খাদ্যের ডিজির সিলগালা ভেঙে গোপনে গুদামে ঢুকে ধরা পরিদর্শক

খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের লাগানো সিল ভেঙে গুদামের ভেতরে প্রবেশ করে গোপন কাজ করার সময় হাতেনাতে ধরা খেলেন ভৈরব খাদ্য গুদামের পরিদর্শক কামরুল হাসানসহ ১১ শ্রমিক। পরে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী অফিসার লুবনা ফারজানা গুদামে উপস্থিত হয়ে তাদেরকে আটক করেন।

এসময় খাদ্য বিভাগের কিশোরগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তানভির হোসেন উপস্থিত ছিলেন। রোববার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর লেবারদের ঠিকাদার ফারদুল্লাহকেও আটক করেছে পুলিশ।
আটক শ্রমিকরা হলেন, গুদামের সরদার আবদুস সালাম, শ্রমিক আঃ হান্নান, ফরিদ মিয়া, সোহরাব হোসেন, তাজুল ইসলাম, মিটন, মন মিয়া, লোকমান হোসেন, বরজু মিয়া ও রউফ মিয়া। তাদেরকে আটক করার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুনরায় গুদামটি সিলগালা করে দেন।

ঘটনার খবর পেয়ে রাত ৭টায় ঢাকার আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক তপন কুমার দাস ঢাকা থেকে ভৈরবে রাওয়ানা হয়েছেন বলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তানভির হোসেন জানান। রাত ৮টা পর্যন্ত আটকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে পুলিশ হেফাজতে ছিল। পরে থানায় নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এর আগে গতকাল শনিবার বিকেলে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. সারোয়ার মাহমুদ ভৈরব খাদ্য গুদাম পরিদর্শনে আসেন। এসময় তিনি ২ ও ৩ নম্বর গুদামে চালের মজুত কম সন্দেহ করে গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও পরিদর্শক কামরুল হাসানকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। এছাড়াও এদিন তিনি পাশের একটি রাইস মিলের গেট গুদামের সঙ্গে খোলা দেখতে পান। এসব দেখার পর তিনি ২ ও ৩ নম্বর গুদাম সিলগালা করে ঢাকায় চলে যান। পরে তিনি ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে নির্দেশ দেন গুদামের সঙ্গে রাইস মিলের সংযোগ ইটের দেয়াল দিয়ে বন্ধ করে দিতে। তার নির্দেশ পেয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তানভির হোসেন রোববার দুপুরে ভৈরব গুদামে এসে রাইস মিলের সংযোগ দেয়ার ব্যবস্থা করেন। এসময় হঠাৎ তিনি দেখতে পান সিলগালা করা ৩ নম্বর গুদামটির দরজা খোলা এবং গুদামের ভেতর ঠিকাদাররের শ্রমিকরা বস্তার খামাল নাড়াচারা করছে। তৎক্ষণাৎ তিনি পরিদর্শককে ঘটনা জিজ্ঞাসা করলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে তিনি তখনই ঢাকায় মহাপরিচালককে মোবাইলে ঘটনা অবহিত করেন। পরে মহাপরিচালকের নির্দেশে তিনি ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেট লুবনা ফারজানাকে ঘটনাস্থলে যেতে অনুরোধ করেন।

খবর পেয়ে ই্উএনও ঘটনাস্থলে এসে ঘটনা অবহিত হয়ে ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা ও পরিদর্শকসহ ১১ শ্রমিককে আটক করেন। খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা সন্দেহ করছে গুদামে খাতাপত্র অনুযায়ী খাদ্য মজুত কম থাকতে পারে। এ কারণে তারা গোপনে সিলগালা ভেঙে কাজটি করছিল।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. তানভির হোসেন জানান, মহাপরিচালকের দেয়া সিলগালা ভেঙে বড় ধরনের অপরাধ করেছেন ভৈরব খাদ্য গুদামের পরিদর্শক কামরুল হাসান। ঠিক কি কারণে তিনি সিল ভেঙে তিনি সেটার সদুত্তর দিতে পারেননি। গুদামে মজুতকৃত চাল কম রয়েছে কিনা, প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি বিষয়টি দেখবেন বলে জানান তিনি।

ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা জানান, ঘটনার খবর পেয়ে গুদামে গিয়ে ২ নম্বর গুদামের সিলগালা ভাঙা পাওয়া গেছে এবং শ্রমিকরা গুদামের ভেতর কাজ করছিল। মহাপরিচালকের সিলগালা খাদ্য গুদামের পরিদর্শক অনুমতি ছাড়া ভাঙতে পারেন না। এ কারণে পরিদর্শকসহ ১১ শ্রমিককে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে খাদ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ব্যবস্থা নেবেন।
copy জাগো নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *