করোনা দুর্যোগে খামারিদের সেবায় নিবেদিত ডা:মো.রায়হান পিএএ

আবু বকর সিদ্দিক : বিশ্বে মহামারি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারি আদেশে সকল সরকারি দপ্তরের মতই প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের দীর্ঘ মেয়াদি ছুটির কবলে পড়ে নতুন করে অনেক খামারি/উদ্যোক্তাদের মনে উদ্বেগ আশংকার জন্ম নিলেও তাদের নিরবিচ্ছিন্ন সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন জাতীয় পর্যায়ে জনপ্রশাসন পদক প্রাপ্ত শেরপুর উপজেলার ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. রায়হান পিএএ।শনিবার (৪ এপ্রিল) উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে চিকিৎসা নিতে আসা লোকমান ও রেশমা জানান, এই অবস্থাতে যদি শেষ সম্বল দুধের গাড়ী অসুস্থ হয়ে পড়ছে। চিকিৎসার অভাবে যদি মারা যায়। তাহলে আমাদের সংসার চলবে কি দিয়ে। তাই চিকিৎসার জন্য একানে এসেছি।গতকাল শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সিমাবাড়ী ইউনিয়নে প্রত্যান্ত অঞ্চল ধুনকুন্ডি দক্ষিণপাড়া গ্রামের  সামিদুল ইসলামের একমাত্র সম্বল ষাড় গরু অসু্স্থ হয়ে পড়লে ডা. মো. রায়হানকে ফোন করলে সেখানে গিয়ে চিকিৎসা দেন।প্রাণিসম্পদ দপ্তরে চিকিৎসা নিতে আসা মির্জাপুর ইউনিয়নের আরংশাইল গ্রামের আব্দুল কদ্দুস বলেন, আমার সংসারের একমাত্র উপার্জনের উৎস্য গাভিটি  রাত্রিবেলা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে দিশেহারা হয়ে পড়ি, ফোন করি রায়হান স্যারকে, রাত্রিতেই আমার বাড়িতে এসে জরুরি চিকিৎসা দিলে গাভিটি এখন সুস্থ্য হয়ে উঠে।শেরপুর উপজেলা যেখানে বেশির ভাগ মানুষের দৈনিক রুটি রোজগারের একমাত্র খাত এবং চাকুরির বিকল্প করপোরেট খাতে রুপান্তরিত এই সেক্টরটি। এই উপজেলায় প্রতিদিন দুধ উৎপাদন হয় প্রায় ১৬ হাজার লিটার। রয়েছে তিন হাজারের উপরে হৃষ্টপুষ্টকরণ খামার, ১২ শত টি বানিজ্যিক ভিত্তিক দেশি মুরগির (অরগানিক) খামার, হ্যাচারি, তিন হাজার সোনালী মুরগির খামার, চার হাজার ব্রয়লার মুরগির খামার এছাড়াও বিপুল সংখ্যক ছাগল, ভেড়া, সৌখিন পাখি, কবুতর সহ কুয়েলের খামার যার সাথে জড়িত খামারি, খামারের জনবল, দৈ-মিস্টি উৎপাদনকারি প্রতিষ্ঠান, গোখাদ্য, ঔষধ, প্রানিজাত পণ্য বাজারজাতকারি প্রতিষ্ঠানও।দেশের শতকরা ৮০% মানুষও কোন না কোনভাবে প্রাণিসম্পদ দপ্তর সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। এর মাঝে দেশি মুরগির বাণিজ্যিক(অরগানিক) চাষের রাজধানী বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলা।নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে দিনের পর দিন নিরসরভাবে কাজ করে যাচ্ছেন । অন্ধকারে নিভু নিভু প্রাণিসম্পদ দপ্তর শেরপুরকে নিজের দক্ষতা, দুরদর্শিতা আর নিবেদিত সেবার মাধ্যমে উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর করে যাচ্ছেন এই সরকারি কর্মকর্তা। উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রাণিসম্পদ দপ্তরে আগত জরুরি চিকিৎসাসহ কার্যক্ষেত্রে বিশেষ ব্যাবস্থায় খামারিদের বাড়িতে গিয়েও নিরবিচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রেখেছেন।দীর্ঘ ছুটিকালিন সময়ে সেবা প্রদানের বিষয়ে শেরপুর উপজেলার ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. রায়হান পিএএ বলেন, দেশের এই ক্রান্তিকালে মানুষের পাশে থাকার জন্যই মানবিক বিবেচনায় ছুটির মধ্যেও ব্যাক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই খামারিদের চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি, যাতে সেবার অভাবে একজন মানুষও যেন ক্ষতি গ্রস্থ না হয়।করোনা ভাইরাস সম্পর্কে তিনি বলেন, কোন প্রাণি এবং প্রাণিজাত পণ্য থেকে করোনা ভাইরাস ছড়ায়না বিষয়টি জনগনকে সচেতন করতে হবে। এবং প্রাণিসম্পদ উদ্যোক্তা/খামারিদের সরজমিন সেবা ছাড়াও মোবাইল ফোনে, স্বপ্ন ছোয়ার সিড়ি ইউটিউব চ্যানেল, ফেইসবুক পেইজের মাধ্যমে এই দুর্যোগে শেরপুরসহ সারা বাংলাদেশে সকল শ্রেণির উদ্যোক্তাদের চিকিৎসা সেবাসহ নানা বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করছি। তা ছাড়াও উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের করোনা প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নেও নিয়মিত অংশগ্রহণ করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *