ধুনটে ধর্ষন মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান ও ধর্ষকের বাবা কারাগারে

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার ধুনটে ধর্ষিতা এক কিশোরীর সন্তান প্রসবের ঘটনার দশ মাস পর থানায় দায়েরকৃত মামলায় এক ইউপি চেয়ারম্যান ও ধর্ষকের বাবাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো-উপজেলার নিমগাছী ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আজাহার আলী পাইকার (৬০) ও ধর্ষকের বাবা বেড়েরবাড়ী পাইকার পাড়া এলাকার তছলিম উদ্দিনের ছেলে ফজলুল বারী (৫০)। মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের বগুড়ার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরন করা হয়েছে।
জানাগেছে, গত ১৫ মে উপজেলার নিমগাছী ইউনিয়নের বেড়েরবাড়ি এলাকার ফজলুল বারীর ছেলে মেহেদী হাসান (১৮) তার প্রতিবেশি এক কিশোরীকে (১৬) তার বাড়িতে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এরপর ভয়ভীতি ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই কিশোরী মেয়েকে আরো কয়েক দফা ধর্ষন করে মেহেদী হাসান। একপর্যায়ে মেয়েটি অন্তসত্বা হলে পড়লে ওই ধর্ষিতার পরিবার নিমগাছী ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় মাতব্বরদের কাছে বিচারের দাবি করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও কোন বিচার না করে ইউপি চেয়ারম্যান আজাহার আলী ও ধর্ষকের বাবা ফজলুল বারী ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এমনকি তারা ওই ধর্ষিতার পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আইনের আশ্রয় নিতেও বাধা দেন। এঅবস্থায় গত ১৯ ফ্রেব্রুয়ারী ওই কিশোরী তার বাড়িতে এক কণ্যা সন্তানের জন্ম দেন। এদিকে কিশোরী নারী সন্তান জন্ম দেয়ার ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে নিরুপায় হয়ে সোমবার দুপুরে নবজাতক কণ্যা সন্তানকে কোলে নিয়ে ধর্ষিতা কিশোরি ও তার মা বিচারের দাবিতে থানায় হাজির হন। পরে ওই কিশোরী বাদী হয়ে ধর্ষক মেহেদী হাসান, তার বাবা ফজলুল বারী ও নিমগাছী ইউপি চেয়ারম্যান আজাহার আলী পাইকারের নাম উল্লেখ করে ধুনট থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে সোমবার রাতে ধর্ষকের বাবা ফজলুল বারী ও ইউপি চেয়ারম্যান আজাহার আলীকে গ্রেফতার করেন।
তবে নিমগাছী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাহার আলী পাইকার বলেন, বাচ্চা জন্ম হওয়ার দুইদিন আগে ধর্ষনের ঘটনা জানতে পেরেছি। তাই তাদেরকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। কিন্তু তারপরও আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।
ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, ধর্ষন মামলা ইউপি চেয়ারম্যান ও ধর্ষকের বাবাকে গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরন করা হয়েছে। এছাড়া নবজাতক শিশু ও কিশোরীকে ডাক্তারী পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তাদের পরিবারকে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *