সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসক না পেয়ে ভ্যানের উপর সন্তান প্রসবের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

এস,এম,হাবিবুল হাসান :
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসক না পেয়ে ভ্যানের উপর শিমুলী রাণী দাসী নামে এক গৃহবধুর সন্তান প্রসবের ঘটনায় অবশেষে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।গঠিত কমিটি রিপোর্ট দেয়ার পর ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বাস দেন সিভিল সার্জন ডা.মোহাম্মদ হুসাইন সাফায়াত।

সোমবার(০৪ মে)দুপুরে সরেজমিনে গৃহবধুর মায়ের বাড়ি সদরের পৌর শহরের কাটিয়া লস্কর পাড়া ঝুটিতলা গ্রামে যেয়ে ভুক্তভুগির কাছে শুনে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়।

শিমুলি দাসীর মা অষ্টমী দাসী জানান,সদর হাসপাতালে জরুরি বিভাগে অনেক ডাকাডাকি করার পরও কেউ বেরিয়ে আসেনি। তারা আমাদের নানা প্রশ্ন করে।যা আমাদের মত মানুষে উত্তর দেওয়া সম্ভব না।আমার মেয়ের প্রথম সন্তান অনেক ঝুকি আর কষ্ঠের মধ্যেই হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সন্তান প্রসব হওয়ার পর তখন ভর্তি নেয়ার জন্য আমাদের কে বলা হচ্ছিল। কিন্তু আমরা আর ভর্তি হয়নি।

সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুসাইন সাফায়াত ঘটনার শুনে হতবাক হয়ে বলেন, আপনার কাছে ফুটেজ থাকলে আমাকে দেন। ওই ফুটেজ দেখে এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তারপর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য,গত ১ মে সকালে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের বাইরেই এই ঘটনা ঘটে।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের অভাবে হাসপাতালের বাইরেই ভ্যানের উপরেই সন্তান প্রসব হল এক গৃহবধুর। এসময় অনেকেই দাঁড়িয়ে প্রত্যক্ষ করলেও বিয়ষটি নিয়ে কেউ কথা বলেননি। এই ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হলে এটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে।

চিকিৎসকদের না পেয়ে সঙ্গে থাকা লোকজন ভ্যানের উপরেই কাপড় ঘিরে ডেলিভারি করায় ওই বধূর। সদর উপজেলার পৌর শহরের কাটিযা লস্কর পাড়া ঝুটিতলা ঋষিপাড়া এলাকার বাসিন্দা ওই গৃহবধূ। অবশেষে হাসপাতালের বাইরেই ডেলিভারি হওয়ার পর আর হাসপাতালে ভর্তি না করেই বাড়িতেই চলে গেলেন তারা।

এসময় হাসপাতালের জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. অসীম সরকারের সাথে গত দুইদিন তার ব্যক্তিগত সেলফোনে কল করে রিসিভ না হওয়ায় কথা বলা সম্ভব হয়নি বা কেন হাসপাতালের বাইরে সন্তান প্রসব হল তা জানা যায়নি।

এরআগে তারা শহরের বিলাস বহুল দুটি ক্লিনিকে গেলেও সেখানেও তাদের ভর্তি নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন শিমুলির বাবা সদর উপজেলার কাটিযা লস্কর ঝুটিতলা গ্রামের বাসিন্দা পরেশ দাস ও তার স্ত্রী অষ্টমী দাসী। তারা এই ন্যাক্কার জনক ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনারও দাবী জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *