করোনায় বিধবা নানি এতিম নাতনি দিশেহারা

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি ঃ
দেশজুড়ে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে পাঁচ’শ টাকার দোকানের আয়ে দূর্বিসহ্য জীবন-যাপন করছে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভীমপুর গ্রামের বিধবা নানি ও এতিম নাতনি। নানি-নাতনি ছোট্ট যে মাটির ঘরে বাস করে সে জায়গা টুকুও অন্যের। জমির মালিক প্রায় জায়গার মূল্য চায় অথবা জায়গা ছেড়ে দিতে বলে।

সরেজমিনে দেখাযায়, বিধবা নানির শয়ন ঘরের সঙ্গেই লাগানো ছোট্ট একটি গুমটির দোকান। দোকানের মালামাল রাখার একটি কাঠের তাক থাকলেও তাতে নেই কোন বিক্রির সামগ্রী। পান-বিড়ি, গুল, আলাপাতা ও শিশুদের চকলেট বিস্কুট মিলে পাঁচ’শ বা হাজার টাকার পণ্য হতে পারে। তবে স্বামীর জীবনদসায় একটি ফ্রিজ ও রঙিং টেলিভিন শুধু দোকানের শোভা বর্ধনের অংশ বিষয় মাত্র। নানি-নাতনির সংসার যেন এ দোকানের আয়ের সুতোই বাঁধা।

দিনাজপুরের হিলি মহিলা কলেজ পাড়ার নানি গোলনাহার ভালবেসে বিয়ে করেছিল জয়পুরহাট বিশ^াসপাড়ার আমেজ উদ্দিন পাটয়ারীকে। সংসার জীবনে ২ ছেলে ২ মেয়ে হলেও ছেলেরা বিয়ে করে অন্যত্র বসবাস করলেও মা-বাবার দিকে ফিরেও তাকায় না। ছোট মেয়ের সংসার জীবন ভালো হলেও বড় মেয়ের জামাই নিশাগ্রস্থ হওয়ায় স্বামী সংসার ছেড়ে মায়ের ঘাড়েই চাপে। ২ বছরের ব্যবধানে গোলনাহারের স্বামী, জামাই ও মেয়ে সবাই মারা যায়। বড় মেয়ের পলি নামের নাতনির বিয়ে দিলেও বাবা-মা হারা এতিম নাতনি খুশীর আশ্রয়স্থল অভাবী নানির মাটির ঘর। খেয়ে না খেয়ে খুশী স্থানীয় একটি স্কুলের ৭ম শ্রেণীতে পড়ালেখা করে। শ্রেণী শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, খুশী ক্লাসে খুব মেধাবী একজন ছাত্রী। নানি গোলনাহার বলেন, দোকানের আয় দিয়েই কোন রকমে আমরা দু’জনে জীবন পার করি, এখন ভাইরাসের কারনে বেচাকেনা নেই। কয়েক দিন আগে স্থানীয় মেম্বার চাল, ডাল ও তেল দিয়েছে তাও আবার শেষ। খুব কষ্টের মধ্যেই জীবন চলছে আমাদের। নাতনির এতিম ও আমাকে বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ করেন নানি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *