শেরপুরে স্বামী পরিত্যক্তাকে ধর্ষনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ ব্যবস্থা না নেয়ায় সংবাদ সম্মেলন

স্টাফরিপোর্টার:
বগুড়ার শেরপুরে স্বামী পরিত্যক্তাকে ধর্ষনের ঘটনায় থানা পুলিশে অভিযোগ দেয়ার ১৬দিন অতিবাহিত হলেও বিচার না পেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে ধর্ষিতা। ধর্ষনের ঘটনাটি গত ২৯ এপ্রিল বুধবার রাত অনুমান ১২টার দিকে উপজেলার চৌবাড়িয়া গ্রামে স্বামী পরিত্যক্তার পিতা গোলাম রব্বনীর বাড়ীতে ঘটেছে।
এ ঘটনায় ১৯ মে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে শেরপুর উপজেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন স্বামী পরিত্যক্তা ধর্ষণের শিকার এক সন্তানের জননী মমতা খাতুন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ধুনট উপজেলার তারাকান্দি গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে মানিক মিয়া বর্তমানে ১৪/১৫ বছর যাবত তার শ^শুড়বাড়ী চৌবাড়িয়া বসবাস করে ট্রাক কিনে ব্যবসা করে আসছে। এদিকে মমতা খাতুন গত ৫মাস আগে স্বামী পরিত্যক্তা হয়ে পিতার বাড়ীতে বসবাস করে আসছিল। সেজন্য ওই স্বামী পরিত্যক্তা সুন্দরী মমতার উপর নজর পড়ে লম্পট মানিক মিয়ার। তিনি মমতাকে দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের প্রলোভন ও কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। কিন্তু তার প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় মানিক মিয়া গত ২৯ এপ্রিল বুধবার গভীর রাতে মমতার শয়ন ঘরের দরজা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে জোরপূর্বক মুখে কাপড় চেপে এবং ধারালো চাকু দিয়ে হত্যার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে। বিষয়টি জানাজানি না করতে মমতাকে তার ট্রাক গাড়ি লিখে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দ্রত পালিয়ে যায় ধর্ষক। পরবর্তীতে ঘটনাটি মমতা তার বাবা-মা ও আত্মীয় স্বজনদের বিস্তারিত জানায় এবং গ্রাম্য মাতব্বর একই ইউনিয়নের সদস্য খলিলুর রহমান ও পুটু মিয়াসহ কয়েকজন মাতব্বরদের কাছে ধর্ষকের বিরুদ্ধে বিচার চায়। এতে গ্রাম্য মাতব্বররা শালিশী বৈঠকের নামে কালক্ষেপন করায় গত ৩ মে রাতে ধর্ষক মানিক মিয়াকে আসামী করে শেরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
এর প্রেক্ষিতে থানা পুলিশের এসআই আজাহার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও লিখিত অভিযোগের ১৬দিন অতিবাহিত হওয়ার পরেও ধর্ষকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন। তাছাড়া ধর্ষক মানিক মিয়া এলাকায় একজন প্রভাবশালী লোক হওয়ায় এবং শহরের কতিপয় নেতাদের সাথে সখ্যতায় থাকায় তার বিরুদ্ধে অজ্ঞাত কারণে কোন আইনী ব্যবস্থা নিতে পারছেনা পুলিশ। এমন ঘটনায় ধর্ষকের নানা ভয়ভীতিতে জীবন শংকায় রয়েছেন বলে ভূক্তভোগী মমতা জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *