সাতক্ষীরা কলারোয়ার চুমকি অনুর্ধ-১৪ প্রমিলা ফুটবল দলে ডাক পেয়েছেন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরা কলারোয়ার কিশোরী সুমাইয়া আক্তার চুমকি (অনুর্ধ-১৪) বাংলাদেশ জাতীয় প্রমিলা ফুটবল দলে ডাক পেয়েছেন।চুমকি কলারোয়া উপজেলার কয়লা গ্রামের আব্দুল মাজেদ গাজীর মেয়ে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রমিলা কিশোরী ফুটবল দলের অন্যতম এই স্ট্রাইকার কলারোয়ার কয়লা হাইস্কুল থেকে ৮ম শ্রেণী পেরিয়েছে। এরইমধ্যে চলতি বছর বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি জাতীয় ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘বিকেএসপি’তে চান্স পেয়েছেন চুমকি।

সুমাইয়া আক্তার চুমকি সরকারিভাবে চলতি বছরের ১৫-২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিকেএসপি’তে ফুটবল ট্রেনিং করেছেন।
এরআগে, ইউনিসেফের অর্থায়নে ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) উদ্যোগে ২০১৯ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে যশোরে ২ মাসের ফুটবল প্রশিক্ষণ ক্যাম্প অংশ নেন চুমকি। বিভিন্ন পুরস্কারও লাভ করেছেন তিঁনি।
চুমকির পিতা স্থানীয় ক্ষুদ্র কুঠিরশিল্প ব্যবসায়ী। সংসারে অভাব-অনাটন থাকলেও মেয়ের ফুটবল খেলার প্রতিভাকে উৎসাহ যোগাতে ভুল করেন নি চুমকির বাবা-মা। চুমকির ছোট ভাই ৫ম শ্রেণীতে পড়ে। সাংসারিক ও পারিপার্শ্বিক চড়াইউৎরাই পেরিয়ে চুমকি চলেছে সম্ভাবনার পথে।

চুমকি জানান,ছোট বেলা থেকেই ফুটবল খেলার প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিলো। ফুটবলের সেই আকর্ষণে বাঁধাবিপত্তি পেরিয়ে সঙ্গী করেছেন ফুটবলকেই। সর্বপ্রথম কয়লা প্রাইমারি স্কুলে ক্লাস থ্রী’তে পড়ার সময় আন্ত: উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে কলারোয়ার মাঠে জয়ী হয় তার দল। পরবর্তীতে সাতক্ষীরা জেলা পর্যায়ে জয়ী হয়ে খুলনাতে বিভাগীয় পর্যায়ে অংশ নেন তিঁনি। প্রতিটি ম্যাচে তিনি উজ্জ্বল ও নৈপুণ্য খেলোয়াড়ী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। মূলত ওই টুর্নামেন্টের পর থেকে আর ফুটবল খেলা ছাড়েনি চুমকি। নিজের অনুশীলন, সীমাহীন ধৈর্য আর পরিবারসহ কয়েকজন শুভাকাঙ্খীর অনুপ্রেরণায় মেয়ে হয়েও ফুটবল খেলা ধরে রেখেছেন।’

চুমকি আরও বলেন- ‘তাঁর কোচিং গুরু সাতক্ষীরার আরিফুজ্জামান প্রিন্স। প্রিন্স ভাই ও কলারোয়া ফুটবল একাডেমির সায়েদ আলি তাকে (চুমকি) বুট ও অন্যান্য ফুটবল খেলার সামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করে থাকেন।কলারোয়া ফুটবল একাডেমির তত্বাবধায়নে ছেলেদের সাথেই প্রতিদিন বিকেলে ফুটবল খেলা করি। ছেলে খেলোয়াড়রাও আমাকে সহযোগিতা করেন।

কলারোয়া ফ্রেন্ডস স্পোর্টিং ক্লাবের ক্রীড়া সম্পাদক রেজাউল করিম লাভলু বলেন- ‘চুমকির ফুটবল খেলা দেখলে বোঝা যায় ওর পায়ে জাদু আছে। সরকারি ও স্থানীয়দের সার্বিক সহযোগিতা পেলে চুমকি একদিন দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।’

সাতক্ষীরা জেলা ফুটবল রেফারী এসোসিয়েশনের কার্যকরী সদস্য ও কলারোয়ার বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক মিয়া ফারুক হোসেন স্বপন বলেন- ‘চুমকির পায়ের নৈপুণ্য নিশ্চিত প্রতিভার স্বাক্ষর রাখে। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে জাতীয় পর্যায়ে পৌছানো চুমকির জন্য দোয়া কামনা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *