বগুড়ার নন্দীগ্রামে আমন ধান কাটামাড়াই শুরু কৃষকের ঘরেঘরে নবান্ন উৎসব

বগুড়া প্রতিনিধি ঃ
বগুড়ার নন্দীগ্রামে উৎসব মুখর পরিবেশে আমন ধান কাটামাড়াই শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি কৃষকের ঘরেঘরে চলছে নবান্ন উৎসব। সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা আমাদের বাংলাদেশ। এ দেশের কৃষকদের সোনালী স্বপ্ন হচ্ছে ধান। ধানের রঙ সোনালী তাই ধানকে সোনালী ফসল বলা হয়ে থাকে। বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলাকে খাদ্য শস্যভান্ডার হিসেবে গণ্য করা হয়। এ উপজেলার ফসলী জমিতে উর্বরশক্তি অনেকটা বেশি। সে কারণে এ উপজেলায় বছরে ৩ বার ভালোভাবে ধানের চাষাবাদ করা সম্ভব হয়। এর পাশাপাশি রবিশস্যরও চাষাবাদ করা হয়ে থাকে। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। চলতি আমন মৌসুমে নন্দীগ্রাম উপজেলায় ১৯ হাজার ১ শ’ ১৮ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা হয়। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৩ হাজার ৮শ’ ৬২ মেট্রিকটণ ধান। উপজেলায় ব্রিধান-৪৯, ব্রিধান-৩৪ ও কাটারিভোগসহ বিভিন্ন জাতের ধানের চাষাবাদ করা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন মাঠের ফসলী জমির চিত্র অনেকটা ভালো লক্ষ্য করা যায়। ফসল উৎপাদনের কারিগর হিসেবে খ্যাত উপজেলা কৃষি অফিসার মশিদুল হক বলেছে, ধানের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে আমরা মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক কাজ করে আসছি। কৃষকদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছি। তাই এবারো আমন ধানের ফসলী জমির চিত্র অনেকটা ভালো রয়েছে। তাই এবারো আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধানের বাম্পার ফলন হলে কৃষকরা সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়। এ উপজেলার কৃষকদের উৎপাদিত ধান দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। কৃষকরা ধানের ন্যায্যমূল্য পেলে বেশি খুশি হয়ে থাকে। উপজেলার চাকলমা গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন ঠান্ডু বলেছে, আমাদের মাঠে আমন ধান কাটামাড়াইয়ের কাজ পুরোদমে চলছে। বর্তমান ধানের বাজার মূল্যে কৃষকরা খুশি নয়। বিআর-৪৯ জাতের ধান ৭৬০ থেকে ৭৮০ টাকা মণ দরে বিক্রয় হচ্ছে। কাটারিভোগ ৮৮০ থেকে ৯০০ টাকা মণ দরে বিক্রয় হচ্ছে। নন্দীগ্রাম সদরের কৃষক আখতার হোসেন সুমন জানিয়েছে, আমাদের মাঠেও আমন ধান কাটামাড়াইয়ের কাজ পুরোদমে চলছে। আমি বিআর-৪৯ জাতের ধানের চাষাবাদ করেছি। ধানের বর্তমান বাজার মূল্যে আমরা খুশি না। আমাদের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। সে তুলনায় ধানের দাম বাড়লে ভালো হয়। ধানের বাজার মূল্যে কৃষকরা তেমন খুশি না থাকলেও ঐতিহ্যবাহী নবান্ন উৎসব করতে পিচ পা হয় না। এ এলাকার কৃষকরা ধুমধামে নবান্ন উৎসব করে থাকে। নবান্ন উপলক্ষ্যে গরু, মহিষ, খাসির মাংস ও বড়বড় মাছ দিয়ে খাবার আয়োজন করে থাকে। পাশাপাশি নতুন চালের পিঠা-পায়েস তৈরি করা হয়। খেংসর গ্রামের কৃষক কামাল হোসেন জানিয়েছে, এখন আমাদের এলাকায় নবান্ন উৎসব চলছে। এ উৎসবে জামাই-ঝি ও আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াত করে খাওয়ানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *