করোনা ভাইরাস আতঙ্কে স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিরাপত্তা ব্যবস্থা না করেই রনক স্পিনিং মিল চালু রাখায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ

স্টাফরিপোর্টার:
করোনা ভাইরাস আতঙ্ক থেকে বাচতে স্বাস্থ সুরক্ষার ব্যবস্থা না করেই বগুড়ার শেরপুরে রনক স্পিনিং মিল চালু রাখায় প্রায় শতাধিক শ্রমিকরা গত সোমবার ৩০মার্চ ২০২০ বিকেলে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছে। করোনা আতঙ্ক কাটাতে মিলটির প্রায় দেড়শতাধিক শ্রমিকরা কর্তৃপক্ষের কাছে ছুটি দাবি করায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে কর্তূপক্ষ এমনটাই জানিয়েছে মিলের শ্রমিকরা। বিক্ষোভ করাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের কাজে যোগদিতে বিভিন্ন ভাবে চাপ প্রয়োগ করে শেষ পর্যন্ত চাকুরীচ্যুত করার হুমকী দেওয়া হচ্ছে ।

জানা যায়, শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর-সীমাবাড়ী শোলাকুড়ি এলাকায় রনক স্পিনিং মিল শ্রমিকদের স্বাস্খ্য নিরাপত্তা কোন রকম সুযোগ সুবিধা না দিয়েই মিল টি পুরোদমে চালু রেখেছে।এ মিলটিতে প্রায় ৭শতাধিক শ্রমিক কাজ করে। এদিকে বাংলাদেশও করোনা ভাইরাস সংক্রমনের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্ক দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকার। বিনিময়ে শ্রমিকদের বেতন ভাতা বাবদ ৫ হাজার কোটি টাকা বেদন ভাতা বাবদ প্রনোদনা দেওয়ার ঘোষনা দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

তবে বিশেষ ক্ষেত্রে মিল চালু রাখতে হলে শতভাগ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা করে চালু রাখা যেতে পারে। এমন শর্তকে কাজে লাগিয়ে ফায়দা লুটছে রনক স্পিনিং মিল । তারা শ্রমিকদের কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা না করেই নিয়মিত কাজ আদায় করে নিচ্ছেন।

সরেজমিনে জানা যায় ,রনক স্পিনিং মিলের বেলায় ভিন্ন প্রেক্ষাপট। এই মিলে নেই কোন করোনা ভাইরাস সংক্রমনের হাত থেকে সুরক্ষার হাইজিনিক ব্যবস্থা, মিলের শ্রমিকদের নেই কোন আলাদা পারসোনাল প্রোট্রেশন ইউনিফর্ম(পিপিই), মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজেশন ব্যবস্থা। আর এ কারণে শ্রমিকরা ছুটি দাবী করে আন্দোলনে অংশ নেয়। কিন্তু শ্রমিকদের ন্যায্য দাবী উপেক্ষা করে ওই মিলের কর্মরত শ্রমিকদের কাজে যোগদানের চাপ প্রয়োগে বাধ্য করছে মিল পরিচালনা কর্তৃপক্ষ। এমনকি শ্রমিকদের দাবী না মেনে কাজে যোগদানে জন্য বাধ্য করার অভিযোগও উঠেছে।

করোনা ভাইরাস আতঙ্কে শঙ্কিত ওই রনকের শ্রমিকদের মধ্যে আন্দোলনরত রায়হান, আয়েশা খাতুন, নাসরীন পারভীন, হ্যাপি খাতুন, ফরিদুল ইসলাম বলেন, মিলের মধ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রমনের হাত থেকে সুরক্ষার হাইজিনিক ব্যবস্থা নেই,নেই কোন আলাদা পারসোনাল প্রোট্রেশক ইউনিফর্ম(পিপিই), মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজেশন ব্যবস্থা। তারা (শ্রমিকরা) ছুটির দাবী করি, কিন্তু প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ কোন কথা না শুনে কাজে যোগদানের নির্দেশ দেয়। তাতে রাজী না হয়ে ছুটির দাবীতে গভীর রাত ৪টা পর্যন্ত মিলের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান ধর্মঘট করি। এতে ওই মিলের শ্রমিক মিষ্টি খাতুন, ইমন, বরাত আলী, আনোয়ার, শরিফুল ইসলাম, সুমাইয়া, রূপালী, শিউলি, রেহেনা, সুরভী প্রমুখসহ একাধিকরা আহত হয়।

এদিকে বেতন-ভাতা সহ সাধারণ ছুটির দাবীতে শ্রমিকরা এ আন্দোলনে অংশ করে এবং চাকুরীচ্যুত হওয়ার আশংকায় ভূগছেন বলে তারা দাবী করেন। এদিকে শ্রমিকদের আন্দোলন চলাকালীন সময়ে অপ্রীতিকর ঘটনারোধে শেরপুর থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) ওসমান গনি, স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং শ্রমিকদের সাময়িকভাবে শান্ত করে পরিবেশ নিয়ন্ত্রনে আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে রনক স্পিনিং মিলের ফ্যাক্টরী জেনারেল ম্যানেজার(জিএম) মঞ্জুর মোর্শেদের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে, তিনি কোন মন্তব্য না করে গ্রুপ জিএমের সাথে কথা বলতে অনুরোধ জানান।

এ নিয়ে রনক স্পিনিং মিলের জেনারেল ম্যানেজার(কর্পোরেট) মো. আবুল কাশেম বলেন, আমি ঢাকা অফিসে বসি। ঘটনাস্থলে কি হয়েছে তা আমার সঠিক জানা নেই । তবে করোনা ভাইরাসের কারণে ওই মিলে স্বাস্থ্য সুরক্ষারোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখেই মিল পরিচালনা করা হচ্ছে।

তবে স্থানীয় কতিপয় সুবিধাভোগীদের গ্রুপিংয়ের কারণেই এহেন ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু শ্রমিকদের কাজে যোগদানে মারপিটের ঘটনা অস্বীকার করে, কোন চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছেনা, এমনকি আন্দোলনরত শ্রমিকদের চাকুরী হারানোর ভয়ও নেই বলে আশ^স্ত করেন ওই কর্মকর্তা।

বাংলাদেশ জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী লীগ এর সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি বলেন, করোনা সুরক্ষাসামগ্রী তৈরির কারখানাগুলো খোলা থাকতেই পারে। তবে এই দুর্যোগকালীন সময়ে অন্যান্য কারখানা খোলা রেখে শ্রমিকদের বিপদে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।বিজিএমইএ এবং বিটিএমএর কারখানা ছুটি কার্যকর হয়েছে। এর এক দিন আগেই বিকেএমইএর কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে কতদিন ছুটি থাকবে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি কোনো সংগঠনের পক্ষ থেকেই। এ নিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে প্রশ্ন ছিল।

এ বিষয়ে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ুন কবীর বলেন, শ্রমিক আন্দোলনে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে না হয় সেজন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. লিয়াকত আলী সেখ বলেন, মিল বন্ধের ব্যাপারে পুরোপুরি নির্দেশনা আমার কাছে আসেনি। তবে কোন শ্রমিক নিরাপত্তাহীনতায় কাজ করতে না চাইলে, তাকে চাপ প্রয়োগ ও চাকুরীচ্যুত করা যাবেনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *