বগুড়ার হাসপাতালের করোনা কোভিট-১৯ জয় করে বাড়ী ফিরলেন রংপুরের শাহ আলম

রাজিবুল ইসলাম রক্তিম:
অবশেষে নভেল করোনা ভাইরাস(কোভিড-১৯) বিজয়ী রংপুরের শাহ আলম (৫৫)কে ফুলেল শুভেচ্ছায় ছাড়পত্র দিলেন বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে চিকিৎসক,সেবীকা সহ সংশ্লিষ্টরা । গত প্রায় ২৬ দিন যাবত শুক্রবার বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটের ডাক্তার, নার্স,পুলিশ ও মিডিয়া কর্মিদের নিরলস চেষ্টায় করোনাকে হার মানিয়ে তিনি নিজ বাড়ীতে ফিরে গেলেন।
শাহ আলমের বাড়ী উত্তরের বিভাগীয় শহর রংপুরের ধাপ এলাকায়।
শুক্রবার বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের করোনা আইসোলেসন ওয়ার্ড থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো হয় তাকে। এসময় তার সাথে ছিলেন তার প্রানপ্রিয় স্ত্রী সাজেদা বেগম(৪২)। যিনি স্বামীর অসময়ে তার পাশে থেকেছেন সারাক্ষন।
গত প্রায় ২৭ দিন আগে ২৯মার্চ তারিখ রাতে কর্মজীবী শাহ আলম ঢাকা থেকে কর্মহীন হয়ে অন্যদের সাথে একটি ট্রাকে করে ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিলেন। ভোর রাতে শাহ আলমকে বহনকারী ট্রাকটি যখন মহাস্থান বন্দর এলাকায় পৌঁছে তখন তার কাশির ধরন দেখে করোনা রোগী ভেবে তাকে একরকম ট্রাক থেকে ধাক্কিয়ে নামিয়ে দিয়ে যাওয়া হয় ।
পরদিন সকালে শিবগঞ্জ থানার পুলিশ তাকে প্রথমে স্বাস্থ্য হাসপাতালে নিয়ে যায় ও পরে তাকে সেখান থেকে তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তাকে ভর্তি করা হয়।
শজিমেক হাসপাতালের চিকিৎসকরা পরদিন বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে স্থানান্তরিত করে।
সেখান থেকে তার তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে ,সেখান থেকে আসা ফলাফল আসে পজিটিভ।
তার শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়ায় বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের প্রাথমিক চিকিৎসাদানকারী ডাক্তার ও নার্স মিলিয়ে মোট ১৪ জনকে হোম কোয়ারান্টাইনে পাঠানো হয়।তার শরীরে করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯ এর পজেটিভ ছিল বগুড়ার প্রথম করোনায় আক্রান্ত ঘটনা।
এর পর মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে আইসোলেশন এদিকে ইউনিটে চলতে থাকে শাহ আলমের চিকিৎসা।
এদিকে কোয়ারান্টাইনে যাওয়া ডাক্তার নার্সদের ২ সপ্তাহের পর করোনা পরীক্ষার ফল যেমন নেগেটিভ আসলে সবার আতংক উৎকন্ঠা কেটে যায় । হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে , নমুনা পরীক্ষার রির্পোট নিয়ে একটু সন্দেহ দেখা দিলে প্রায় ৩দফায় শাহ আলমের নমুনা পরীক্ষা করা হয় ।
প্রায় ২৬ দিনের চেষ্টায় শাহ আলম সুস্থ্য হয়ে উঠলে এবং চুড়ান্ত পরীক্ষায় তার রিপোর্ট নেগেটিভ আসলে শুক্রবার তাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক(আরএমও) ডাঃ শফিক আমিন কাজল সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, শাহ আলমের সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরতে পারার ঘটনাটি সবার জন্য একটা শুভ সংবাদ।
এছাড়া বগুড়ায় আইসোলেশনে চিকিৎসা নেওয়া প্রথম ঘটনাও ছিল এটা। যা অন্য রোগী ও চিকিৎসায় সংশ্লিষ্ট সবার সাহস ও মনোবল বাড়িয়ে দেবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এক নজরে করোনা ভাইরাস সমপর্কে আপডেটে জানা যায় ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত বগুড়া জেলায় নারী শিশু সহ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন মোট ১৪জন।
শুক্রবার মোট ৩জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। সিরাজগঞ্জের দুই বছরের বাচ্চাকে শজিমেকে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আরএমও ডা. শফিক আমিন কাজল।
বগুড়া শহরের শৈলালপাড়ার মারা যাওয়া ব্যক্তিটির নমুনার ফলাফল এসেছে নেগেটিভ। ২৪ঘন্টায় বগুড়ায় নতুন করে ১১জন হোম কোয়ারেন্টাইনে গেছেন। এদের মধ্যে শিবগঞ্জে ৮জন ও সদরে ৩জন। গত ২৪ ঘন্টায় হোম কোয়ারেন্টাইন শেষ হয়েছে- ১৮জনের। এ যাবত বগুড়া জেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১৬২৪জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *