মহাদেবপুরে ধান কাটতে শ্রমিক সংকট আশার আলো দেখাচ্ছে কম্বাইন হারভেস্টার

মহাদেবপুর(নওগাঁ) প্রতিনিধি : বোরো মৌসুমে স্বাভাবিক সময়ে প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ শ্রমিকের সংকট থাকে। এবার করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে দেশের উত্তরাঞ্চলের খাদ্যভান্ডার খ্যাত নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় তীব্র শ্রমিক সংকট এর আশঙ্কা রয়েছে। এই সংকটে আশার আলো দেখাচ্ছে কম্বাইন হারভেস্টার (ধান কর্তন ও মাড়াই যন্ত্র)। যন্ত্রটির মাধ্যমে সাড়ে তিন হেক্টর জমির ধান একই সাথে কাটা, মাড়াই ও ঝাড়াই করতে দেড়শ শ্রমিক ও প্রায় ৫০ হাজার টাকা সাশ্রয় করতে পারে। শ্রমিক সংকট নিরসনের লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ছয় জন কৃষকের মাঝে ৫০ শতাংশ ভুর্তকি মূল্যে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। কৃষি যন্ত্রপাতিতে উন্নয়ন সহায়তা বাস্তবায়ন ও মনিটরিং সেল এর তত্ত্বাবধানে পরিচালন বাজেটের আওয়তায় ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে উন্নয়ন সহায়তার লক্ষে গত ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসব মেশিন বিতরন করা হয়।
এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষকদের হাতে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনের চাবি ও কাগজপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন নওগাঁ-৩ আসনের সাংসদ ছলিম উদ্দিন তরফদার সেলিম। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আহসান হাবিব ভোদন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান মিলন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অরুন চন্দ্র রায়, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তৌফিক আল জুবায়ের, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান অনুকুল চন্দ্র সাহা বুদু, এসিআই মটরস লিমিটেডের আঞ্চলিক প্রতিনিধি সুজন হোসেন, মহাদেবপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি গৌতম কুমার মহন্ত প্রমুখ।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অরুন চন্দ্র রায় বলেন, দীর্ঘায়তি হচ্ছে বর্তমানের করোনা পরিস্থিতি। ধান কাটার সময় শ্রমিকরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে পারে না। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা লকডাউন থাকায় শ্রমিকরা মহাদেবপুরে আসতে পারছে না। তাই শ্রমিক সংকট নিরসনের লক্ষ্যে কৃষি বান্ধব সরকার কৃষকদের পাশে রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ২৮ লক্ষ টাকা মূল্যের কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন ৫০ শতাংশ ভুর্তকি দিয়ে সরকার কৃষকদের পাশে দাড়িয়েছে। ফলে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি মোকাবেলা করেই এ উপজেলাসহ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি আরো বলেন, কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন প্রাপ্ত কৃষকের সাথে যোগাযোগ করে উপজেলার কৃষকরা স্বল্প খরচে ধান কাটা ও মাড়াই করার সুযোগ পাবেন।#

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *