ঘটনার ৭দিন পর মামলা ঃ আসামীরা অধরা বগুড়ার শিবগঞ্জে দপ্তরীকর্তৃক স্কুল ছাত্রী ধর্ষিতা

বগুড়া প্রতিনিধি।।
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক কানতারা পল্লীর চিলইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সুমাইয়া (১২) নামে পঞ্চম শ্রেনীর এক ছাত্রী নিজ বিদ্যালয়ের দপ্তরী হিমেলের দ্বারা ধর্ষিতা হয়েছে । প্রভাবশালীদের চাপ ও তদ্বিরে এই ধর্ষন ঘটনার এক সপ্তাহ পরে শিবগঞ্জ থানায় মামলা হলেও ধর্ষক হিমেল এবং ঘটনা ধামাচাপা দেবার চেষ্টাকারীরা এখনও গ্রেফতার হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ধর্ষিতার মা জোসনা বেগম।

শিবগঞ্জ থানায় দায়ের করা মামলা সুত্রে তথ্য নিয়ে জানা যায় , উপজেলার কিচক চিলইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী ও কানতারা গ্রামের আজম আলী ফকিরের ছেলে হিমেল (২২) স্বভাবে বখাটে প্রকৃতির হওযায় সে স্কুলের কন্যা শিশুদের নানাভাবে উত্যক্ত করতো। এরই অংশ হিসেবে ধর্ষিতা সুমাইয়াকেও সে প্রায়ই উত্যক্ত করে আসছিল ।
বিষয়টি জানতে পেরে সুমাইয়ার বাবা রুবেল ও মা’ জোসনা বেগম বিয়য়টি হিমেলের অভিভাবকদের জানায় । এতে ক্ষিপ্ত হয় হিমেল । গত ২২ জানুয়ারী দুপুরে স্কুল ছুটির সময় হিমেল সুমাইয়ার স্কুল ব্যাগ কেড়ে নিয়ে রাখে । এর ফলে স্কুল থেকে ফিরতে বিলম্ব হওয়ায় শিক্ষক সহ ছাত্র/ছাত্রী সবাই বাড়ি চলে গেলে হিমেল ফাঁকা হয়ে যাওয়া স্কুলের একটি শ্রেনী কক্ষে ঢুঁকে পড়ে । সরল মনে ব্রাগ নিতে সুমাইয়াও ওই কক্ষে প্রবেশ করলে শ্রেনী কক্ষের দরজা জানালা বন্ধ করে সুমাইয়াকে ধর্ষন করে ।
এদিকে মেয়ের বাড়ি ফিরতে দেরি দেখে সুমাইয়ার মা’ জোসনা বেগম মেয়ের সন্ধানে স্কুলে গিয়ে একটি কক্ষে কান্নার শব্দ শুনে ওই কক্ষের দরজায় ধাক্কা ধাক্কি করতে থাকলে বিপদ বুঝে হিমেল দরজা খুলেই দৌড়ে পালায় ।
পরে উলঙ্গ অবস্থায় মেয়েকে দেখতে পেয়ে তার কাছ থেকে পুরো ঘটনা শুনে জোসনা বেগম ও তার স্বামী রুবেল স্থানীয় মহিলা ইউপি মেম্বার কোহিনুরের কাছে বিচারের জন্য যায় । কোহিনুরের পরামর্শে এরপর সাবেক মেম্বার জামিলা খাতুনের কাছে যায় । জামিলা এবং এলাকার প্রভবশালী ও তদ্বীব কারী যুবক রনী এরপর বিভিন্ন অজুহাতে ধর্ষিতা সুমাইয়া ও তার মাকে নিয়ে এখানে সেখানে ঘোরা ফেরার মাধ্যমে সময় ক্ষেপন করতে থাকে।এমনকি মামলার আসামীদের একজন ধর্ষনের আলামত নষ্ট করতে ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রীর পরনের পায়জামা কাপড় পুড়িয়ে ফেলে তারা।

পরে বিষয়টি একটি মানবাধিকার সংস্থার নিকটে উপস্থাপন করা হলে তাদের সহায়তায় ৩০ জানুয়ারী শিবগঞ্জ থানায় মামলা করে জোসনা বেগম। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর সানোয়ার হোসেন জানান, উল্লেখিত ঘটনার মুল আসামী ধর্ষক হিমেল এবং তাকে রক্ষায় সহায়তাকারী হিসেবে আরও ৪ জনকে আসামী করা হয়েছে । প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষনের আলমত মিলেছে পুলিশ। আদালতে ধর্ষিতার ছাত্রীর জবানবন্দি ও তার ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্য হয়েছে।
এদিকে ৫ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত এই ঘটনায় হিমেল সহ কেউই গ্রেফতার না হওয়ায় হতাশা বোধ করছে ধর্ষিতা সুমাইয়ার পরিবার । অন্যদিেেক অব্যাহত ভাবে হুমকী ধামকীর কারনে ধর্ষিতা ছাত্রীর পরিবার এখন নিরাপত্তাহীণ ভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে ।তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন বলেছেন আসামীরা ছাড় পাবেনা তাদেরকে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাবে পুলিশ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *