ইটালির রোম শহরে যে ভাবে সময় কাটচ্ছেন বগুড়ার শাহিন রানা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
এটা বর্ননা করা সবথেকে কঠিন চার দেয়ালের ঘরে বন্ধি আছি আজ প্রায় ৪০ দিন |করোনা আক্রান্ত ইটালির রোম শহরে শাহিন রানা।তিনিজন্ম সুত্রে বাংলাদেশের বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার মিজাপুর গ্রামের বাসিন্দা।
তিনি দৈনিক দৃষ্টি প্রতিদিনকে বলেন- তিনিজন্ম সুত্রে বাংলাদেশের বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার মিজাপুর গ্রামের বাসিন্দা।
আমি বিগত আট বছর কর্মসূত্রে থাকি ইতালির রোম শহরে। এটা ইউরোপের একটি অন্যতম অভিজাত আর প্রাচীন শহর। আমার মাতৃভূমির পর এই শহর আমাকে লালন পালন করেছে।

এটা বর্ননা করা সবথেকে কঠিন মনে হচ্ছে।চার দেয়ালের ঘরে বন্ধি আছি আজ প্রায় ৪০ দিন | আমরা ছয়জন। চার দেয়াল, ছাদ। কারণ সত্যি বলতে কি এরকম কর্মহীন জীবন কোনোদিন কাটানোর প্রয়োজন হয়নি হ্যাঁ তবে জীবনের প্রয়োজন সবথেকে আগে,তাই জীবনের টানেই যেমন কর্মমুখরতা তেমনই জীবনের টানেই আজ এই কর্মবিমুখতা।

তবে আমি এই সময়টাকে নষ্ট করতে নারাজ। সারাদিনের সময়টাকে আমি কিছু কিছু নির্দিষ্ট ভাগে ভাগ করে নিয়েছি। বেশিরভাগ সময়ে আমি আমার ড্রাইভিং স্কুলের পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকছি। কিছুটা সময় আমার পরিবারের জন্য রেখেছি তাদের সাথে ভিডিও কলে কথা বলা সময় কাটানো ছেলেকে পড়াশোনায় সাধ্যমতো সাহায্য করা, ছোট্ট মেয়ের হাসি হাসি মুখের গল্প শোনা বউ এর শাসন সেইসবই চলতে থাকে এই এক কলে।

আমার বাংলাদেশের কলেজ ইউনিভার্সিটির বন্ধুরা আমাকে সবসময়ই ভালো ভালো পিডিএফ লিঙ্ক দিয়ে পড়াতে উৎসাহ দেয় সেসব ও সময় পেলেই পড়ে নি। এসবের ফাঁকে সোশ্যাল মিডিয়াতে কিংবা দেশ বিদেশের বাংলা ইংলিশ পত্র পত্রিকায় চোখ বুলিয়ে নিই। তার সাথে সাথেই কিছু কিছু নতুন পুরোনো বন্ধুদের সাথে, আত্মীয় পরিজনদের সাথে ফোনেই যোগাযোগ করে নিন।


মাঝে মাঝে গীটার টা হাতে নতুন কোনো সুর গুনগুন করা কিংবা অল্প অল্প নতুন পুরোনো রান্না এই সব ই আমার রোজনামচা।
• বাংলাদেশবাসী বন্ধুদের জন্য সময় কাটানোর কিছু উপায়…..

আমার ব্যক্তিগত মতামত প্রতিটা খারাপ জিনিসের সাথে কিছু ভালো জিনিস ও আসে। আমাদের অনেকেরই প্রশ্ন এই রকম নেগেটিভ একটা সময়ে কিভাবে নিজেদের পজিটিভ রাখা যায়? এই সমস্যার খুব সহজ কিছু সমাধান আছে।
এই আপাত গৃহবন্দীকালীন পরিস্থিতিতে আমরা বাড়িতে বসে বসেই আমাদের আত্মীয় পরিজন দের সাথে ফোনে কথা বলতে পারি সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অথচ মানসিক ভাবে আমরা সহজেই একে অন্যের কাছে থাকতে পারবো এই মাধ্যমে।
এই অবসর সময়ে বই পড়া যেতে পারে সে আপনি ধর্মীয় বই পড়ুন কিংবা কোনো ঐতিহাসিক বই বা কোনো গল্পের বই।
বাড়িতেই শরীর চর্চা করলে অনেক বেশি সতেজ থাকাও যাবে আবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো যাবে এবং এতে একঘেয়েমিও কাটবে।


গান শোনা যেতে পারে,গান করা যেতে পারে। ছবি আঁকুন মনের আনন্দে। পাশাপাশি টিভি দেখা, ওয়েব সিরিজ দেখা,ঘরে থেকে সকলের সঙ্গে গল্প করা,খেলা সব কিছুই করা যেতে পারে। বাচ্চাদের সময় দিন বাবা মাকে সময় দিন।এই সময়ে বাজারে সব কিছু মনের মতো পাওয়া না গেলেও যেটুকু আপনি খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করতে পেরেছেন তাই দিয়েই নতুন নতুন রেসিপি বানান।পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে ভালো সময় কাটান। আপনার পুরোনো অভ্যাস গুলোকে এই সময়ে জাগিয়ে তুলুন যেগুলো হয়তো আপনি আপনার জীবনের দৈনন্দিন চাহিদার কারণে ভুলতে বসেছিলেন। তবে যে জিনিসটা এসবের মধ্যেও মাথায় রাখতে হবে যে, এই সমস্ত কিছুই করা যাবে কিন্তু যেটা করা যাবে না, তা হল কিছুতেই বাড়ির বাইরে পা বাড়ানো যাবে না। তবেই সম্ভব এই যুদ্ধ জয় করা।
এটাই আমার দ্বিতীয় ভালোবাসার শহর। কিন্তু আজ আমার এই ভালোবাসার শহর ক্ষত বিক্ষত জর্জরিত করোনা নামক এক অজানা অচেনা শত্রুর কাছে। কিন্তু এ শহর পরাজিত নয় এই শহর আর আমরা সমগ্র শহরবাসী হাতে হাত রেখে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করে চলেছি আর শপথ নিয়েছি আমরাই জিতবো ওই অচেনা শত্রু কে হারাবো আমরা।

শেষতঃ আমি আমার প্রিয় দেশবাসীর প্রতি কয়েকটি কথা বলতে চাই। প্রিয় দেশবাসীরা আমাদের এই মুহূর্তে করণীয় হলো দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া এবং আমাদের সরকার আমাদের অভিভাবক তারা সর্বদা আমাদের ভালোর জন্যই চিন্তা করেন আমদের ও উচিত আমাদের প্রশাসনের প্রতি আস্থা রাখা তারা যা যা নির্দেশিকা জারি করেছে সেগুলো পালন করা। সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে অনেক রকম খবর প্রতি নিয়ত পরিবেশিত হয় সেসবের মধ্যে বেশ কিছু গুজবও ছড়িয়ে থাকে সেসমস্ত আমদেরকেই যুক্তি বুদ্ধি দিয়ে বিচার বিবেচনা করে নিতে হবে অযথা ভুল খবরে বিচলিত হবেন না। অবশ্যই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা কেই অনুসরণ করে চলুন। সবাই সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন আসুন আমরা সবাই মিলে এই অশুভ শক্তি কে হারিয়ে এক নতুন বলিষ্ঠ পৃথিবী গড়ে তুলি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *