ধুনটে তালিকায় নাম থাকলেও বীজ ও সার পায়নি শতাধিক কৃষক

ইমরান হোসেন ইমন, ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার ধুনটে তালিকায় নাম থাকলেও সরকারি কৃষি প্রনোদনার সার ও বীজ পায়নি ১০৫ জন কৃষক। তাই করোনা আতঙ্কের মধ্যেও সারাদিন অপেক্ষার পর হতাশাগ্রস্থ হয়ে খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে তাদের। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর কার্যালয়ের সামনে বীজ ও সার না পেয়ে ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের অর্ধশত হতদরিদ্র কৃষক এ অভিযোগ করেন।
জানাগেছে, আগামী মৌসুমে আউশ ধান ও গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কৃষি প্রনোদনা কর্মসূচির আওয়ায় পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নের ৮০০জন কৃষককে ৫ কেজি করে বীজ, ২০ কেজি ডিএপি সার, ১০ কেজি এমওপি সার এবং ১০ জন কৃষককে ২০০ গ্রাম পেঁয়াজের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার, ১০ কেজি এমওপি সার ও নগদ ৫৫০ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপকার ভোগি এসব কৃষকের তালিকা তৈরী করতে পৌর ও ইউনিয়ন কৃষি কমিটি গঠন করেন। কমিটিতে সংশ্লিষ্ট মেয়র/চেয়ারম্যান সভাপতি, কাউন্সিলর/মেম্বার সদস্য এবং একজন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই কমিটি কৃষি প্রনোদনা দিতে উপজেলার ৮১০ জন উপকার ভোগি কৃষক তালিকা চুড়ান্ত করেন। গত ১৯ এপ্রিল থেকে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কার্যালয়ে বীজ ও সার বিতরণ করা শুরু হয়। মঙ্গলবার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত ১০৫ জন কৃষকের মাঝে কৃষি প্রনোদনার বীজ ও সার বিতরণের কথা ছিল। কিন্তু কৃষকরা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের সামনে মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও বীজ ও সার পায়নি।
এবিষয়ে ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের ভুতবাড়ি গ্রামের কৃষক হাবিবর রহমান, পুকুরিয়া গ্রামের শামছুল হক, চাঁন মিয়া ও রঘুনাথপুর গ্রামের আমজাদ হোসেন সহ অর্ধশত কৃষক আপেক্ষ করে বলেন, আমরা গরীব মানুষ। তালিকায় আমাদের নাম থাকলেও সারাদিন না খেয়ে অফিসের সামনে অপেক্ষা করেও বীজ ও সার পাইনি। অফিসাররা তালিকা পরিবর্তন করার কথা বলে সবাইকে ফিরিয়ে দিয়েছে। তাই সবাইকে হতাশাগ্রস্থ হয়ে খালি হাতেই ফিরে যেতে হয়েছে।
এবিষয়ে ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুল করিম আপেল বলেন, প্রকৃত কৃষকদের তালিকা তৈরী করতে মেম্বার ও উপ-সকারী কৃষি কর্মকর্তার সাথে মাঠ জরিপ করে চুড়ান্ত তালিকা তৈরী করে কৃষি অফিসে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু কৃষকরা বীজ ও সার না পেয়ে ফিরে এসেছে।
এবিষয়ে ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশিদুল হক জানান, ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নে কৃষি প্রনোদনার বীজ ও সার বিতরণ করতে ইউনিয়ন কৃষি কমিটি ১০৫ জনের তালিকা চুড়ান্ত করেছে পাঠিয়েছেন। সেই তালিকা অনুযায়ি মঙ্গলবার বীজ ও সার বিতরণ করতে ওই ইউনিয়নের কৃষকদের আসতে বলা হয়েছিল। কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যান সাহেব ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নে বীজ ও সার বিতরণ বন্ধ রাখতে বলায় কৃষকদের ফিরে যেতে হয়েছে।
তবে এবিষয়ে ধুনট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই খোকন বলেন, ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের কৃষকদের তালিকা তৈরী করতে কিছুটা অনিয়নের অভিযোগ পেয়েছি। একারনে ওই ইউনিয়নে বীজ ও সার বিতরণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করে তালিকা যাচাই বাছাই করে পরবর্তীতে বিতরণ করা হবে।
এবিষয়ে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিয়া সুলতানা জানান, বীজ ও সার বিতরণের নির্ধারিত দিনে ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের তালিকা তৈরী নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একারনে কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। তাই তারা ফিরে গেছে। এবিষয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে তদন্ত করা হবে। তবে পরবর্তী তালিকা তৈরীতেও কতটুকু স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করতে নানাবিধ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। তাই কেউ অনিয়ন করলে তাকে কোন ভাবেই ছাড় দেয়া হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *