আমার দেখা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন

এসএম আমিনুল মোমিন ঃ
৭১’এর সেই টগ বগে যুবক যার চোখে শুধুই যৌবনের গান , চোখে প্রেম-ভালবাসা নিজ গ্রামের মেঠোপথ ই তার শেষ ঠিকানা। সে শুধুই ভাবে আগামি দিনের কথা। ঘরে তার একদমই মন বসেনা।অনেকটাই উড়নচন্ডি সভাবের।একটা কল্পনার আমেজে-আবেগে ভরা তা দেহ, মন।হঠাৎ তার কানে ভেসে এলো বঙ্গবন্দুর শেখ মুজিবের ৭ইমার্চের ভাষন।এক নতুন চিন্তা তার মনে জ›ম নিল,দেশকে বাচাতে হবে,মা-বোন দের ইজ্জত রক্ষা করতে হবে। পরাধিনতার হাত থেকে মুক্তি নিতে হবে। বঙ্গবন্ধুর কথাগুলো ভাবতেই দেশের প্রতি প্রেম গভীর ভালবাসা জন্ম নেয় তার মনে।

আর পিছে ফিরে যাবার কোন সুযোগ,সময় নেই,শুরু হলো এক নতুন কল্পনা যে ভাবেই হোক দেশমাকে বাচাতেই হবে। শুরু হলো পাক-বাহিনির সাথে জীবন যুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ শেষে অনেক সহ যোদ্ধাই জীবন নিয়ে বাড়ি ফেরেনি,কেউ ফিরেছে মা’য়ের কোলে পঙ্গুত্ব বরন করে,কেউবা আবার ফিরেছে মুক্তিযোদ্ধা হয়ে।এযেন যুদ্ধ শেষ হয়েও হইলোনা শেষ জীবনের যুদ্ধ। ৩০লক্ষ্য শহীদের বিনিময়ে স্বাধীন হলো বাংলাদেশ।তার পরেও ঘরে মন বসেনা কি যেন নাই নাই ভাব।যে সকল বন্ধু সহযোদ্ধারা শহীদ হয়েছেন,তাদের কথা মনে হলে শরীর শিউরে ওঠে,খত বিক্ষত হয়ে যায় মন।চোখে ভেসে ওঠে শহীদ বন্ধুর আর্তনাদ।

কারোবা আবার ৭১’এর যুদ্ধের শব্দ আজো কানে ভেসে আসে।বলে জীবনের যুদ্ধ শেষ হয়নি আজো,এভাবেই মনে মনে নানা কথা ভেবেই এখনও অনেকে সংসার বাধেনি।অনেকের সংসারে প্রতি নেই কোন মনোযোগ। অগোছালো জীবনের প্রতিনিয়ত লেগে থাকে অভাব,অশান্তি,নেই নিজের বাড়ী ঘর,বসতভিটা….।

তারপরেও এখনও মুক্তিযোদ্ধাদের ডাকে বা সমাজের,সংগঠনের প্রয়োজনে কোন ক্রুটি থাকেনা তার অথচ বাড়িতে তার মন একদম বসে না। আজো যায়নি তার বাউন্ডে সভাব। সমাজের কাজের অগ্রতি থাকলে ও নিজেরূ পরিবারের চলা-বলা-অভাব উৎপেরন কোন কিছুতেই মনোযোগ নেই তার। জীবনটা অগোছালো হওয়ার কারনে আজও তারা অনেকের আছে অবহেলিত।অথচ কেউই কখনও জানতে চায় না কি সেই কারন কেন তার এই অবস্থা।
অর্থা অভাবের কারনে পরিবারের লোকজনও তারপ্রতি তেমন সন্তোষ্ট নয়।আফসছ যে বাঙ্গালি জাতির জন্য জীবন বাজি রেখে তিনি যুদ্ধে গিয়ে ছিলেন তাদের কাছেই সে অবহেলিত। স্বাধীনতার ৪০ বছরেও তারা অবহেলিত,কাদের জন্য তার এই অবস্থা।এভাবেই চলে বাউন্ডেলে অনেক মুক্তিযোদ্ধা জীবন। যারা আমাদের জন্য জীবন বাজি রেখে,দিয়ে গেছে পরাধিনতা থেকে মুক্তি,স্বাধীন বাংলাদেশ,বাংলা ভাষা। বাঙ্গালীর অহংকার। এটাই কি তার অপরাধ…? এমনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।

সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর থানার বিলদরিয়া গ্রামের বাসিন্দা বর্তমানে বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর মদনপুর গ্রামের এস,এম আমির হোসেন,বাংলাদেশ রেলওয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক,সৈয়দপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ,এর ডিপুটি কমান্ডার,মির্জাপুর ইউনিয়ন কমান্ডার ছিলেন। আজকের এই দিনে ১৬ নভেম্বর ২০০৯ ইং তারিখে সে মৃত্যু বরন করেন। মৃত্যু কালে তিনি সহধর্মীসহ ৪কন্যা বিবাহিত ও ২পুত্র সন্তান যার ১জন প্রতিবন্দি রেখে যান।

অথচ স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরে এসে বেধে দেওয়া নিদ্রিষ্ট ফরম পুরন করে প্রমান করতে হচ্ছে আসলে মুক্তিযোদ্ধা কিনা বা কেমন মুক্তিযোদ্ধা। এরকম মুক্তিযোদ্ধা ও পরিবার গুলোর অধিকাংশই এখন দাবি আমরা সরকারী ভাতা পাওয়ার জন্য যুদ্ধে যাই নাই।এমন কলঙ্কের চেয়ে বন্ধ করে দেওয়া মুক্তিযোদ্ধা ভাতা।মুক্তিযোদ্ধা কোঠা। তবুও রাজনৈকিত বিশ্লেষনে মুক্তিযোদ্ধাদের বারবার যাচাই বাছাই চাই না।ভালো থাকুক দেশ ভালো থাকুক দেশের মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *