বগুড়ায় ডিবি পুলিশের অভিযানে প্রাচীন কালের বিভিন্ন মুদ্রার কোলন ও ৩টি ধাতব ডাইস উদ্ধারঃ গ্রেপ্তার-৯

বগুড়া প্রতিনিধি।।
প্রাচীন কালের মুদ্রার নকল ও ধাতব পদার্থ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের ৯ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে বগুড়া ডিবি পুলিশ । গত মঙ্গলবার রাত্রিব্যাপী দীর্ঘ অভিযানে বগুড়া ও জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের তাদের পাকড়াও করা হয়। এ সময় প্রাচীন কালের মুদ্রার কোলন ৫৭টি মুদ্রা ও ৩টি নকল ধাতব পদার্থ উদ্ধার করা হয়েছে।
চারকোনা এবং গোলাকৃতির এই পদার্থগুলোতে নেপোলিয়ান জেঙ্গিশখান সহ প্রাচীন জার, স¤্রাট তাদের রাজদরবার, জাহাজ ও ঘোড়া সরওয়ারীর ছবি রয়েছে। এগুলোকে কয়েক হাজার বছরের পুরানো পুরাকীর্তি হিসেবে উল্লেখ দেশ ও বিদেশে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল সঙ্গবদ্ধ প্রতারক চক্রটি ।
বুধবার জেলার পুলিশের একটি দায়িত্বশীল জানান, গোপন তথ্য এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যর ভিত্তিতে বিষয়টি বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞাঁ বিপিএম(বার) এর নির্দেশনায় বিষয়টিকে নিয়ে বিশেষ নজরদারী ও গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো হচ্ছিল ।
গত মঙ্গলবার রাতে সুনিদিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য ভিত্তিতে বগুড়া ডিবি ইন্সপেক্টর মুহা ঃ আসলাম আলী পিপিএম’র নের্তৃতে ডিবি ইউনিটের একাধিক টিম বগুড়া শহরের মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের সামনে খেলার মাঠ চক্রের হোতা আজিজার রহমানকে (৫৫) গ্রেপ্তার করে। এরপর পর্যায়ক্রমে শহর ও আশপাশের এলাকা থেকে এই চক্রের অন্য সদস্য শিবগঞ্জের সারদীঘি গ্রামের রুহুল আমিন (৫২), গাবতলীর তরফসরতাজ এলাকার আবু নাছেরকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের হেফাজতে পাওয়া যায় ১টি ধাতব পদার্থ।
উপরে উল্লেখিত ৩জনকে গ্রেপ্তারের পর তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বগুড়া গাবতলী উপজেলার পদ্মপাড়া থেকে জহুরুল ইসলাম (৪০), সাইদুর রহমানকে (৫০) গ্রেপ্তার করা হয়। এই দুইজনের বাড়ি শিবগঞ্জ উপজেলার নুরইল শিয়ালী গ্রামে। এদের নিকট থেকে উদ্ধার করা হয় ৫৭টি প্রাচীন ধাতব মুদ্রা।
এরপর পর্যায়ক্রমে প্রতারক চক্রের অন্যতম সদস্য জয়পুরহাটের কালাই বামনডাঙ্গা গ্রামের বাছেদ আলী (৩৮), বগুড়ার গাবতলী উপজেলার পদ্মপাড়ার রোকনদ্দিন (৫০), সদর উপজেলার শহরদীঘি এলাকার লিটন প্রামানিক (৩৫), শাজাহানপুরের জোরমালা গ্রামের গোলাম রব্বানীকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা পুলিশকে দেয়া গুরুত্বপূর্ন তথ্য দিয়ে জানিয়েছে, দেশে এবং বিদেশে একাধিক চক্রের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে। এসব মুদ্রা এবং ধাতব বস্তুুকে মহামূল্যবান হিসেবে তারা ক্রেতার কাছে উপস্থাপন করে থাকে। পরে কাঙ্ক্ষিত মূল্যে সেগুলো বিক্রি করে দেয়। এভাবে প্রতারণা করে কয়েক কোটি টাকা আয় করেছে বলেও স্বীকার করেন তারা।
এ ব্যাপারে সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *