সুন্দরগঞ্জে বোরো উৎপাদন বিপর্যয়ের আশঙ্কা: কৃষকের মাথায় হাত

আবু বক্কর সিদ্দিক, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের পশ্চিম চন্ডিপুর গ্রামের মৃত খতিব উদ্দিনের পুত্র কৃষক আমজাদ হোসেন চলতি মৌসুমে ৬ খন্ড বিশিষ্ট ১ একর ৪৫ শতক জমিতে বোরো চাষ করে লোকশানের হিসাব গুণছেন।

জানা যায়, চলতি মৌসুমে কৃষক আমজাদ হোসেন তার নিজস্ব ১ একর ৪৫ শতক (৬ খন্ড বিশিষ্ট) জমিতে সিনজেনটা এস ১২০৩, ১২০৫ প্রজাতের ধান চাষ করেন। বর্তমানে জমিতে উক্ত ধানের কোনটি আধাপাঁকা, কোনটির থোর বেড়িয়েছে, আবার কোনটি এখনো কাছথোর হয়নি। তাছাড়া, পর্যাপ্ত পরিচর্যা করেও জমিতে উঠতি ফসলের দুরাবস্থা দেখে বর্তমানে তিনি দিশেহারা হয়ে পরেছেন।

কৃষক আমজাদ হোসেন জানান, নিকটস্থ পাঁচপীর বাজারের মেসার্স রাহমানিয়া ট্রেডার্স থেকে তিনি প্রত্যেক মৌসুমে কৃষি চাষের ক্ষেত্রে বীজ, সার, কীটনাশক ইত্যাদি কিনে থাকেন। এবারেও তাই করেছেন। কিন্তু, এবারে ভেজাল বীজ দেয়ায় তিনি চলতি বোরো মৌসুমে মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবার আশঙ্কায় ভূগছেন। তিনি ইতোমধ্যে বার বার ঐ মেসার্স রাহমানিয়া ট্রেডার্সে’র স্বত্বাধিকারী আইয়ুব আলীকে জমিতে ক্ষেত দেখার জন্য ডাকলেও সারা না দিয়ে এড়িয়ে যান। r

অপর এক প্রশ্নের জবাবে কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন, কৃষি পণ্য সামগ্রী বেচা-কেনা করে থাকলেও দোকানদার কোন গ্রাহককেই কোন প্রকার ক্যাশ মেমো দেন না। এব্যাপারে বীজ, সার ও কীটনাশক বিক্রেতা মেসার্স রাহমানিয়া ট্রেডার্স’র স্বত্বাধিকারী আইয়ুব আলীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, কৃষক আমজাদ হোসেন তার বিশ্বস্থ গ্রাহক। তার ক্ষেতের এ অবস্থা আগেও শুনেছি। তবে, এটা হয়তো তার চাষাবাদে পদ্ধতি ভূলের জন্য হয়েছে। বীজের দোষ নয়। সংশ্লিষ্ট ব্লকে দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (এসএএও) সাজ্জাদুর রহমান জানান, আমি কৃষক আমজাদ হোসেন’র ৬ খ- জমিই ঘুরে দেখেছি। প্রতি খ- জমির ক্ষেতের একই অবস্থা। তাছাড়া, আমজাদ হোসেন একজন ভাল কৃষক। কৃষি চাষাবাদে তাঁর যথেষ্ট অভিজ্ঞতা আছে। এটা সম্ভবত ধান বীজের কোন সমস্যা ছিল।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সৈয়দ রেজা-ই-মাহমুদ জানান, সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে (এসএএও) পাঠিয়েছি। রিপোর্ট পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *