ঠাকুরগাঁওয়ে বিরল প্রজাতির ১১টি শকুন উদ্ধার!

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁও সহ বিভিন্ন স্থান থেকে বিরল প্রজাতির ১১টি শকুন উদ্ধার করা হয়েছে। প্রকৃতির ঝাড়–দার হিসেবে পরিচিত বিলুপ্ত প্রায় এই পাখি গুলো কে রাখা হয়েছে দিনাজপুরে বীরগঞ্জ উপজেলার জাতীয় উদ্যান সিংড়া ফরেস্টের শকুন উদ্ধার ও পরিচর্যা কেন্দ্রে ।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা শকুনকে সুস্থ করার জন্য দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় জাতীয় উদ্যান সিংড়া ফরেস্টে গড়ে তোলা হয়েছে একমাত্র এই পরিচর্যা কেন্দ্রটি । চার বছর আগে বাংলাদেশ বন বিভাগ ও আইইউসিএনের উদ্যোগে চালু করা হয় শকুন উদ্ধার ও পরিচর্যা কেন্দ্র । এখানে দীর্ঘ পরিচর্যায় সুস্থ করার পর সময় মত তাদের প্রকৃতিতে ছেড়ে দেয়া হয় ।
ঠাকুরগাঁও বনবিভাগের কর্মকর্তা ( রেঞ্জার) হরিপদ দেবনাথ জানান, শীত মৌসুমে অন্যদেশ থেকে আসা ক্লান্ত ১১টি শকুনকে বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় ।আগের বছরের রয়েছে ১টি শকুন । তাদের পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে সুস্থ করে তোলা হয়েছে ।
পরিবেশের পরম বন্ধু খাচায় রাখা এই পাখিগুলোকে আগামী মাসে আনুষ্ঠানিকভাকে অবমুক্ত করা হবে জানায় বনবিভাগ। পরিচর্যা কেন্দ্রের কর্মী বেলাল হোসেন বলেন এই পাখি দেখতে দুর-দুরান্ত থেকে শতশত দশর্নাথী ভীড় করে । রোববার রংপুর থেকে আসা দশম শ্রেণীর ছাত্রী সিনথিয়া বলে সে নেটে-মুিভতে দেখেছে প্রায় বিলুপ্ত এই পাখি গুলোকে ।বাস্তবে এক নজর দেখে সে বলে উঠে এগুলোকে সংরক্ষণ না করা গেলে ডাইনোসরের মত শকুনও পৃথিবী থেকে এক সময় হারিয়ে যাবে । এমন মন্তব্য অনেকের ।
জেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা মো. আলতাফ হোসেন বলেন, এক সময় রংপুর বিভাগের ঠাকুরগাঁও সহ পাশ^বর্তী জেলায় অনেক শকুন দেখা যেতো । কিন্তু কালের পরিক্রমায় তা এখন বিলুপ্তির পথে ।তিনি জানান, সারা বিশ্বে প্রায় ২৩ প্রজাতির শকুন দেখা যায়। এর মধ্যে ৬ প্রজাতির শকুন আমাদের দেশে রয়েছে। ৪ প্রজাতি স্থায়ী আর ২ প্রজাতি পরিযায়ী।বাংলা শকুন ছাড়াও আছে রাজ শকুন, গ্রীফন শকুন বা ইউরেশীয় শকুন, হিমালয়ী শকুন, সরঠোঁট শকুন, কালা শকুন ও ধলা শকুন।দেশে তিন প্রজাতির শকুন স্থায়ীভাবে বসবাস করত। এর মধ্যে এক প্রজাতি ইতোমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বিলুপ্তির পথে দেশি প্রজাতির বাংলা শকুনও। শকুন অধিকাংশই বিপন্ন প্রায়।
দিনাজপুরে বীরগঞ্জ উপজেলার জাতীয় উদ্যান সিংড়া ফরেস্টের শকুন উদ্ধার ও পরিচর্যা কেন্দ্রে থেকে এপর্যন্ত ৫০টির বেশী শকুন অবমুক্ত করা হয়েছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *