হোম কোয়ারেনটাইন মুক্ত হয়ে ১২টি শকুন খাবার সংকটে ভুগছে !

এমদাদুল ইসলাম ভূট্টো, ঠাকুরগাঁও ॥ প্রায় ছয় মাস পর ”হোম কোয়ারেনটাইন” থেকে মুক্ত হয়ে খাবার সংকটে পড়েছে বিরল প্রজাতির ১২টি শকুন বলে জানা গেছে। ঠাকুরগাঁও বনবিভাগের আওতায় ছাড়া পেয়ে পাখিগুলো অনিশ্চয়তা ভুগছে। একটুকরো খাবার যোগাড়ে ব্যর্থ হচ্ছে পরিযায়ী এই পাখিগুলো । বিষয়টি জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (রেঞ্জার) হরিপদ দেবনাথ, তিনি বলেন গেল শীত মৌসুমে নেপালসহ অন্যদেশ থেকে আসা ক্লান্ত ১১টি শকুনকে বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়। আগের বছরের রয়েছে একটি শকুন। তাদের পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে সুস্থ করে খাঁচায় রাখা এই পাখিগুলোকে অবমুক্ত করা হয় জানায় বনবিভাগ।

গত রোববার (৫ এপ্রিল) প্রকৃতিতে ছেড়ে দেয়া হয় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা বিরল প্রজাতির এই শকুন গুলোকে। মুক্ত হলেও তারা এলাকা ছেড়ে যেতে চায় না দুরে কোথাও। পেটের খুধায় সেখানেই ঘুরা ফেরা করছে পাখি গুলো ।
পরিচর্যা কেন্দ্রের কর্মী বেলাল হোসেন বলেন, ”কোয়ারেন্টাইন” মুক্ত হলেও তাকে ছেড়ে যাচ্ছে না অভুক্ত পাখিগুলো । তিনি বলেন আমি একজন দিনমজুর কী করে তাদের খাওয়াই এই বলে চোখের পানি ছেড়ে দেন । পাখি প্রেমিক রমেশ চন্দ্র রায় বেলালের চোখের পানি দেখে তিনি কেঁদে ফেলেন ।
স্থানীয় ইউপি মেম্বার মো. হেলাল বলেন , পাখি গুলো কয়েকদিন ধরে খাবারের জন্য ছটফট করছে । কিন্তু তাদের কে দেবে খাবার ! তিনি আরও বলেন খাবারের জন্য ছুটে এসেছিল, ফের খাবারের সংকটেই পড়ল অজানা দেশের এই পাখিগুলো ।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. আলতাফ হোসেন বলেন প্রাণীর মরদেহ খেয়ে শকুন জীবন ধারণ করে । কিন্তু বৈশি^ক রীতির পরিবর্তনে এই প্রাণী গুলো খাদ্য সংকটে পড়েছে।

দিনাজপুরে বীরগঞ্জ উপজেলার জাতীয় উদ্যান সিংড়া ফরেস্টের শকুন উদ্ধার ও পরিচর্যা কেন্দ্র থেকে এ পর্যন্ত ৫০টির বেশি শকুন অবমুক্ত করা হয়েছে।
গত বছর ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, গাইবান্ধা সহ বিভিন্ন স্থান থেকে শকুনগুলো উদ্ধার করা হয়। প্রকৃতির ঝাড়ুদার হিসেবে পরিচিত বিলুপ্ত প্রায় এই পাখিগুলোকে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার জাতীয় উদ্যান ” সিংড়া ফরেস্টের” শকুন উদ্ধার ও পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়।
দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা শকুনকে সুস্থ করার জন্য দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় জাতীয় উদ্যান সিংড়া ফরেস্টে গড়ে তোলা হয়েছে একমাত্র দেশের এই পরিচর্যা কেন্দ্রটি। চার বছর আগে বাংলাদেশ বন বিভাগ ও আইইউসিএনের উদ্যোগে চালু করা হয় শকুন উদ্ধার ও পরিচর্যা কেন্দ্র। এখানে দীর্ঘ পরিচর্যায় সুস্থ করার পর সময় মতো তাদের প্রকৃতিতে ছেড়ে দেয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *