সুন্দরগঞ্জ আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তার ব্যাপক দুর্নীতি

আবু বক্কর সিদ্দিক, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা গোলজার হোসেনের বিরুদ্ধে উৎকোচ গ্রহণ করাসহ ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা গোলজার হোসেন যোগদানের পর বিগত উপজেলা পরিষদের সাধারণ নির্বাচনে প্রত্যেকটি কেন্দ্রে দায়িত্বে নাম অন্তর্ভূক্তি করার লক্ষ্যে সদস্যগণের কাছ থেকে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভা আনসার ও ভিডিপি দলপতি ও দলনেত্রীগণের মাধ্যমে উৎকোচ গ্রহণ করেন। একই কায়দায় পরবর্তীতে দুর্গা পূজায় পূজামন্ডপগুলোতে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও আনসার ও ভিডিপি সদস্যগণের কাছ থেকে উপঢৌকন গ্রহণ করেছেন। এছাড়া, একটি ফৌজদারী মামলায় বিজ্ঞ আদালতের বাদীপক্ষের দায়েরকৃত নারাজী তদন্তে দায়িত্ব পাওয়ায় বাদীপক্ষে ১ লাখ টাকা উৎকোচ দাবী করেন। বাদী কাজল রানী সরকার দরিদ্র প্রকৃতির হওয়ায় ৮০ হাজার টাকা প্রদানে সম্মতি দিয়ে ৫০ হাজার টাকা বুঝে দেন। এরপর তদন্তকারী কর্মকর্তা (উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা)- গোলজার হোসেন বাকী ৫০ হাজার টাকার জন্য অত্যন্ত চাপ সৃষ্টি করলেও তাঁর দাবীকৃত টাকা না দেয়ায় অপরপক্ষের চুক্তি মোতাবেক উৎকোচ গ্রহণ পূর্বক পক্ষপাত অবলম্বন করে বিজ্ঞ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এতে বাদীপক্ষের মারাত্মক ধরণের অপূরণীয় ক্ষতির কারণ দেখা দিয়েছে বলে বাদী কাজল রানী সরকার জানান। তিনি আরও জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তা গোলজার হোসেনের দাবীকৃত ১ লাখ টাকার মধ্যে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন। কিন্তু, তিনি পুরো ৫০ হাজার টাকা না দিয়ে মাত্র ৩০ হাজার টাকা লোক মাধ্যমে ফেরৎ দেন। অপর ২০ হাজার টাকা এখনো ফেরৎ দেননি। এ টাকা লেন-দেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টগণ জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তা (উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা) কর্তৃক বাদীপক্ষের আরজী বর্ণিত অভিযোগ মর্মে বিজ্ঞ আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নামে গৃহীত ৫০ হাজার টাকার মধ্যে ৩০ হাজার টাকা ফেরৎ দিলে অপর ২০ হাজার টাকা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এ নিয়ে তিনি একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রধানের নিকট মৌখিক অভিযোগ উত্থাপন করায় ঐ প্রতিষ্ঠানের প্রধান সে বরাত দিয়ে ঐ শিক্ষককে প্রথমবারের মতো কৈফিয়ত তলব করেছেন। এব্যাপারে মোবাইল ফোনে কয়েক দফা যোগাযোগের পর শুক্রবার (২২ নভেম্বর) উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা (তদন্তকারী কর্মকর্তা) উল্টোভাবে বলেন- ‘বাদীপক্ষ আমাকে বেকায়দায় ফেলিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন তাদের পক্ষে নেয়ার চেষ্টা করেন। পারিবারিক ও জমি-জমা বিষয়ে বাদীপক্ষ ও বিবাদীপক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির মধ্য দিয়ে এ মামলা হয়েছিল’। তিনি আরো জানান- বিজ্ঞ আদালতে মামলাটির প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। একই সঙ্গে তিনি অন্যত্রে বদলী নিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *