মানবেতর জীবন যাপন করছে কেজি স্কুলের শিক্ষকগন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা

জিয়াউদ্দিন লিটন:
কিন্ডারগার্টেন বা কেজি স্কুল সারা বিশ্বেই সর্বজনগৃহীত একটি নাম। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারনে সরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত সংখ্যক শিক্ষার্থীদের স্থান সংকুলান না হওয়া অথবা অনেকাংশে পরিবেশগত কারনে এবং শিক্ষিত বেকার সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে অবদান রাখার তাগিদেই হয়তো এই কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর জন্ম হেয়েছে এবং এর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে সরকারও এই প্রতিষ্ঠাগুলোর অনুমোদন দিয়ে আসছেন। আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি সরকারের প্রতি। বেসরকারি এই প্রতিষ্ঠানগুলো সন্দেহাতীতভাবে দেশের শিক্ষা খাতে বড় ধরনের অবদান রাখে।
অনুমোদনপ্রাপ্ত এবং অনুমোদনহীন অবস্থায় দেশে প্রায় ১ লাখ কিন্ডারগার্টেন স্কুল রয়েছে।
সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি এই ব্যক্তিমালিকানাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সকল শ্রেণীর ১ থেকে দেড় কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। সেই সাথে দেশের প্রায় ১২/১৩ লাখ শিক্ষিত বেকার যুবক, যুবতির কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে, লেখা পড়ার মানকে অনেক উঁচুতে নিয়ে গেছে এসব কিন্ডারগার্টেন বা বেসরকারি স্কুলসমূহ। কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষকগনের পরিবার অনেকাংশে কিন্ডারগার্টেন স্কুলের আয়ের উপর নির্ভরশীল। প্রতিটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল যেন কয়েকটি
পরিবারের আয়ের উৎস ও জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রস্থল।

বাংলাদেশে অবস্থিত কিন্ডারগার্টেন স্কুলের অধিকাংশ শহরাঞ্চলে অবস্থিত হবার কারনে আয়ের পুরোটাই আসে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি থেকে। বিগত ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে মহামারীর কারনে সরকারী নির্দেশে জনস্বার্থে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে, বন্ধ রয়েছে টিউশন ফি আদায়, সেই সাথে বন্ধ রয়েছে শিক্ষকগনের বেতন। এসকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের আয়ের অন্যতম একটি উৎস হলো প্রাইভেট টিউশন। যেটি বর্তমানের করোনা পরিস্থিতির কারণে বন্ধ রয়েছে মাসের পর মাস।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে, ‘করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলো খোলা হবে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ। এদিক থেকে খেয়াল করলে বোঝা যায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ কবে খুলবে তার কোনো নির্দিষ্ট সময় আমাদের জানা নেই। তার পরেও ধরে নিচ্ছি সেপ্টেম্বরে খুলতে পারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ! যদি তাই হয়, তাহলে আরো অপেক্ষা করতে হবে ৩ মাস। এর থেকে ¯পষ্ট হয়ে যায় যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ বন্ধ থাকবে প্রায় ৬ মাস বা ততোধিক যদি না করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক কিংবা নিয়ন্ত্রন না হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে করোনা পরিস্থিতি একেবারে নিমূল হবে না।
এমতাবস্থায়, প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা কর্মচারীরা সাধারণ ছুটির আওতায় থেকেও বেতন পাচ্ছেন,যারা অফিসে কাজ করছেন তারা অনেকেই পাচ্ছেন তিনমাসের সমান প্রণোদনা, কোভিড-১৯ আক্রান্ত হলেই প্রনোদনা পাচ্ছেন,সরকারী শিক্ষকগন নিয়মিত তাদের বেতন বোনাস পেয়ে যাচ্ছেন।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকগন বেতন পাচ্ছেন, বোনাস পাচ্ছেন।সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনানুযায়ী করোনাভাইরাসের কারণে অনির্ধারিত বন্ধে সংকটে পড়া দেশের আট হাজার ৪৯২টি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ননএমপিও ( বেতনবাবদ সরকারি টাকা পান না) ৮০ হাজার ৭৪৭ শিক্ষককে পাঁচ হাজার টাকা করে অনুদান দিচ্ছে সরকার। আর ২৫ হাজার ৩৮ জন কর্মচারী পাবেন আড়াই হাজার করে টাকা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহ¯পতিবার জানিয়েছে, এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ‘বিশেষ অনুদান’ এর খাত থেকে ৪৬ কোটি ৬৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেশের সব জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে বরাদ্দ দিয়েছেন। এখন তালিকার ভিত্তিতে জেলা প্রশাসকেরা এই টাকা সংশ্লিষ্ট ননএমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের অনুকূলে চেক বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে চলতি জুন মাসের মধ্যে বিতরণ করবেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, একবার ভেবে দেখুন,দোকান খুলে রুজী করছে দোকানি,বাজারে মাছ,গোস্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দেদারছে বিক্রি করে তারা রুজী করছে, রিক্সা,ভ্যান,অটো রিক্সা, বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন চালিয়ে তারা তাদের রুজি করছে,গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি, মিল কারখানা সবই চলছে তাদের রুজীর তাগিদে অথচ কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষকগণ ক্রমাগত অনাহারে বা অর্ধাহারে থেকে শুধু সাবান দিয়ে হাতই ধুয়ে যাচ্ছেন। ৩০ টি রোজার পর ঈদ এসেছিলো প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য
সকল কর্মকর্তা কর্মচারীগন তাদের সন্তানদের জন্য নতুন পোশাক কিনেছেন কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষকগনের সন্তানেরা দূর থেকে তাকিয়ে সে সৌন্দ্রর্য উপভোগ করেছে, পাশের বাড়ীতে তারা পোলাও কোর্মা রান্না করেছে, কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষকগনের সন্তানেরা দূর থেকে তার ঘ্রাণ
নিয়েছে। এখনো তাদের বাড়ীতে চিকন চাউলের ভাতের সাথে মাছ-গোস্ত রান্না হয় আর
কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষকগনের সন্তানেরা মোটা চাউলের ভাত আর ডালের নিশ্চয়তা পায় না।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষকগনতো এদেশেরই নাগরিক। অন্যন্য নাগরিকের মতো তার রয়েছে নাগরিক অধিকার ভোগ করার। একমাত্র আপনিই পারেন সে অধিকার নিশ্চিত করতে। আপনার কাছে অভাবগ্রস্থ সুবিধাবঞ্চিত কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষকগনের আবেদন, তারা তাদের স্ত্রী সন্তানদের মুখে তিন বেলা খাবার তুলে দিতে চায়, নিজেরা শিক্ষকের মর্যাদা নিয়ে বাচতে চায়।
জিয়াউদ্দিন লিটন সাংবাদিক এবং কলামিস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *