আশ্রয়হীন মুক্তিযোদ্ধাকে আশ্রয় দিলেন রায়গঞ্জের নির্বাহী অফিসার মোঃ শামীমুর রহমান

ফজলুল হক ঃ
সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার পৌর শহরের হাসিল রঘুনাথপুর ব্রক্ষগাছা গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শুকুর মাহমুদ, জীবনের পড়ন্ত বেলায় আশ্রয় হারিয়ে ফেলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধা। সদ্য বাংলাদেশের জন্মদাতার একজন শুকুর মাহমুদ সন্তানাদিকে সবকিছু উজাড় করে দিয়ে নিজে আশ্রয়হীন জীবনযাপনের করুন, মর্মান্তিক এই ঘটনায় ব্যাকুল নির্বাহী অফিসার মোঃ শামীমুর রহমান। বীর মুক্তিযোদ্ধা শুকুর মাহমুদকে চা চক্রের আমন্ত্রণ জানান ইউএনও, চা চক্র শেষ পর্যায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে আশ্রয় দিয়ে ঐতিহাসিক ঘটনার অবতরণ করেছেন সৎ নির্বাহী অফিসার শামীমুর রহমান। নিজে অন্য এলাকার মানুষ কিন্তু কর্ম প্রমাণ করছে তিনি এই উপজেলারই সন্তান। এই উপজেলার কোন তৃণমূল স্থান থেকে উঠে আসা মানুষের মত কার্যক্রম করছেন নির্বাহী অফিসার। ১৯৭১ সাল রক্তঝরা ৯ মাসের যুদ্ধ সমগ্র বিশ্বে অবস্মরণীয় ইতিহাস সৃষ্টিকারী একজন শুকুর মাহমুদ।
জানা যায়, সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার সুযোগ্য নির্বাহী অফিসার মোঃ শামীমুর রহমান। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্ম বলিদানকারী হতাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসাবে ইতিহাস ভূক্ত হলেও ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেননি। সহায় সম্পদহারা উদ্যমী মোঃ শুকুর মাহমুদ।
স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের মত অবদান রাখছেন পরিবার পরিজনের কাছে। জীবনের দীর্ঘসময় ব্যয় করলেন দেশ , মানুষ ও আত্মীয়-স্বজনদের জন্য। স্ব-নামে থাকা জায়গা জমিটুকু প্রদান করেন সন্তানদের। আশ্রয়হীন মুক্তিযোদ্ধা শুকুর মাহমুদ জীবনের অবশিষ্ট দিনগুলো পার করতে একটি ঘরের প্রয়োজন হলেও পূরণ করেননি স্থানীয় রাজনৈতিক সমাজসেবক, ব্যবসায়ী, গুণীজন কোন সরকারী, বেসরকারী সহায়তার পরশ পাথরটি তার ভাগ্যে জোটেনি। সহায় সম্পত্তি হারা মুক্তিযোদ্ধা পরিবার পরিজনের উপর ভারী বোঝা মনে করে আস্থাকুঁড়ায় নিক্ষেপ করার করুণ লোম শিউরে উঠা বিরল ঘটনার স্বাক্ষী রায়গঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার শামীমুর রহমান। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর এই মুক্তিযোদ্ধার মাথা গোজার জন্য আশ্রয়স্থল পেতে ব্যাকুল, দিশেহারা, ক্ষুধার্ত মুক্তিযোদ্ধা শুকুর মাহমুদের চলমান জীবনের চাকা পরিবর্তন হয়ে যায় জমি আছে বাড়ি নেই প্রকল্পের মাধ্যমে। সরকারের প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শামীমুর রহমান বন্যতার জ্বলন্ত এক ইতিহাস ও কর্মবীর এর কারনে আঁধা পাকা ঘরের বাসিন্দা শুকুর মাহমুদ কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, সিরাজগঞ্জের বিজ্ঞ জেলা প্রশাসক, পদস্থ্য কর্মকর্তা ও নির্বাহী অফিসার শামীমুর রহমানের কারনে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ ও দূর্যোগ মন্ত্রণালয় সারাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষকে মানবিক সহায়তার ধারাবাহিকতায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কারনে সহায়তা পেলেন এই মুক্তিযোদ্ধা। বীর এই মুক্তিযোদ্ধার আশ্রায়ন নির্মাণ করে দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মনোস্পটে অবিস্মরণীয় ব্যক্তি শামীমুর রহমান। চতুরদিকে ছড়িয়ে পড়েছে নির্বাহী অফিসারের ক্রমাগত সুকর্মের প্রশংসা। সরকার ও প্রজাতন্ত্রের পদস্থ্য কর্মকর্তারা নির্বাহী অফিসার জনহিতকর কাজের ধারাবাহিকতা আগামী দিনে অব্যাহত রাখতে উৎসাহ প্রশংসার মাধ্যমে পুরস্কৃত করছেন নির্বাহী কর্মকর্তাদের।
প্রকাশ করা যায়, রাজশাহী বিভাগের ঐহিহাসিক জেলা সিরাজগঞ্জ। জেলার অন্তর্ভূক্ত রায়গঞ্জ উপজেলার পৌরসভার হাসিল রঘুনাথপুর ব্রক্ষগাছা গ্রামের বাসিন্দা মৃত ইউনুস আলীর সন্তান বীরমুক্তিযোদ্ধ মোঃ শুকুর মাহমুদ জীবনের পড়ন্ত বেলায় আশ্রয়হীন, দিশেহারা, মানবেতর, অমানবিক জীবনযাপনের ঘটনা অবসান করতে কেউ এগিয়ে আসেনি। এগিয়ে এসেছে উপজেলার দায়িত্বশীল নির্বাহী অফিসার শামীমুর রহমান নিজের পরশ জড়িত হাতের স্পর্শে রায়গঞ্জ উপজেলা এখন আইনশৃঙ্খলা ও নেশামুক্ত মডেল উপজেলা রায়গঞ্জ। এই উপজেলা একটি মডেল উপজেলা পরিণত হওয়ার পিছনে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন প্রজাতন্ত্রের সুনামধন্য কর্মকর্তা নির্বাহী অফিসার মোঃ শামীমুর রহমান। রায়গঞ্জ উপজেলার প্রজাতন্ত্রের প্রধান কর্মকর্তা নির্বাহী অফিসার সাংবিধানিক ভাষায় সরকার ও মানুষের সেতুবন্ধনকারী। নির্বাহী অফিসারকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয় সকল সরকারী, বেসরকারী কার্যক্রম। সৎ, দক্ষ, নির্ভীক, বিচক্ষণ নির্বাহী অফিসার স্ব-উদ্যোগে ত্রাণ, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ কামরুল আহসান এর মাধ্যমে জমি আছে বাড়ি নেই প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার মূলক প্রকল্প থেকে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৫ শত ৩১ টাকা ব্যয়ে মাথা গোজার জন্য মানসম্পন্ন ঘর নির্মাণ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা শুকুর মাহমুদের নিকট হস্তায়ন করেন। উল্লেখ্য ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী রাতের আঁধারে ঘুমন্ত মানুষের উপর স্টেনগান, মেশিনগান, রাইফেল, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে বিশ্বের সুসজ্জিত, প্রশিক্ষিত পাকিস্তান সেনাবাহিনী, রাজাকার, আলবদর, আলশামস। নিষ্ঠুর পাকবাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞ থেকে তৎকালীন সময় বাদ পড়েনি ৫ বছরের শিশু থেকে ৭৫ বয়স পর্যন্ত বয়ঃবৃদ্ধ সাধারণ মানুষ। লক্ষ লক্ষ মা ও বোনকে প্রকাশ্যে পাক বাহিনীর নির্মম নির্যাতনে ক্ষুব্ধ শুকুর মাহমুদ স্বাধীনতার আন্দোলনকারী ও বাংলাদেশের অবিশম্ভাবিত জননেতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন শুকুর মাহমুদ। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কৃতি সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা শুকুর মাহমুদের জীবনের কোন পরিবর্তন না হলেও পরিবর্তন হয়েছে মনের। সন্তানদের নামে দলিল করে দেন স্বনামে থাকা সহায় সম্পদ। সম্পদহারা মুক্তিযোদ্ধা পরিবার পরিজনের কাছে বড় ভারী বোঝা হিসেবে আস্থা কুড়ায় নিক্ষেপ করে আত্মীয়-স্বজন। স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শুকুর মাহমুদ পরিবার পরিজনের কাছে আশ্রয় না পেয়ে বিভিন্ন সংস্থা, রাজনৈতিক, প্রভাবশালীদের দ্বারে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ধরনা দিলেও রোদ, বৃষ্টি, ঝড়, তুফান থেকে মুক্তি পাওয়ার মত আশ্রয় স্থল প্রদান করেননি কেউই। ১৯৭১ সালের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা শুকুর মাহমুদ দিনযাপনের করুণ কাহিনী বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে অবগত হন সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার দায়িত্বশীল, বিজ্ঞ নির্বাহী অফিসার মোঃ শামীমুর রহমান। অবহেলিত বীর মুক্তিযোদ্ধা শুকুর মাহমুদকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে চা চক্রের আয়োজন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শুকুর মাহমুদের সম্মানার্থে। জীবনের পড়ন্ত বেলায় দিশেহারা মুক্তিযোদ্ধা শুকুর মাহমুদের আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর বর্নতা ও উদারতার জ্বলন্ত নিদর্শন স্বরুপ বীরমুক্তিযোদ্ধার আশ্রয়স্থল নির্মাণ করে দেওয়ার ঐতিহাসিক ঘটনার সৃষ্টি করেন খোদ নির্বাহী অফিসার। যুদ্ধে হতাহত কৃতি সন্তান শুকুর মাহমুদের কর্মগুণে স্বাধীন বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের প্রিয় ও শ্রদ্ধাভাজন হলেও কাঙ্খিত মূল্যায়ন পাননি স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে সহায়তার জন্য। দেশ মাতৃকার গর্বিত বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ শুকুর মাহমুদ দেশ ও মানুষের অহংকার। বিভিন্ন সরকারী দিবসে শুধু আমন্ত্রণ পত্র প্রাপ্ত ছাড়া অন্য কিছু তার ভাগ্যে জোটেনি। অনেক অপেক্ষা, আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটে ২০১৯-২০ সালের অর্থবছরে। সুজলা, সুফলা, শস্য-শ্যামলা, অপরুপ, রুপসী বাংলাদেশের গর্বিত মা-বাবার কৃতি সন্তান, বাংলাদেশের অহংকার রায়গঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ শামীমুর রহমান সরকারি অর্থে বীর এই মুক্তিযোদ্ধার জন্য আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় বাসস্থান নির্মাণ করে দেন। কিন্তু স্থানীয় রাজনৈতিক সমাজেসেবক, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি কেউই এগিয়ে আসেনি এই মুক্তিযোদ্ধার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার জন্য। সিরাজগঞ্জ জেলার অন্তর্ভূক্ত বাসিন্দা উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ শামীমুর রহমান না হলেও মানবিক ও উদার, সাদা মনের মানুষ জনকল্যাণের অংশ হিসাবে বীর মুক্তিযোদ্ধা শুকুর মাহমুদ সহ ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ৫৯ লাখ ৪৬ হাজার ২ শত ১৩ টাকা ব্যয়ে ২৩ টি পরিবারের জন্য বসবাসের ঘর তৈরি করে দেন নির্বাহী অফিসার। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ গণতন্ত্রের মানসকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প জমি আছে বাড়ি নেই ২৩টি বসতবাড়ি নির্মাণকালে শতভাগ সততা, নিষ্ঠা, বিচক্ষণতার সাথে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সুবিধা ভোগীদের মাঝে বন্টন করে স্থানীয় ইতিহাস ও সরল টানে সব পেশার মানুষের কাছে নির্বাহী অফিসার শামীমুরের গ্রহণযোগ্যতা এত প্রকট যে, তার বিকল্প কিছুই ভাবতে পারেন না উপজেলাবাসী।
মোঃ শুকুর মাহমুদ দেশের জন্য প্রাণপন চেষ্টায় স্বাধীনতা অর্জিত স্বাধীন দেশে গর্বিত নাগরিক হিসেবে নিজের নামে থাকা সহায় সম্পত্তি সন্তানদের মাঝে বন্টন করে নিজে ভূমিহীন হয়ে কাতর জীবনযাপন করছেন এই বৃদ্ধ বয়সে। মাথা গোজার একটু স্থানের আশায় বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের নিকট ধরনা, আবেদন, নিবেদন করলেও কাজে আসে না বীর এই মুক্তিযোদ্ধার। বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে ঘটনাটি অবগত হন রায়গঞ্জের সুযোগ্য নির্বাহী অফিসার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *