ঠাকুরগাঁওয়ে হাত-পা বেঁধে দুই শিশুকে নির্যাতনকারী ইউপি সদস্য র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে মোবাইল চুরির অপবাদ নিয়ে দুই শিশুকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করার মামলায় প্রধান আসামী ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। মামলার অপর আরেক আসামী জিয়াবুল (৫৬)কে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।

রোববার (১৪ জুন) বিকাল সাড়ে ৬ টার দিকে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ কামাল হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, গত ৫ জুন সুমনের মা শরিফা খাতুন পীরগঞ্জ থানায় মোবাইল চুরির অপবাদ নিয়ে দুই শিশুকে নির্মমভাবে মধ্যযুগী কায়দায় হাত-পা বেঁধে মারপিট করার অভিযোগ করলে আমরা তদন্তকার্য চালিয়ে যাই। এর প্রেক্ষিতে এ পর্যন্ত অভিযুক্ত জিয়াবুল ইসলাম ও ইউপি সদস্য জাহিরুল ইসলামকে আটক করে কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে। এসময় তিনি শিশুদের হাত-পা বেঁধে মারপিট করার ঘটনাকে ঘৃন্যতম বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরও জানান বাকি আসামীদের ধরার চেষ্টা অব্যাহত আছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওসি ডিবি রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল আবু তাহের মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, ডিআইও(১) নাজমুল আলম, প্রেসক্লাবের সভাপতি মনসুর আলীসহ সাংবাদ কর্মীরা।

এদিকে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে নির্যাতিতদের সাথে দেখা করেছেন জেলা প্রশাসক ড. কেএম কামরুজ্জামান সেলিম

মামলার বিবরণে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে মোতালেব আলী তারই প্রতিবেশী গৃহবধূ সরিফা খাতুনকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এতে সাড়া না দেওয়ায় চুরির অপবাদ দিয়ে গত ২২ মে স্থানীয় ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম, মোতালেব আলীসহ আর ৭ জন মিলে গৃহবধুর ছেলে শিশু সুমন (১৩) ও তার ভাতিজা কমিরুল ইসলাম (১৬) কে আটক করে। এরপর তারা এক সালিশ বৈঠকের আয়োজন করে। সালিশে হাত-পা বেঁধে ওই দুই শিশুকে মারপিট করে ইউপি সদস্যসহ তার সহযোগীরা এবং মারপিটের সেই চিত্র ক্যামেরায় ধারণ করে। পরে ভিডিও চিত্র গৃহবধূ সরিফা খাতুনকে দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে ইউপি সদস্য ও তার সহযোগীরা মিলে সরিফা খাতুনকেও মারপিট ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। পরে গৃহবধূর বাড়ি থেকে একটি গরু নিয়ে যায় তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *