্রকাশ করা। আর এটি থেকে বের হয়ে আসার জন্য আমাদের উত্তরণের পথ খোঁজতে হবে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে বৃদ্ধি করতে হবে পিসিআর নতুন ল্যাব, গ্রাম-ওয়ার্ড পর্যায়ে ক্যাম্পিংয়ের মাধ্যম নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থাসহ বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে পরীক্ষার ফি বাবদ ৩,৪০০ কমিয়ে এনে শতভাগ ব্যক্তির পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই হয়তো বা আমরা এ জাতীয় সমস্যা থেকে বেড়িয়ে আসতে পারব।
আমাদের দেশে সাস্থ্যবিধি মেনে না চলার কারণ ছাড়াও দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম আরও একটি প্রধান কারণ হচ্ছে কোভিড-১৯ শনাক্তের রিপোর্ট বা ফলাফল প্রকাশে বিলম্বনা।

হ্যাঁ, কথাটি আমার দৃষ্টিকোণ থেকে শতভাগ সত্যিই দাবি করছি।

ধরুন, আমার শরীরে বেশ কয়েকদিন যাবৎ সর্দি-জ্বরসহ বেশ কয়েকটি করোনার উপসর্গ বিরাজ করছে। কিন্তু আমি খেটে খাওয়া মানুষ, আমার পরিবারের অবস্থাও তেমন ভালো না, যেন নুন আনতে পান্তা ফুরায়!
একবেলা উপর্জন না করলে পরেদিন পরিবারের সকল সদস্যদের অনাহারে থাকতে হয়। এজন্য আমাকে ওই অসুস্থ শরীরেই উপার্জন করতে অন্যের দ্বারস্ত হতে হয়। কিন্তু স্বদিচ্ছা না থাকলেও হচ্ছিও তাই।
কিন্তু ভিতরে একটু সচেতনতাবোধ থাকায় শরীরের ভিতরে রোগের উপসর্গগুলো আমাকে প্রতিনিয়ত ভাবাচ্ছে, আমি কী করছি? এবং পরে সচেতনতাবোধ থেকেই হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষা করাতে যাচ্ছি।

সেখানে গিয়ে অনেক প্রতিকূলতা পেরিয়ে নমুনা দিতে সক্ষমও হচ্ছি। পরদিন আবার জীবনযুদ্ধে ওই অসুস্থ শরীরেই উপায় না পেয়ে পরিবারের লোকদের মুখে একমুঠো ভাত তুলে দিতে পূণরায় কাজ শরু করে দিচ্ছি। পরিবার-পরিজনকে সময় দিয়েছি। হাটেবাজারে ঘুরে বেড়িয়েছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় তিন-পাঁচদিন এমন এক পাক্ষিক অতিবাহিত হলেও রিপোর্ট আসছে না।

এদিকে রিপোর্ট না পাওয়ায় রোগ নির্ণয়ও করতে পারছি না। নিতে পারছি না কোনো চিকিৎসা! তবে হ্যাঁ, সেই রিপোর্ট হাতে পেলাম ষোল দিনের মাথায়। আবার ফলাফলও আসলো পজেটিভ! প্রমাণিত হলো শরীরে বাসা বেধেছে মরণঘাতি করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯।

এখানেই কথা থেকে যায়, যেখানে আমার শরীরে ষোল দিন আগে রোগ বাসা বেধেছে। সেখানে আমার করণীয় কি ছিল? তাহলে বিগত এ কয়দিনে আমার সংস্পর্শে আসা লোকদের এখন কী অবস্থা, তারা কী আমার দ্বারা আক্রান্ত হননি? যদিও ভাইরাসটির উপসর্গগুলো বাহিরের লোক উপলব্ধি করতে পারেনা। হয়তো বা তাদের পরীক্ষার আওতায় আনলে তাদের শরীরেও ভাইরাসটি ধরা পরবে।

আর যদি রিপোর্টটি প্রতিদিনের ন্যায় প্রতিদিনই পাওয়া যেত, তাহলে সাস্থ্যবিধি মেনে চিকিৎসা গ্রহণ করা যেত। অন্যান্যদের সাথে অবাধ মেলামশা রোধ করিয়ে কমিয়ে আনা যেত আক্রান্তের সংখ্যা।

লেখকঃ এম. তাজুল ইসলাম
সাধারণ সসম্পাদক,
“সচেতন নাগরিক কমিটি”
জোড়গাছা, সারিয়াকান্দি, বগুড়া।
Mobile No: 01741-455581
Email: itazul121@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *