টোল বন্ধের দাবীতে পৌরমেয়রের কুশপুত্তলিকা দাহ

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ॥ টোলের নামে হয়রানি আর চাঁদাবাজি বন্ধের দাবীতে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র মির্জা ফয়সল আমিনের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়েছেন ঠাকুরগাঁও ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন। মেয়র বলেছেন, এটা তো চাঁদাবাজি নয়, সরকারি নিয়মে হাটবাজারের মতো টেন্ডার করে ইজারা দিয়ে টোল আদায়ের কার্যক্রম, এটা সব পৌরসভারই নিয়মিত আয়। আমাদেরকে এটা বন্ধ করার জন্য যদি চাপ দেয়া হয় তবে পৌরসভা চলবে কি করে?

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঠাকুরগাঁও ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা শহরের চৌরাস্তায় বিক্ষোভ চলাকালিন সময়ে পৌর মেয়রের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।

বক্তারা বলেন, এই করোনা কালে সারা দেশের শ্রমিকদের মত ঠাকুরগাঁয়ের ইজিবাইক শ্রমিকরাও চরম অভাব দুর্দশার মধ্যে দিনাতিপাত করছে । দুই মাস লকডাউনে গাড়ি চালাতে না পেরে ব্যাটারি ড্যামেজ হয়েছে, ঋণ করে সংসার চালাতে গিয়ে ঋণগ্রস্থ হয়েছে । এখন কিছুটা যানবাহন চলাচল করলেও আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে । এইরকম অবস্থায় যখন শ্রমিকদের খেয়ে বাঁচাটাই কঠিন হয়ে পড়েছে তখন ঠাকুরগাঁও পৌরসভা আবার নতুন করে এই অর্থবছরে ২০২০-২০২১ ইজিবাইকে টোল ধার্য করা মরার উপরে খরার ঘা এর মতো অবস্থা দাড়িয়েছে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এই টোল ইজারায় যতটা না পৌরসভা আয় করে তার থেকে ৫০ গুন বেশী আয় করে টোল আদায়কারীরা । গত অর্থবছর ২০১৯-২০২০ সালে পৌরসভা ৪ লক্ষ টাকায় ইজারা দিয়েছিল আর আদায়কারী আয় করেছিল প্রায় ২ কোটি টাকা । তাদের মতে এখন পৌরসভা লাইসেন্স ও টোল ইজারা বাবদ প্রায় ১৭ -১৮ লক্ষ টাকা আয় করে অথচ সমপরিমাণ টাকা পৌরসভা বর্তমান লাইসেন্সের সংখ্যা দুই হাজার থেকে বাড়িয়ে তিন হাজারে উন্নীত করতে পারলেই আয় করতে পারে ।

বিক্ষোভ কর্মসূচীর অংশ হিসেবে পৌরসভা ঘেরাও কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি মনসুর আলী, ঠাকুরগাঁও ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাহাবুব আলম রুবেল, সাধারণ সম্পাদক আবু আসলাম লাবুসহ অন্যান্য ইজিবাইক শ্রমিকগণ।

এসময় পৌর টোলের নামে চাাঁদাবাজি বন্ধ না হলে এই ইজিবাইক শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে হুশিয়ারি আসে কর্মসূচী থেকে।

ঠাকুরগাঁও পৌর মেয়র ফয়সাল আমিনের সাথে মুঠোাফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আন্দোলনকারীরা তাদের দাবী নিয়ে পৌর মেয়রের কাছে কখনো আসেননি, আর তারা রেজস্টার্ড ইউনিয়নও নয়। তাদেরকে পৌরটোল বন্ধের ব্যাপারে আশ্বাস দেয়ার প্রশ্নই আসেনা। তিনি আরও বলেন টোল আদায় না করলে পৌরসভার সেবা কার্যক্রম কীভাবে চলবে।

উল্লেখ্য, শ্রমিকদের উপর পৌর টোলের নামে চাঁদাবাজি ও ইজিবাইক শ্রমিকদের উপর সকল প্রকার নির্যাতন বন্ধের দাবিতে ঠাকুরগাঁও ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের ব্যানারে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলো স্থানীয় ইজিবাইক শ্রমিকরা। তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও চৌরাস্তায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ কর্মসূচীর অংশ হিসেবে পৌরসভা ঘেরাও কর্মসূচী পালন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *