সাতক্ষীরার শ্যামনগরে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা শ্রমিকরা চরম দিনাতিপাত করছে

এস,এম,হাবিবুল হাসান :
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে করোনাভাইরাসের কারনে ফেরার পর থেকে দিন-রাত হোম কোয়ারেন্টিনে ঘরে কাটাচ্ছি। কোম্পানি টাকা না দেয়ায় শ্রমিক সর্দার বাকি টাকা দিচ্ছে না। চেয়ারম্যান মেম্বরের থেকে এখনও কোন সাহায্য পায়নি। বাধ্য হয়ে পাশের দোকান থেকে বাকি নিয়ে দিন পার করতি হচ্ছে। কর্মহীন হয়ে ঘরে আটকে থাকা শ্যামনগর কৈখালী ইউনিয়নের পূর্ব কৈখালী গ্রামের আব্দুল্লাহ গাজীর এমনই দাবি।

বরিশালের হিজলা এলাকার ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। করোনার কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়াতে সম্প্রতি সহযোগীদের সাথে তিনিও এলাকায় ফিরেছেন। অন্য জেলা থেকে আসায় ঘর ছেড়ে কাজের সন্ধানেও যেতে পারছে না।আছে হোম কোয়ারেন্টিন। ইটভাটার কাজ সম্পূর্ন করে না আসায় মালিক পক্ষ আপাতত বকেয়া টাকা দিচ্ছে না। এমতাবস্থায় চরম আর্থিক অনটনের মধ্যে দিন কাটানোর কথা জানালেন ছয় সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী আব্দুল্লাহ গাজী।

শনিবার(১৮ এপ্রিল) সকাল থেকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা বিভিন্ন জেলা থেকে আগতদের সাথে কথা বলে জানা যায়।

কেবল আব্দুল্লাহ নয়। শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট গ্রামের শাহাজান আলীর অভিযোগ একই।পাঁচজনের সংসার তাকে টানতে হয় জানিয়ে সদ্য বরিশালের ইটভাটা থেকে বাড়িতে ফেরা শাহাজান জানায়, ভিন্ন জেলা থেকে আসায় আপাতত হোম কোয়ারেন্টিনে ঘরে স্বেচ্ছাবন্দী। মালিক হিসাব শেষ না করায় সর্দারের কাছে পাওনা ২৫ হাজার টাকা আটকে গেছে। কাজ বন্ধ থাকার পর থেকে ধার দেনা করে সংসার চলছিল জানিয়ে তিনি আরো জানান, বাড়িতে ফেরার পর থেকে পাওনাদারের তাগাদা বেড়ে গেছে। এদিকে সরকারি কোন সহায়তা না পাওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে।

এমন দুর্দশা নেমে এসেছে উপকূলবর্তী শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন অংশে বসবাসরত হাজারও ইটভাটা শ্রমিকের পরিবারে। করোনাভাইরাসের কারনে দেশের বিভিন্ন অংশে ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে যাওয়ার পর সম্প্রতি তারা এলাকায় ফিরতে বাধ্য হয়েছে। মৌসুম শেষ না করার পাশাপাশি মালিকের সাথে শ্রমিক সর্দারদের হিসাব সম্পন্ন না হওয়ায় আটকে গেছে তাদের চুক্তির টাকা। এলাকায় ফিরেও তারা কাজের সুযোগ না পাওয়ার পাশাপাশি বঞ্চিত হচ্ছে সরকারি-বেসরকারি সাহায্য সহায়তা থেকে। ফলে সদ্য ইটভাটা থেকে ফেরা এসব শ্রমিক চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে।

উপজেলার ধুমঘাটের সাইফুল ইসলাম ও সালমা বেগমসহ কয়েকজন শ্রমিক জানান, জেলার বাইরের ইটভাটায় কাজ করতে যাওয়ায় সরকারি সহায়তার জন্য তৈরী তালিকায় তাদেরকে অর্ন্তভুক্ত করা হয়নি। সেকারণে শুরু থেকে তাদেরকে অদ্যাবধি কোন সহায়তা দেয়া হয়নি। এলাকায় ফিরে ঘরবন্দী হওয়ার পাশাপাশি কাজকর্মে যেতে না পারায় পরিবারের সদস্যরা নিদারুন খাদ্য সংকটে পড়েছে বলেও দাবি তাদের।

উপজেলার কালিঞ্চি গ্রামের আব্দুর রহিম, কাশিমাড়ির মোস্তাফাসহ অসংখ্য শ্রমিক জানায়, এক জেলার সাথে অপর জেলায় যোগাযোগ বন্ধ থাকায় চার পাঁচগুন বেশী ভাড়া গুনে লুকিয়ে এলাকায় ফিরতে হয়েছে। শ্রমিক সর্দার আর ভাটা মালিকরা ভাটার টাকা কেটে নেয়ায় বকেয়া পাওনা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায় অনাহারে অর্ধাহারে অনেকের দিন কাটছে বলেও তারা জানান।

শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল রহিম জানান, বাড়িতে ফেরার পর থেকে ইটভাটা শ্রমিকরা হোম কোয়ারেন্টিনে আছে। কাজের টাকা বকেয়া থাকার দরুন তারা চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *