সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প ধীরগতি

হাসান চৌধুরী: সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের শিয়ালকোলে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে গড়িমসি ও ধীরগতির অভিযোগ করেছেন সিরাজগঞ্জ-২(সদর আংশিক-কামারখন্দ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না। প্রায় ৮৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে মির্মাণাধীন এ হাসপাতালের আসবাবপত্র ও ডাক্তারী সরঞ্জাম ক্রয়ে নানাবিধ অনিয়ম,দূর্ণীতি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট সময়ে সরবরাহ দিতে গড়িমসি ও প্রকল্প পরিচালকের যোগসাজশের ঘটনায় সম্প্রতি এ প্রকল্পের পরিচালক ডা.কৃষ্ণ কুমার পালকে দফায় দফায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তলবের বিষয় নিয়েও তিনি কঠোর সমালোচনা করেন।
গত শুক্রবার সকালে এ মেডিকেল কলেজের শিয়ালকোলের নিজস্ব ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ কলেজের ষষ্ঠতম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পরিচিতি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দানকালে উপস্থিত সবার সামনেই তিনি এসব অভিযোগ করে বক্তব্য রাখেন। এ সময় এ কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নজরুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক ডা.কৃষ্ণ কুমার পাল,সিরাজগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা.জাহিদুল ইসলাম,সিরাজগঞ্জ জেলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এবিএম হুমায়ুন কবির,সিরাজগঞ্জ জেলা চেম্বার অফ কমার্সের প্রেসিডেন্ট আবু ইউসুফ সূর্য,সিরাজগঞ্জ পৌর সভার ১নং প্যানেল মেয়র হেলাল উদ্দিন এ সময় সেখানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। এদিকে এ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ভবনসহ প্রকল্পের অন্যান্য চলমান কাজ পুরোপুরি বাস্তবায়নের আগেই গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কর্তৃক ২০১৯-২০ অর্থবছরে বরাদ্দকৃত প্রায় ৭১ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। এ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা গুঞ্জন ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হাসানুজ্জামান রেজা তার বক্তব্যে বলেন,এত বড় প্রকল্প,তাই বাস্তবায়নে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময়ের প্রয়োজন রয়েছে। এ ছাড়া বালু ভরাট কাজের শুরু থেকেই নানা বিড়ম্বনাও রয়েছে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এবিএম হুমায়ুন কবির তার বক্তব্যে বলেন,এ প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয় যে ভাবে ধরা হয়েছে,তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছুটা রদবদল হওয়ায় বরাদ্দেও কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন পড়ে। তাই এ মুহূর্তে যেটি দরকার নেই, তা বরাদ্দ থেকে ফেরত দেওয়া হয়েছে। পরে আবার প্রয়োজন পড়লে তা আবারও বরাদ্দ আকারে চাওয়া হবে।
এ বিষয়ে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের প্রকল্প পরিচালক ডা.কৃষ্ণকান্ত পাল তার বক্তব্যে বলেন, প্রকল্পের প্রায় দেড়‘শ কোটি টাকার মেডিকেল সারঞ্জাম সরবরাহে বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। তাদের কাছে থেকে এ পর্যন্ত এক‘শ কোটি টাকা মূল্যের জিনিসপত্র বুঝে নেওয়া হয়েছে। বাকি জিনিসপত্র আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে তারা সরবরাহ দেবে। দুদক প্রধান কার্যালয় এ বিষয়ে অবগত আছে। ফলে এখানে গড়িমসি ও ধীরগতির কোন ঘটনা ঘটেনি। নিয়মের মধ্যে থেকেই সবকিছু সঠিক ভাবে হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *