ঠাকুরগাঁওয়ে হাট ইজারাদারের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ ! ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক !

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : করোনার প্রার্দূভাবে মানুষ যখন দিশে হারা। এক মুঠো খাদ্যের জন্যে রাস্তা অবরোধ করছে। ঠিক সেই সময়ে মুনাফাখোর অসাধু ব্যাক্তিরা অবৈধ ভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এমনি ঘটনা ঘটেছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড়খোঁচাবাড়ি হাটে। মালামাল জিম্মি করে সরকারের নির্দেশনাকে তোয়াক্কা না করে নিজেদের নিয়ম তৈরী করে দ্বিগুণ হারে টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইজারাদারের বিরুদ্ধে। প্রশাসনকে জানিয়েও সুরাহা মিলছে না বলে অভিযোগ ক্রেতা-বিক্রেতাদের।
ভুক্তভোগীরা জানায়, জেলার হাট-বাজার গুলোতে সরকারের দেয়া নির্ধারিত চার্ট অনুযায়ী টোল আদায় না করে দ্বিগুন হারে টোল আদায় করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টো লাঞ্চনার শিকার হতে হয়। শহরের তেলীপাড়ার ইব্রাহীম আলী জানায় বড়খোচাবাড়ি হাটে একটি গরু কিনলে ইজারাদারকে (হাসিল) দিতে হয় ৩৬০ টাকা। কিন্তু রশিদ দেয় ২২০ টাকার। বাকী টাকার রশিদ চাইতে গেলে লাঞ্চনার শিকার হতে হয়। তিনি আরও বলেন বিষয়টি নিয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়কে জানিয়েছি। কই তিনি তো কোন প্রদক্ষেপেই নিলেন না। তাহলে প্রশাসন কি জিম্মি হয়ে গেছে। মাদারগঞ্জ থেকে গরু কিনতে আসা নারায়ন চন্দ্র বলেন দেশটাতে অরাজোকতা শুরু হয়েছে। একদিকে করোনা ভাইরাস অপরদিকে মালিক পক্ষের চেপে দেয়া নিয়ম সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করে ফেলেছে। একই কথা বলেন সালন্দর থেকে আসা আনোয়ার, আল-মামুন ও রবিউল ইসলাম।
শেনুয়াপাড়া এলাকার রবিউল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন একটি ছাগল কিনলে ইজারা দিতে হয় ১৫০ টাকা। কিন্তু রশিদ দেয় ৯০ টাকার। ৬০ টাকার কোন রশিদ দেয়া হয় না। বিষয়টি নিয়ে কথা বললে উল্টো ইজাদারের লোকেরা দূরব্যবহার করে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন এই দিন ডাকাতি নিয়ন্ত্রনের কেউ নাই।
বড়খোচাবাড়ী এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানায় হাট কমিটির সাথে জড়িত আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী ও যুবলীগ বাহিনী। কেউ কিছু বলতে চাইলেও তারা পারেন না। অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অংশ অদৃশ্য শক্তির কাছে যায় বলে জানান তিনি। জগন্নাথপুর কালিতলা এলাকার কৃষক প্রেমানন্দ জানায় আমরা কৃষক মানুষ। ফসলের দাম পাইনা। আবার বাজারে বেঁচতে আসলে অতিরিক্ত টোল দিতে হয়। হাটে সকল পন্য কেনা-বেচার ক্ষেত্রে একই ঘটনা ঘটছে বলে জানায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা।
হাট ইজারাদার গনেশ চন্দ্র এ প্রসঙ্গে কোন কথা বলতে রাজি হননি। উল্টো তিনি বলেছেন গড়েয়াসহ অন্য হাট গুলোতে আরও বেশী টোল আদায় করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন বিষয়টি দেখছি। এব্যাপারে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *