মহাদেবপুরে লক্ষ্যমাত্রার অধিক জমিতে গম চাষ

মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর অন্যতম খাদ্য ভান্ডার মহাদেবপুর উপজেলায় কৃষি ব্যবস্থায় ঘটছে পরিবর্তন। উন্নত জাত এবং অর্থকরী স্বল্প সময়ের ফসলের প্রতি ঝুঁকছেন কৃষকরা। অন্যদিকে কম মুনাফা ও ঝামেলা যুক্ত ফসলের চাষ পাচ্ছে হ্রাস। এ বছর রেকর্ড পরিমান জমিতে উন্নত জাতের গম চাষ করছেন কৃষি যোদ্ধাগণ। গত কয়েক বছর যাবত বাম্পার ফলন ও অধিক লাভজনক ফসল হওয়ায় সচেতন কৃষকরা “বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট” উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের গম চাষে ঝুঁকছেন। কম সেচে অধিক ফসল উৎপাদনসহ রোগ-বালাইয়ের আক্রমন কম হওয়ায় গম চাষে উৎপাদন ব্যয় কম। পাশাপাশি ধানের সাথে তুলনামূলকভাবে গমের দামও ভাল। ফলে কৃষক কম খরচে অধিক আয়ের লক্ষে গম আবাদে ঝুঁকছেন বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল। বোরো ধানের চেয়ে গম চাষে রাসয়নিক সারের ব্যবহারও কম। ফলে কৃষকের বিনিয়োগ কম; আয় বেশী। বারি-১৪, ২৫, ২৬, ২৮, ২৯, প্রদীপ, বিজয় ও শতাব্দী জাতের গমে পোকার আক্রমণ কম হয়। আর তুলনামূলকভাবে অন্য জাতের গমের চেয়ে এসব জাতের চাষে উৎপাদন ব্যয় কম। ফলে কৃষকরা এসব জাতের গম চাষ করে বেশি লাভবান হচ্ছেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে এবার ৫০০ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কৃষকরা ৬৮০ হেক্টর জমিতে গম চাষ করেছেন। উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের কৃষক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় এবার দুই বিঘা জমিতে গম আবাদ করেছি। কৃষি অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচর্যা করছি।’ একই গ্রামের কৃষক সুজন বলেন, ‘প্রতিবছরের মতো এবারো ৪ বিঘা জমিতে গম চাষ করেছি। আশা করছি বাম্পার ফলন হবে।’ এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অরুন চন্দ্র রায় বলেন, কৃষকরা যেন গম চাষে কোন প্রকার সমস্যায় না পড়েন এ জন্য আমরা সর্বাক্ষণিক নজর রাখছি। কৃষি বিভাগ কৃষকদের পাশে থেকে নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *