রাজশাহী থিয়েটার এবং কচিপাতা থিয়েটারের একজন কর্ণধার তাজুল ইসলাম

নজরুল ইসলাম তোফা:
গণ মানুষের মনে জেগে উঠার স্বপ্নমালার মতো এক রহস্যের বহু দিনের ‘নাট্যানুভূতির অনামা কুসুম’। বাস্তবের চেয়েও স্বপ্নের দিকেই এশিল্পের ঝোঁক- ‘কিছু মানুষের হৃদয়ে অধিকতর’। স্বপ্নকে বাস্তবে রূপায়িত করবার জন্যেই নাট্য জগতের আলো-আঁধারি মাখা সিঁড়ির দিকে চেয়ে থাকে, এই শিল্প তাঁদের কখনো ডাকে আবার কখনো ডাকেই না। কারো কপালেই ডাক আসে অহরহ, ডেকে ডেকে কখনো ক্লান্ত হয় আর কেউ একবারও ডাক পায় না। কি যে, অধীর আগ্রহে থাকেন অবিরাম একটিবার ডাক শোনার জন্য। এমন স্বপ্নটা কি কখনো পুরন হবেনা তাঁদের। সে যেন তাঁর নিজের মতো করে সদা সর্বদাই স্বপ্নটাকে উপজীব্য করে নাট্য শিল্পের স্বরূপ অন্বেষণের চেষ্টার পাশাপাশি নানা ভাবে বিশ্লেষণ প্রেক্ষাপট বিবেচনা সহ নাট্যমঞ্চের কাজকর্মে গুরুত্বপূর্ণ সময় দিয়ে যাচ্ছেন। সে ব্যক্তিটার কালপরিক্রমায় বয়স হলেও যেন মনে বয়স হয়নি। তিনি বলেন,- এই পৃথিবীর সব আলো এক দিন নিভে গেলে পরে, পৃথিবীর সব গল্প একদিন ফুরাবে যখন, মানুষ রবে না আর, রবে শুধু এই মানুষের স্বপ্ন তখন। তিনি সৃজনে-উপলব্ধিতেই কতখানি সার্থক তাও হতে পারে এ লেখার উপজীব্য বিষয়। তাঁর পরিবারের কথা একটু বলে রাখি দুই ছেলে ও দুই মেয়ে, ছেলেদের নাম মার্শাল ও দীপু এবং মেয়েদের দুটির নাম আইভি ও অসমিতা। আর তাজুল ইসলাম এর একমাত্র গৃহিনী- সহধর্মিণী মোছা: আবিদা মোর্শেদ। তাঁর বাবা-মা অনেক আগে পরলোক গমন করেছেন। বাবার নাম মৃত গাউস আলী, মাতা: মৃত জুলেখা বেগম। এই সৃজনশীল শিল্পমনা খুবই সরল ও সাদা মনের মানুষটিরর জন্ম হয় রাজশাহীর ‘বহরমপুর’ এবং বর্তমান ঠিকানা রাজশাহীর ‘বোস পাড়া’।

রাজশাহীর নাট্যচর্চা নিয়ে এখানকার সংস্কৃতিমনা মানুষ অবশ্যই গর্ব করতেই পারে। আর বর্তমানের নাট্যাঙ্গনের কথা বলতে গেলে অতীতের স্মৃতি একবার আলোচনায় আনতেই হয়। অতীত সবসময়ের জন্য বর্তমানকে শক্তি জোগায় এবং ভবিষ্যতের স্বপ্নও দেখায়। তাই অভিজ্ঞতা অভিব্যক্তির সম্মিলিত উপস্থাপনের সাথেই যে প্রতিভাত হয়ে নানানমুখী শিল্পে পরিগণিত হয়েছে যাপিতজীবনে।তিনিই একজন নাট্যঅভিজ্ঞ এবং নাট্যজন মোঃ তাজুল ইসলাম। চীরসবুজ কিংবা তারুণ্যের প্রতীক রাজশাহীর সকল মানুষের পরিচিত মুখ তাজুল ইসলাম,- ‘রাজশাহী থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা পাশাপাশি ‘কচিপাতা থিয়েটারের প্রতিষ্ঠা’। এই চীরশিশু মানুষটি যেন সদা সর্বদাই থাকেন খুব হাস্যোজ্জ্বল চেহারায়। তাঁর কথাবার্তাতে আছে যেন বিনয়ের ছোঁয়া। এ মানুষটি ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়’ এর নাট্যকলায় সেরা সম্মাননা, রাজশাহী জেলার ‘শিল্পকলা একাডেমী’ থেকেও সম্মাননা পেয়েছেন। তাছাড়া বিভিন্ন জেলার নাট্যাঙ্গন থেকেও তাঁকে অনেক সম্মাননা প্রদান করে থাকেন। পাওয়া, আর না পাওয়ার মধ্যেই আক্ষেপ নেই তাঁর। তিনি নাটক ভালোবাসেন, নাটক নিয়েই সারা জীবন থাকতে চান। আনন্দঘন মূহুর্ত তাঁর এজীবদ্দশায় অনেক এসেছে। তিনি নিজে পথেই চলেন। ইউরিপিডিস একজন গ্রীক নাট্যকার বলেছিলেন যে, ‘জ্ঞানী মানুষেরা নিজের পথেই চলেন’। তাঁর কথার সাথেই- “মোঃ তাজুল ইসলাম” এর মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

খুব অল্প বয়স থেকেই নাট্যজগতের কর্মের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। ‘অভিনয় এবং থিয়েটার’ নিয়েই যেন মাতামাতি করার পারিপার্শ্বিকতা তাঁর পরিবার তথা সমাজের নানা অভিভাবকদের অনেক প্রশ্রয় ছিল। ছোট, বড় নাটক বা গম্ভীরা, কবিতা, গানসহ নৃত্যকলার বিষয়ে লেখালেখির হাতও তাঁর অনেক ভালো। ‘নাটক’ নির্মাণের প্রয়োজনটা বোধ করতে শুরু করেছিল যেন ‘উত্তর কৈশোরে’। তখন মঞ্চাবতরণের ঝোঁকটা যেন শুধুমাত্রই বিনোদনিত হবার আকাঙ্ক্ষার মধ্যে তরঙ্গতুলে, তাতো তাঁর কখনোই যেন সমাপ্ত হতো না, মঞ্চায়ন বা অভিনয় তখন মনের মধ্যেই অত্যাগহন এক বেদনার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে চলতে ছিল। তখন তাঁর মনে হতে শুধু করেছে নিজস্ব এক ‘থিয়েটার’ করতে না পারলে এই জীবন যাপিত হবে কোন উপায়ে? তাই তো তিনি শুধু করেছিলেন রাজশাহী থিয়েটার। এর পরে তাঁর মনে হয়েছিল শিশুকিশোররাও তো নাট্যচর্চার জায়গা খোঁজে, তাই তিনি প্রতিষ্ঠা করে ছিল’ “কচিপাতা থিয়েটার”। কচিপাতা থিয়েটারকে ২০০০ সালের দিকেই প্রতিষ্ঠিত করে আজ অবধি রাজশাহী সব শ্রেণীর শিশু- কিশোরদের মনের মাধুরী দিয়ে সংস্কৃতির শাখাপ্রশাখায় প্রবেশ করিয়ে থাকেন।

শ্রদ্ধেয় মোঃ তাজুল ইসলাম, নাট্যচর্চার অবক্ষয়ের চরম সীমায় মশাল ধরেছিলেন। চীর প্রাচীন রাজশাহী বিভাগ এর সাংস্কৃতিক সংঘের একটি ‘পদ্মা মঞ্চ’, সেখানে তিনি অনেক নাটকে অভিনয় সহ নির্দেশনার পাশা পাশি নাট্য পরিবেশ সৃষ্টি করেছিলেন। মঞ্চ হব- মঞ্চায়ন করব- এই রকম ভাসাভাসা কিন্তু অতি তীব্র এক স্রোতের টানে সে সময় ভাসতে শুধু করেছিলেন। তবুও তিনি তলিয়ে যায় নি, আজ অবধি হাল ধরেই আছেন। শিকড় ছাড়া যেমন গাছ বাঁচে না। তেমনি তিনি হচ্ছেন শিকড়ের এক তেজি পুরুষ। রাজশাহীর সংস্কৃতিমনা মানুষদের অবশ্য গর্বের পুরুষ। রাজশাহী শহরভিত্তিক নাট্যচর্চার প্লাটফর্ম বলতে ‘রাজশাহী থিয়েটার’ একটি উল্লেখযোগ্য নাম। থিয়েটার ১৯৮৫ সালেই জন্ম হয়। এখন পর্যন্ত বহু মঞ্চনাটক এবং পথনাটক প্রযোজনা করে যাচ্ছেন মোঃ তাজুল ইসলাম আর অভিনয় করেছেন অনেক নাটকে। তাঁর হাত ধরেই অনেক তরুণ প্রজন্ম অভিনয়, নির্দেশনা দেওয়ার শিক্ষা নিয়ে নাট্যাঙ্গনের খুব বড় পরিসরেই কাজ করছেন। তা ছাড়াও তিনি শিশু-কিশোরদের হাতে খড়ি দিয়ে যাচ্ছেন সেই কচিপাতা থিয়েটারে।

 

রাজশাহী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। সেখানে তিনি প্রতিনিয়ত নাট্যকর্মীদের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখার সহিত উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। তিনি না থাকলে যে আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়না। এই নাট্যজন রাজশাহীর গর্বিত পুরুষ বা উজ্জ্বল নক্ষত্র। ভারতবর্ষের নাট্যচর্চা ও তৎপরবর্তী পাকিস্তান পর্বের নাট্য চর্চার পরে এই স্বাধীন বাংলাদেশের নাট্যচর্চার ক্ষেত্রেই “রাজশাহীর সাংস্কৃতিক অঙ্গন” যেন অন্য এক রূপ ধারণ করে। যাঁরা এই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিল তাঁদের মধ্যে অনেকেই আজ বেঁচে নেই। কিন্তু বেঁচে আছে তাঁদের সৃষ্টি। তমধে ‘মোঃ তাজুল ইসলাম এর নাম উঠে আসে। “বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন” এর সঙ্গে জড়িত আছেন। বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের দুইবার তিনি নির্বাচিত কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্য, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার এর সাবেক সমন্বয়কারী নাট্যজন তাজুল ইসলাম। তিনি নানাভাবেই যেন সকল অপশক্তি রুখে দিতে, শোষণ মুক্ত সমাজ বা অসাম্প্রদায়িক স্বদেশ গড়ে তুলতেই নাট্যচর্চাকে আরও গতিশীল করার প্রত্যয় সবসময়ে ব্যক্ত করেছেন খুব দৃঢ় চিত্তে।

বঙ্গবন্ধু চত্বর আলুপট্টিতে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা, এরপর মুনস্ গার্ড পার্ক বড়কুঠি মুক্তমঞ্চ, লালন মঞ্চ ও রাজশাহী শহরের ঐতিহ্যবাহী “পদ্মা মঞ্চ” সহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ অডিটরিয়ামে তাঁর পদচারণা নাহলে যেন নাটক পরিবেশন হয় না। তা ছাড়াও তো- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন সহ রাকসু ভবনে যেসব আলোচনা, নাচ-গান কিংবা আড্ডা চলে সেসব জায়গায় উপস্থিত থেকে নাট্য অতিথি হয়েই শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান ও বিনোদনের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি হয়ে থাকেন। রাজশাহীর নাট্য কর্মী-সাংস্কৃতিক কর্মীদের ”বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি কিংবা বাংলাদেশ শিশু একাডেমি”র মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি না হলে অনুষ্ঠান চলেই না। সত্যি বলতে কি রাজশাহী সিটি করপোরেশনে নানা সময় চলে সিটি মেয়র নাট্য উৎসব। সেই নাট্য মঞ্চটাকে সঠিকভাবে নির্মাণ সহ নাটক মঞ্চায়নের উপযোগী করা থেকে ‘শুরু কিংবা শেষ’ করা পর্যন্ত তাঁর অবদান থাকে।না হলেই রাজশাহীর সাংস্কৃতিকচর্চার মান সত্যিই অনন্য রূপ নেয় না বলেই সবার বিশ্বাস। এই জীবদ্দশায় এতো কিছু করার পরেও এ মানুষটি কখনো- সখনো হয়ে যান অসুস্থ। তবুও প্রানের জায়গাটিই হলো: নাট্যাঙ্গন। জানা যায়, অসুস্থতা যখন খুব বাড়ে তখন লান্সে ইনফেকসান ধরা পড়ে। উচ্চতর চিকিৎসার জন্যে তাকেই তাড়া তাড়ি ভারতে নিতে হয়েছিল। শ্রদ্ধেয় ‘তাজুল ইসলাম’ ভাইয়ের সার্টিফিকেট জন্মগ্রহনে তারিখ যেন ১৯৪৬ সালে। এমন আবির্ভাব দিবসকে ঘিরে অনেক সময়েই কেক কেটে ও ফানুস উড়িয়ে থাকে। সবাই তাঁকে নিয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য সহ অভিন্দন জানিয়ে থাকে। সেখানে তাঁকে ঘিরেই যেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সংগ্রামী জননেতা সভাপতি এবং সিটির সকল জনতার জনপ্রিয়, মাননীয় মেয়র- জনাব এ. এইচ. এম. খাইরুজ্জামান লিটন। তাঁর পাশাপাশি এ মহানগরের আওয়ামীলীগের সহসভাপতি রেণী ভাবি। তাঁর জন্মগ্রহণের দিনে আরো অনেকে যেন উপস্থিত থাকার চেষ্টা করেন। ”রাজশাহী থিয়েটার”- এর প্রতিষ্ঠাতা হওয়ার জন্যই উনিই সেখানে অনেক বিখ্যাত হয়েছেন। রাজশাহী থিয়েটার এর নাট্যকর্মীদের সহ তাঁর কচিপাতা থিয়েটারের কর্মীরাও খুব ভোর হওয়ার সাথে সাথেই সকল শিশু, কিশোর, যুবককেরাও তাঁকে নিয়েই শুভ জন্মদিন পালন করেন। সেখানে রাজশাহী শহরের কিংবা রা.বি কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোটভুক্ত সংগঠনের নেতা কর্মী’রা উপস্থিত থেকে সারাদিন নাটক-গান-নৃত্য- গম্ভীরা গানের বিভিন্ন আয়োজন করেন। সেই আমন্ত্রণে উপস্থিত হওয়া সবাই তাঁর ‘দীর্ঘায়ু কামনা’ করে থাকেন। সংগঠনের নিবেদিত প্রাণ নাট্যজন: তাজুল ইসলাম এর ফুসফুসে আক্রান্ত হয়ে থাকলেও যেন প্রাণচ্ছল মানুষটি আরও সতেজ হয়ে উঠেন, যখনই এক পাল থিয়েটারের বন্ধুরা বা সহ-কর্মীর এসে খোঁজ খবর নেয়। যাঁরা সাহস জোগালেন তাঁরা বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের “সভাপতি মন্ডলীর সদস্য জনাব কাজী সাইদ হোসেন দুলাল, ইলা মিত্র অঞ্চলের সমন্বয়কারী মশগুল হোসেন ইতি, পুঠিয়া থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক: সাগর কুমার, রাজশাহী থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক নুর আলম প্রমুখ”।

পরিশেষে বলতে চাই যে এমন তারুণ্যের প্রতীক, শিকড় সংস্কৃতির প্রাণপুরুষ ব্যক্তিটিকেই ঢাকা থেকে কারগাড়ি নিয়ে শুধুমাত্র তাঁকে দেখার জন্যেই- এ তরুণ প্রজন্মের ‘নাট্যকার ও পরিচালক শিমুল সরকার’ যখন এসে ছিল ঠিক তখনই শ্রদ্ধেয় শিমুল সরকার ভাই আমাকে ডেকে ছিলেন। আমি সেখানেই উপস্থিত হয়েছিলাম।

নাট্যকার ও পরিচালক শিমুল সরকার তাঁকে বলেছিলেন তাজুল ভাই প্রস্তুতি নেন, আমি আপনাকে আমার নিজের লেখা ও পরিচালনা একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করার সুযোগ দিবো। তখন শ্রদ্ধেয় তাজুল ভাই যে কি খুশি, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আবার আমিও কোনো এক সময়েই নাট্যকার ও পরিচালক শিমুল সরকার এর কথার ফাঁকেই বলা যায় কানে কানে বলেছিলাম তাজুল ভাই আপনাকে নিয়ে একটা খুববড় লেখা প্রকাশ করার ইচ্ছা আছে। উনি বললেন যে, তথ্য চাও তো ঠিক আছে আমার ফেসবুকেই পাবে। অনেকদিন পরে হলেও উনার কথা ও স্মৃতিকথা আলোচনায় নিয়ে আসার যতসামান্য প্রচেষ্টা মাত্র।

লেখকঃ
নজরুল ইসলাম তোফা, টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *