বগুড়ায় মায়ের বুকে তামিম

বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ায় মায়ের বুকে ফিরেছেন বিশ্বকাপ জয়ী বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের তানজিদ হাসান তামিম । গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বগুড়া পৌছলে শহরের দ্বার প্রান্তে এবং শহরের প্রানকেন্দ্র সাতমাথায় হৃদয় ও তামিমকে ফুল দিয়ে প্রাথমিক ভাবে সংবর্ধনা দিয়েছে বগুড়াবাসী।
অনিবার্য কারন বস্বত আনুষ্ঠানিক ভাবে তাদের বড় ধরনের সংবর্ধনা না দেয়া হলেও ক্রিকেট ভক্ত ও তার অনুরাগী সঙ্গী সাথীরা মোড়ে মোড়ে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে ভোলেনি। বেলা সাড়ে ১১টার সময় বগুড়ায় পৌছলেও মায়ের বুকে ফিরতে এই তরুন ক্রিকেটারের সময় লাগে আরো ঘন্টা খানেক । এদিকে ছেলে তামিমের অপেক্ষায় মা রেহেনা বেগম বার বার অপেক্ষমান সংবাদ কর্মীদের বলতে থাকেন আপনারা তামিমকে কোথায় রেখে এলেন?
বিসিবির মাইক্রোবাসে আসা সংগী হৃদয়কে তার গ্রামের বাড়ীতে পাঠিয়ে এক সময় বাড়ীতে আসেন তামিম। এসময় ছয়তলা ভবনের সামনে জটলা করা সূমন সজিবদের অপেক্ষার পালাও যেন শেষ হচ্ছিলনা। এক সময় সত্যই পৌছলেন তামিম। সঙ্গী সাথী খেলার বন্ধদের বরন পর্ব শেষ করে তামিমের ছুট ময়ের বুকে। শহরের শেউজগাড়ী এলাকার কারমাইকেল রোডের একটি ছয়তলা ভবনের ফ্লাটে মা বাবার সাথে থাকতেন তামিম। বোন তনির বিয়ে হয়ে গেছে আগেই । বাবা তোফাজ্জল হোসেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসাবে কর্মরত।
ছেলে বাংলাদেশ অনুর্ধ-১৯ দলে সুযোগ পেয়ে চলে যাবার পরেই বাসায় মাকে ছেলের পথ চেয়ে বসে থাকতে হয় । সেই ছেলে বিজয়ীর বেশে এতদিন পরে ফিরছে এসময় সময টুকু যেন মায়ের সহ্য হচ্ছিলনা ।
শিড়ি মারিয়ে দরজায় পৌছতেই ছেলেকে দেখে কেঁদে ফেললেন মা। বুকে জরিয়ে টেনে নিয়ে গেলেন ভেতরে । পেছনে সংবাদ কর্মীদের একটি দল । সেদিকে যেন কোন খেয়াল নেই তার । ছেলেকে বুকে নেবার সুযোগটা যেন হাত ছাড়া করছিলেননা মা রেহেনা বেগম। এ যেন এক অভুতপূর্ব দৃশ্য।
বাবা তোফাজ্জল হোসেন জরুরী কাজে বাহিরে ছিলেন। একসময় সংবাদ কর্মীদের কাছে রেহেনা বেগম তার অভিব্যাক্তি ব্যাক্ত করলেন । রেহেনা বেগম বলেন, ছেলের সফলতায় কোন মায়ের ভাল না লাগে , সেটা যদি হয় দেশের জন্য ? তিনি কান্না জরিয়ে মুখে বললেন , তার বিশ্বাস ছিল ক্রিকেট পাগল তামিম একদিন কিছু করবেই । আজ তার সে আশা সত্য হয়েছে। তিনি বলেন , তামিম আজ শুধু তার একার ছেলে নয় ,গোটা বাংলাদেশের সন্তান । তিনি দেশ বাসীর কাছে ছেলের জন্য দোয়া চান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *