‘রেশন কার্ড পাবেন আরও ৫০ লাখ মানুষ’

সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় আরও ৫০ লাখ মানুষকে নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, রেশন কার্ডের মাধ্যমে দেশের ৫০ লাখ মানুষকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আরও ৫০ লাখ মানুষকে সুরক্ষার আওতায় নিয়ে আসা হবে। যারা প্রকৃত অভাবী, তাদের রেশন কার্ড দিয়ে তার মাধ্যমে সহায়তা করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) গণভবন থেকে ঢাকা বিভাগের ৯ জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ে এসব কথা বলেন তিনি। এই জেলাগুলো হলো— ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ১০ টাকা দরে ওএমএস কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ করা হয়। তবে এই চাল কিনতে গিয়ে অনেক জায়গায় জনসমাগম দেখা দেয়, যা করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকির কারণ। তাই আমরা আপাতত এই ১০ টাকার চাল বিতরণের কর্মসূচি স্থগিত করেছি। তবে সামাজিক সুরক্ষার আওতা আমরা বাড়াচ্ছি। পরে আবার আমরা এই কর্মসূচি চালু করব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামাজিক সুরক্ষার আওতার বাইরে অনেকেই আছেন, যারা বর্তমান পরিস্থিতিতে অভাবের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন, কিন্তু মুখ ফুটে বলতে পারছেন না। সমাজের নিম্ন আয়ের ব্যক্তি যারা আছেন, এমন সব মানুষের তালিকা তৈরি করতে হবে। তাদের তালিকা করে রেশন কার্ড দিতে হবে। এর মাধ্যমে মোট এক কোটি মানুষ সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আসবে।

তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘসহ বিশ্বের আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে। বাংলাদেশেও অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিতে পারে। সে কথা চিন্তা করেই আমরা ৯২ হাজার কোটি টাকা, বলতে গেলে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ প্রণয়ন করেছি। সেখানে শুধু এখনকার জন্য নয়, আগামী তিন বছর কিভাবে অর্থনৈতিক সুরক্ষা দেওয়া যাবে, সে পরিকল্পনা আছে, সে পরিকল্পনা আমরা নিচ্ছি।

জীবন থেমে থাকবে না
করোনাভাইরাসের কারণে বর্তমান সবাই গৃহবন্দি হলেও প্রত্যেককে যার যার জায়গা থেকে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জনসমাগম হয় না এবং একজন থেকে অন্যজন দূরে থেকে কাজ করতে পারেন— এমন কাজগুলো করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজ করতে হবে। জীবন তো থেমে থাকবে না। তাই বসে থাকলে চলবে না। জীবন চালিয়ে নিতে হবে। নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন, কাজ করুন। আমরা কল কারখানা, ওষুধ শিল্প থেকে শুরু করে অনেক খাতকেই বলেছি, আলোচনার মাধ্যমে তারা কাজ খোলা রাখতে পারবে। তবে এর জন্য নিজেদের মতো করে সুরক্ষা নিতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, সামনে ধান কাটার মৌসুম শুরু হচ্ছে। কৃষি কাজ খোলা মাঠে হয়। দূরে দূরে থেকে জনসমাগম না করেই কাজ করা যায়। তাই কৃষি যেন চলমান থাকে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা আগে দেখেছি, অনেক দিনমজুর কাজ পান না। এখন যেহেতু কাজ নেই, তাই এবার ধান কাটা শুরু হলে আপনারা মাঠে কাজ করতে পারেন। সেখানে স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করুন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কেবল মাঠে নয়, আপনারা যারা ঘরে আছেন তারা টবে গাছ লাগান, ছাদে বাগান করুন। বাড়িতে জায়গা থাকলে এক ইঞ্চিও যেন খালি না থাকে। জীবন থেমে থাকবে না, কাজ করে যেতে হবে। শুধু মনে রাখতে হবে, জনসমাগম যেন না হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *