ভারতের জেলে পুলিশের গুলিতে নিহত সন্তানের লাশ চান মা মাফুজা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার ছেলে নভেল করোনাভাইরাস আতঙ্কে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দমদম সেন্ট্রাল জেলে বন্দি ও পুলিশের সংঘর্ষে নিহত হন মামুন হোসেন (২৯)নামে এক যুবক। মামুনের মৃত্যতে তার মা মাফুজা খাতুনের আহাজারি থামছেই না। সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার সন্ন্যাসখোলা গ্রামের মানুষ এই হত্যার বিচার এবং দ্রুত মায়ের কাছে মামুনের লাশ ফেরত দেয়ার দাবি জানিয়েছে।

ভারতের গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে মামুনের পরিবার জানায়, শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার দমদম সেন্ট্রাল জেলে করোনার কারণে বন্দি মুক্তির খবরে তালিকা নিয়ে কারা পুলিশের সঙ্গে বাদানুবাদের একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় সাতক্ষীরার মামুন হোসেন।

মামুনের মা মাফুজা খাতুন জানান, ১৯৯১ সালে সাতক্ষীরা জেলার সীমান্ত উপজেলা দেবহাটায় জন্মের চার মাসের মাথায় ট্রাকের চাপায় মামুনের বাবা দিনমজুর কাশেম গাজী নিহত হন।
সে ঘটনায় বিচার পাননি তিনি। এরপর লোকের বাড়িতে, রাস্তাঘাটে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালিয়েছেন তিনি। ছেলেও বেশিদূর লেখাপড়া করাতে পারেননি। ছেলেকে নিয়ে বিভিন্ন ইটের ভাটাতে কাজ করেছেন। সাত বছর আগে ভারতে ইটের ভাটায় কাজের সন্ধানে যান মামুন। সেখানে একটি মোবাইল চুরির ঘটনায় পুলিশ মামুনকে সন্দেহজনকভাবে ধরে নিয়ে যায়।
তিন বছর ধরে মামলাটি চলছে। কিন্তু মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়ায় এবং মামলা চালিয়ে নেয়ার মতো কেউ না থাকায় তিন বছর বন্দি থাকতে হয়েছিল মামুনকে। জামিনের জন্য অনেকবার ভিসা করে ভারতে গেছেন মা মাফুজা।
মাফুজা আরো বলেন, ‘ছেলে মামুন বারবার বলেছে মাগো আমাকে মুক্ত করে নিয়ে যাও। সামান্য মোবাইল চুরির সন্দেহভাজন আসামির এতোদিন জেল হতে পারে না। ভালো উকিল ধরো।’
‘মাসজুড়ে দিনমজুরির হাড়ভাঙা পরিশ্রমে যে আয় করেছি সব টাকা বসিরহাটের হান্নান ও পাপ্পু উকিলের হাতে দিয়েছি। শুধু বলতো সামনের মাসে জামিন হবে। কিন্তু জামিন করাতো না।’
এরই মধ্যে বৈশ্বিক মহামারী করোনার আতঙ্কে দমদম সেন্ট্রাল জেলে বন্দি-পুলিশের সংঘর্ষে নিহত হয় মামুন।

সন্ন্যাসখোলা গ্রামের রায়হান মাহমুদ জানান, মামুনের এলাকার সাধারণ মানুষ এই নৃশংস হত্যার বিচার ও মামুনের লাশ দ্রুত দেশে (মায়ের কাছে) ফিরিয়ে দেয়ার জন্য দাবি জানাচ্ছে।

মামুনের মামা মকবুল হোসেন বলেন, মামুনের বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে পরিবারটি খুব অসহায়। তিনি নিজে ভাঙা প্লাস্টিক কুড়ানোর কাজ করেন। তাদের এ দুনিয়ায় দেখার মতো কেউ নেই সরকার যেন তাদের সন্তানের লাশটি দেখার ব্যবস্থা করে দেয় তার জন্য অনুরোধ করেন।

সাতক্ষীরা-৩৩ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মহিউদ্দীন খন্দকার বলেন, সীমান্তে মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে বিজিবি ও বিএসএফ পর্যায়ে সমাঝোতার মাধ্যমে লাশ পাওয়া যায়। কিন্তু মামুনের ঘটনাটি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বিষয়।

মানবাধিকারকর্মী মাধব দত্ত বলেন, কারা অভ্যন্তরে এমন মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। যেখানে মানুষের জীবনের নিশ্চিত নিরাপদ হবে। সেখানে এমন গুলি করে হত্যার ঘটনা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। সুতরাং ঘটনাটির আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তদন্ত ও বিচার দাবি জানাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *