সাতক্ষীরায় ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে গণহারে বৈধ-অবৈধ ভাবে ঢুকছে মানুষ

এস,এম,হাবিবুল হাসান,সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরায় প্রতিবেশীদেশ ভারত থেকে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে গণহারে প্রতিদিন বৈধ-অবৈধ ভাবে আসা বাংলাদেশীদের নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে জেলার সাধারণ মানুষ। নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশের সকল স্থলবন্দরের আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এমনকি বৈধ পাসপোর্টে বাংলাদেশে আসা ভারতীয় নাগরিকদেরও ভারতে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। অথচ ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিনই শত শত পাসপোর্ট যাত্রীরা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

এক দিকে, করোনা সারা বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে বিশ্বের ১৯৯টি দেশ ও অঞ্চলে যার প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্ত হয়েছে ৬ লাখের অধিক আর মৃত্যুবরন করেছে ৩০ হাজারেরও অধিক।এই মহামারির হাত থেকে দেশের মানুষকে রক্ষা করতে সরকার নানামুখি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে দেশবাসীকে সারাক্ষণ ঘরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন গণহারে আসা পাসপোর্ট যাত্রীদের এলাকায় ফিরে উদোম চলাফেরার কারণে অস্তির হয়ে পড়েছেন সাতক্ষীরার মানুষ।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে গত কয়েক দিন ধরে প্রায় প্রতিদিনই ৯০ থেকে ১শ জন পাসপোর্ট যাত্রী দেশে প্রবেশ করছেন।

এদের মধ্যে তালার উপজেলার বিল্লাল, শ্যামনগরের আজিজুর, হাফিজুর, আটুলিয়ার হালিমা, মিজানুর, রাহা পারভীন, হাফিজা, রফিকুল,নওয়াবেকীর বাবু মোড়ল, আছমা, সুমাইয়া, খাজরাদানার আরশাদ,
আশাশুনির পুরহিতপুরের মনিরুল, জয়াখালী গ্রামের নুরজাহান, মিরাজ প্রমুখ ।

এছাড়াও গত ২১মার্চ ভারত থেকে এসেছে ৫৯১ জন, ২২ মার্চ ২৬ জন, ২৩ মার্চ ৫৪১ জন, ২৪ মার্চ ৯৪ জন, ২৫ মার্চ ২৬ জন, ২৬ মার্চ ৪৯ জন,২৭ মার্চ ৯০ জন এবং ২৮ মার্চ সন্ধ্যা পর্যন্ত ১১৩ জন পাসপোর্ট যাত্রী নিজ দেশে প্রবেশ করেছে।

অথচ পাসপোর্টের কোন যাত্রীকেই ভারত গ্রহণ করছে না। কিন্তু প্রতিদিনই বাংলাদেশে বৈধভাবে শত শত যাত্রীরা আসলেও তাদের কোন হোম কোয়ারেন্টাইন করা হচ্ছে না বা পরীক্ষা করা হচ্ছে না। বিশেষ করে সাতক্ষীরার নিম্ন অঞ্চলের বহু মানুষ অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে বিভিন্ন কাজ করে। করোনাভাইরাসের কারণে ভারত তাদের চিহ্নিত করে দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে। বৈধ পাসপোর্টধারীদের কিছুটা চিহ্নিত করা গেলেও এসব অবৈধ ভাবে যাতায়াতকারীদের কোন ভাবেই চিহ্নিত করা যাচ্ছে না।

তারা এলাকায় ফিরে বাড়িতে না থেকে প্রকাশ্যে হাট-বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যা এক প্রকাশ অস্তিরতা সৃষ্টি করেছে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল বলেন, বিষয়টি আমি পর্যবেক্ষন করছি।। সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মো.মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে আমার কথা হয়েছে। ভোমরা স্থলবন্দর ইমিগ্রেশনে পুলিশ থাকবে এবং যারা আসছে তাদের হোম অথবা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন করা হবে।তার জন্য আগে থেকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে সাতক্ষীরা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ভবন।

সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর ইমিগ্রেশনের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিশ্বজিত সরকার বলেন,গত ২৪ মার্চ থেকে ভারত সরকার সমস্ত ভারতবর্ষ ২১ দিনের লোকড ডাউন ঘোষনা করার পর থেকে সেদেশে আর কোন পাসপোর্ট যাত্রীকে গ্রহন করছেনা কিন্তু ভারতে যারা অবস্থান করছে তারা যথারীতি আসতে পারছে।
অপরদিকে,ভারতীয় ইমিগ্রেশন কোন ভাবেই কোন পাসপোর্ট যাত্রীকে ঢুকতে দিচ্ছেনা।
প্রতিদিন যত যাত্রী আসছে এই বন্দর দিয়ে তাদের তালিকা স্থানীয় থানায় পাঠিয়ে দিচ্ছি এবং তাদের শরীরে হোম কোয়ারেন্টাইনের সীল মেরে দেওয়া হচ্ছে।যাতে তারা ১৪ দিন বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকে।

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহবায়ক অধ্যক্ষ মো.আনিসুর রহিম বলেন,যারা ভারত থেকে বাংলাদেশে যারা প্রবেশ করবে তাদরকে বাড়িতপ না পাঠিয়ে প্রশাসনের সহায়তায় ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইন করে তারপর ছেড়ে দেওয়া তা না হলে বড় বিপদ হতে পারে আমাদের জন্য, দেশের জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *