সাতক্ষীরার শ্যামনগরে উপকুল রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙ্গন

এস,এম,হাবিবুল হাসান :
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরাকে ঘিরে থাকা ১৫ নম্বর পোল্ডারের উপকুল রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। কয়েকটি পয়েন্টে সংস্কার কাজ চলমান থাকা অবস্থায় নাপিতখালী ও জেলেখালী অংশে বাঁধের ফাটল মারাত্বক আকার ধারন করেছে। নদীতে জোয়ার বৃদ্ধিসহ ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে ভাঙ্গনমুখে বসবাসরত পরিবারগুলো চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

রবিবার(২৬ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়,শ্যামনগর উপজেলার গাবুরার নাপিতখালী এলাকায় উপকূল রক্ষা বাঁধের প্রায় দুইশত ফুট এলাকাজুড়ে ফাঁটল মারাত্বক আকার ধারন করেছে। জায়গা বিশেষ ফাটল এক ফুটেরও বেশি দৃশ্যমান হয়েছে। পাশের কপোতাক্ষ নদীর চর ভেঙ্গে যাওয়ায় ক্রমেই ফাঁটল আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। ভাঙ্গনমুখে বসবাসরত পরিবারগুলো রীতিমত আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
এছাড়াও জেলেখালী এলাকার বাঁধ ড্যাম হয়ে যাওয়ায় নদীর পানির ঢেউয়ের আঘাতে প্রায় ২শ মিটার জায়গাজুড়ে উপকুল রক্ষা বাঁধ সরু আইলে পরিণত হয়েছে। যেকোন মুহূর্তে এসব অংশের বাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে গোটা ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ার শংকা তৈরী হয়েছে।
ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তাব্যক্তিরা ভাঙ্গন কবলিত অংশ পরিদর্শন সত্ত্বেও অদ্যবধি ভাঙ্গন ঠেকানোর উদ্যোগ না নেয়ায় স্থানীয়রা আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বলে দাবি করেছে।

শ্যামনগর উপজেলার নাপিতখালী গ্রামের আব্দুর রহমান জানায়, তার বাড়ির পাশ থেকে জনৈক আব্দুল গফুরের বাড়ি পর্যন্ত ফাটল পাউবোর কর্তারা স্বচক্ষে দেখে গেছে। কিন্তু দুই সপ্তাহ পরেও ভাঙ্গন ঠেকানোর কোন উদ্যোগ না নেয়ায় তিনিসহ আশপাশের প্রায় বিশটি পরিবার চরম ভাঙ্গন আতঙ্কে দিন পার করছে।

একই এলাকার ইব্রাহিম ও ইসমাইল গাজীর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে নাপিতখালী এলাকায় ফাঁটল দেখা দেয়া বাঁধে কাজ না করা হলে যেকোন সময়ে গোটা গাবুরার ৪২ হাজার মানুষ পানিতে তলিয়ে যেতে পারে।

ফজলুল হক ও আমিনুর রহমানসহ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, আইলার পর কোন মতে সংস্কার করা হলেও টেকসইভাবে বাঁধ মেরামত হয়নি। তাছাড়া পাশের কপোতাক্ষ এবং খোলপেটুয়া নদীর চর ভেঙ্গে যাওয়ায় সংলগ্ন অংশের বাঁধ জীর্নশীর্ন হয়ে গেছে। সময়মত মাটির কাজসহ জিও ব্যাগ ‘প্লেসিং’ না করার কারনে এসব জায়গার বাঁধ ভাঙতে শুরু করেছে। অতিসত্ত্বর জিও ব্যাগ ‘প্লেসিং’ এর পাশাপাশি নদীর স্রোস্তের গতিপথ পরিবর্তনে কৌশল নির্ধারণের দাবি জানায় একাধিবার ভাঙ্গনে সর্বস্ব হারানো এসব ব্যক্তি।

স্থানীয় চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম বলেন, আইলার পর বিধ্বস্থ উপকূল রক্ষা বাঁধ গত কয়েক বছরে মারাত্বক অবস্থায় পৌছেছে। হঠাৎ করে নদীতে জোয়ার বৃদ্ধিসহ ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার ৪২ হাজারেরও বেশি মানুষ উদ্বেগ উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। জরুরী ভিত্তিতে ভাঙ্গন কবলিত অংশ মেরামত করার উদ্যোগ নেওয়া না হলে আইলার সময়কার মতো ভয়ংকর পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হতে পারে।

নাপিতখালীর ভাঙ্গন ভয়ংকর পর্যায়ে পৌঁছে জানিয়ে সংশ্লিষ্ট পোল্ডারের দায়িত্বে থাকা সেকশন অফিসার সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, গাবুরার খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ৭ টি পয়েন্টে জিও ব্যাগ ‘প্লেসিং’সহ মাটির কাজ শুরু হয়েছে। তবে নাপিতখালী ও জেলেখালী অংশের বাঁধের ভয়াবহতার বিষয়ে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই ভাঙ্গন কবলিত উক্ত দুটি অংশ মেরামত জরুরী হয়ে পড়েছে বেলও তিনি মন্তব্য করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *